E-Paper

নিয়ম মেনে পোষ্যদের খাওয়ান

আদরের পোষ্যকে কী খাওয়াবেন আর কী খাওয়াবেন না, রইল বিশেষজ্ঞের পরামর্শ।

সায়নী ঘটক

শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:৪৩

—প্রতীকী চিত্র।

পোষ্যদের খাবার নির্ভর করে তাদের বয়স, দেহের আয়তন, কতটা পরিশ্রম করে, তার উপরে। কুকুর, বিড়াল কিংবা খরগোশ... পোষ্যকে কোন খাবার কী পরিমাণে কখন দেবেন, হজমের সমস্যা হলেই বা কী করবেন, তা সাধারণত পশুরোগ বিশেষজ্ঞরাই বলে দেন। অনেকেই সুবিধের জন্য নিজেদের বাড়ির খাদ্যাভ্যাসে পোষ্যকে অভ্যস্ত করে ফেলেন। তাতে ক্ষতি নেই, যদি সেই ডায়েট পোষ্যের পুষ্টিগত চাহিদা মেনে তৈরি হয়। ব্যালান্সড ডায়েট প্রত্যেক পোষ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। খাদ্যতালিকা তৈরির সময়ে খেয়াল রাখতে হবে, তাতে যেন সুষম পরিমাণে প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেটস এবং ফল (ভিটামিন ও খনিজ) থাকে।

কুকুর

ব্রিডের ধরন, আয়তন, দেহের ওজন ও কাজ করার ধরন অনুযায়ী কুকুরের ডায়েটের তারতম্য হয়ে থাকে। পশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গৌতম মুখোপাধ্যায় জানালেন, গ্রেট ডেন বা ম্যাস্টিফের মতো বড় আকারের কুকুর যে খাবার যতটা পরিমাণে খাবে, পমেরিয়ান বা পাগ তা খাবে না। আবার যে কুকুর ডগ শোয়ে যায়, কিংবা ব্রিডিংয়ের জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি করানো হয়, অথবা পুলিশ বা গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে কাজ করে, তাদের খাবার পরিমাণ ও প্রয়োজনীয়তাও আলাদা।

প্রোটিন যেমন পেশি, বিভিন্ন অরগ্যান ও টিসু তৈরি ও তার পুনর্নির্মাণে সাহায্য করে। তার জন্য নিয়মিত খাদ্যতালিকায় চিকেন, মাটন, মাছ, ডিম এবং দই বা চিজ় রাখতে হবে। ফ্যাটও পরিমাণ মতো খাওয়া দরকার, তাতে ত্বক ভাল থাকে। ভিটামিন ও ওমেগা থ্রি জাতীয় খাবার রাখতেই হবে ডায়েটে।

কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার এনার্জির জোগান দেয়, সহজপাচ্যও বটে। ভাত, ওটস, আলু, গাজর, বিনস, দেওয়া যেতে পারে নিয়মিত। ফল হিসেবে আপেল, কলা, পাকা পেঁপে, শসা দেওয়া যায়। যাঁদের বাড়িতে আমিষ খাওয়ার চল নেই, তাঁরা দই, পনির বা ছানা, সয়াবিন ইত্যাদি দিতে পারেন। তার সঙ্গে ফল দিতে হবে।

  • ক্ষতিকর খাবার: চকলেট, আঙুর, পেঁয়াজ, রসুন, কিশমিশ ইত্যাদি দেওয়া যাবে না কুকুরকে। দুধও সরাসরি না দিয়ে দই দেওয়া ভাল। কোনও বেকারিজাত খাবার দেওয়া উচিত নয়। অর্থাৎ পাউরুটি, কেক চলবে না। মিষ্টি মাঝে মাঝে দেওয়া যেতে পারে। ডগ ট্রিট বা চিউ বোন কুকুরকে দেওয়া যায়। কিন্তু রঙিন খাবার না দেওয়াই ভাল। এই ধরনের খাবার ওদের খেতে ভাল লাগলেও এতে ওজন বেড়ে যায়। তা ছাড়া প্রিজ়ারভেটিভসও থাকে।
  • বাণিজ্যিক ডগ ফুড: এই ধরনের খাবারে সব রকমের উপাদান পরিমাণ মতো থাকে। নানা ব্রিডের নানা বয়সের কুকুরের জন্য আলাদা ধরনের খাবার পাওয়া যায়। কোন খাবার কতটা পরিমাণে দেবেন, তার নির্দেশ প্যাকেটের গায়েই লেখা থাকে। তবে কমার্শিয়াল ডগ ফুডের দাম একটু বেশিই হয়। ডা. মুখোপাধ্যায় বললেন, “আমরা পরামর্শ দিই বাড়ির খাবার আর কমার্শিয়াল ফুড মিশিয়ে খাওয়াতে। যদি সারা দিনে চার বার খায়, তা হলে দু’বার বাড়ির খাবার আর বাকি দু’বার প্যাকেটজাত খাবার খাওয়াতে পারেন।” এতে কুকুর সব রকম খাবারেই অভ্যস্ত হয়ে যায়। কোথাও বেড়াতে গেলে খাওয়াদাওয়া নিয়ে অসুবিধে হয় না। পেট খারাপ হলে দই-ভাত খাওয়ার অভ্যেস থাকলে অসুবিধে হয় না। বমি বা হজমের সমস্যা দেখা দিলে প্রোবায়োটিক জাতীয় খাবার দিতে হবে। সবচেয়ে ভাল, একদিন উপোস করিয়ে রাখলে।

