বাঙালি মেয়েদের ফ্যাশনদুরস্ত হয়ে ওঠাতে ঠাকুরবাড়ির অবদান অনস্বীকার্য। পরাধীন ভারতে ব্রিটিশ কায়দায় ছেলেরা যখন ধুতির উপরে কোট পরা শুরু করেছে, ঠিক তখনই ‘বোম্বাই’ থেকে কুঁচি দিয়ে শাড়ি পরা শিখে এলেন জ্ঞানদানন্দিনী দেবী। ‘বোম্বাই’ থেকে আনা বলে তা পরিচিত ছিল ‘বোম্বাই দস্তুর’ নামে। বাংলায় তার নাম হল ‘ঠাকুরবাড়ির শাড়ি।’ তার সঙ্গে ‘শায়া-সেমিজ-ব্লাউজ়-জ্যাকেট’ পরার প্রচলনও তিনিই শুরু করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়, ‘‘বিলিতি দরজীর দোকান থেকে যত সব ছাঁটাকাটা নানা রঙের রেশমের ফালি’’র সঙ্গে ‘‘নেটের টুকরো আর খেলো লেস মিলিয়ে মেয়েদের জামা বানানো হতো।’’ শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে পরা এই জামা বা জ্যাকেটই পরবর্তী সময়ে ব্লাউজ় নামে পরিচিত হয়। 

কালে কালে শাড়ি পরার ধরন ও ব্লাউজ়ের কাটে বদল এসেছে। কিন্তু জ্ঞানদানন্দিনী দেবীর শুরু করা বাঁ দিকে আঁচল দিয়ে শাড়ি পরার ধরন আজও অব্যাহত। তখন বিলিতি ধাঁচে গলাবন্ধ ফুলহাতা ব্লাউজ় পরার চল ছিল। লেসও বসানো হত কাঁধের কাছে বা হাতার শেষে। ক্রমশ ব্লাউজ়ে ঘটি হাতা, ফুলহাতার চল শুরু হল। পরে এল হাই নেক, ভি নেক, এয়ারহস্টেস গলা...

 

টুকটাক টিপ্‌স

এখনকার তালিকায় ব্লাউজ়ের কাট অফুরান। বোটনেক, ক্রপ ব্লাউজ়, স্লিভলেস, ডিপ নেক, চাইনিজ় কলার, কোল্ড শোল্ডার... কত কী! তবে ব্লাউ‌জ়ের কাট বাছার আগে নিজের শারীরিক গঠনেও নজর দিতে হবে।

• ঊর্ধ্বাঙ্গ ভারী হলে বোটনেক পরলে আরও ভারী দেখায়। সে ক্ষেত্রে বোটনেকটা গলার দিকে একটু ছড়িয়ে দিতে হবে।

• হাতে মেদ জমলে স্লিভলেস পরার আগে সাবধান হতে হবে। স্লিভলেস স্লিভের ফাঁক দিয়ে চর্বির স্তর কিন্তু মোটেই দেখতে ভাল লাগে না। সে ক্ষেত্রে কনুই পর্যন্ত হাতাওয়ালা ব্লাউজ় বেছে নিতে পারেন। হাতের মেদ ঢাকতে কোল্ড শোল্ডার ব্লাউজ়ও পরতে পারেন।

• পিঠকাটা ব্লাউজ় পরতে হলে পিঠের কেয়ারিও জরুরি। ট্যান পড়ে যাওয়ার দাগ স্পষ্ট হয়ে পিঠে ধরা দিলে ভাল দেখাবে না। তাই পিঠের ঘষামাজাও মাস্ট লিস্টে ঢুকবে। উৎসবে অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে পিঠে অল্প মেকআপও করে নিতে পারেন। এমন টাইট ব্লাউজ় পরবেন না, যার উপর দিয়ে মেদ চোখে লাগে। সেখানে বরং পিঠের কাট বেশি ডিপ না করাই ভাল।

• ব্লাউজ়ের কাজও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কাঁধের কাছে ভারী কাজ থাকলে শরীরের গড়ন চওড়া দেখায়। তার জায়গায় ছোট ছোট নকশা বেছে নিতে পারেন।

যেমন ব্লাউজ়ই পরুন না কেন, আত্মবিশ্বাসও জরুরি। তবেই সাজ হবে সম্পূর্ণ।

 

তথ্য সহায়তা: ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল, চিত্রা দেব, মডেল: শ্রীময়ী ঘোষ, হিয়া মুখোপাধ্যায়, প্রিয়ঙ্কা মণ্ডল; ছবি: দেবর্ষি সরকার; মেকআপ: মৈনাক দাস, সন্দীপ নিয়োগী (শ্রীময়ী); হেয়ার: অবন্তিকা দাশগুপ্ত (শ্রীময়ী); লোকেশন: ইকোস্পেস (নিউ টাউন), ফ্যাব এক্সপিরিয়েন্স সেন্টার (লাউডন স্ট্রিট); ব্লাউজ়: নকশা, হরিশ মুখার্জি রোড, সায়ন্তী ঘোষ ডিজ়াইনার স্টুডিয়ো; শাড়ি: ফ্যাবইন্ডিয়া, মৃগনয়নী; গয়না: নকশা, মৃগনয়নী, দক্ষিণাপন।