যে সব কুকুর কাজ করে বা আকারে বড় ও পেশিবহুল, যেমন জার্মান শেপার্ড, ল্যাব্রাডর, ডোবারম্যান— এদের বেশি পরিমাণে প্রোটিন, কম কার্বোহাইড্রেট দিতে হয়। না হলে ওজন বেড়ে যাবে। পমেরিয়ান, পাগ, লাসা, শিৎজ়ুর মতো ব্রিডদের এমন ভাবে খাবার দিতে হবে, যাতে লোম পড়া নিয়ন্ত্রণে থাকে। ওমেগা জাতীয় খাবার রাখতে হবে ডায়েটে। ফ্যাটজাতীয় খাবার বেশি খেলে লোম পড়া বেড়ে যেতে পারে। যে সব কুকুর ছোট ফ্ল্যাটে থাকে বা এক্সারসাইজ় কম করে, তাদের মোটা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাদেরও কার্বস কম দিতে হবে।

বিড়াল

সাধারণত প্রোটিন সমৃদ্ধ সুষম খাবার প্রয়োজন বিড়ালের। ১-৪ সপ্তাহের বাচ্চাদের জন্য মায়ের দুধ বা কিটেন ফরমুলা খাওয়ানো যেতে পারে। ৮-১২ সপ্তাহে সিদ্ধ মাছ, ছোট করে কাটা চিকেন, কিটেন ফুড খেতে পারে। ১২ সপ্তাহের পরে তেলাপিয়া মাছ, ছোট মাছ, মাটন, ডিম, ক্যাট ফুড দিতে পারেন। বিড়াল কখনওই একসঙ্গে বেশি খায় না। সারা দিন অল্প করে বারবার খায় এরা।

  • ক্ষতিকর খাবার: চকলেট, পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচা ডিম এই ধরনের খাবার সহ্য হয় না বিড়ালের। অনেক বিড়াল দুধও হজম করতে পারে না।

খরগোশ

প্রধান খাবার হল ঘাস। বিভিন্ন ধরনের ঘাস, পাতা, পালং, কলমি, লেটুস, শাক, ব্রকোলি পাতা, মুলো পাতা, বিটের পাতা দেওয়া যায়। গাজর, আপেল, কলা, পেঁপে ইত্যাদি ফলও দেওয়া পারে। খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত ভাবে দিতে হবে।

  • ক্ষতিকর খাবার: কর্ন, দই, কুকি, পেঁয়াজ, রসুন, রুটি, মুড়ি, আলু, দুধ বাঁধাকপি, ফুলকপি ইত্যাদি খরগোশকে দেওয়া উচিত নয়।

পোষ্যের জন্য একটি পাত্রে সব সময়ে জল রেখে দিতে হবে। দিনে দু’বার পাল্টে দিতে হবে জল। পাত্রটিও নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। নিয়ন্ত্রিত ও সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললে পোষ্য তাতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়বে। তার বাড়বৃদ্ধিও হবে দ্রুত। এর সঙ্গে অত্যন্ত জরুরি পোষ্যের শারীরিক সচলতা। কুকুর থাকলে তাকে নিয়ে নিয়মিত বেরোনো, ছোটানো দরকার। ছাদে কিংবা রাস্তায় কয়েক পাক ঘুরিয়ে আনা, খোলা জায়গায় ছেড়ে দেওয়া ওদের সামগ্রিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজন।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Pet Care Tips Pet Care Food habits

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy