ভারতের প্রসঙ্গ তুলে তেল নিয়ে আমেরিকাকে কটাক্ষ করলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। দাবি, যে রাশিয়ার তেল নিয়ে এত দিন আমেরিকা হুমকি দিয়ে আসছিল ভারতকে, এখন সেই তেলের জন্যই গোটা দুনিয়ার কাছে তাদের ভিক্ষা চাইতে হচ্ছে। ভারতের কাছেও আমেরিকা হাত পাতছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
শুক্রবার গভীর রাতে আরাঘচি সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধ করতে বলে মাসের পর মাস ভারতকে ধমকেছে আমেরিকা। কিন্তু ইরানের সঙ্গে দু’সপ্তাহ যুদ্ধের পরেই ছবিটা বদলে গেল। এখন হোয়াইট হাউস ভারত-সহ গোটা দুনিয়ার কাছে ওই রাশিয়ার তেল কেনার জন্যই ভিক্ষা চাইছে।’’ উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর তেলের বাজারে টান পড়ায় আমেরিকা জানিয়েছিল, রাশিয়ার কাছ থেকে আপাতত তেল কিনতে পারবে ভারত। ৩০ দিনের ‘ছাড়’ দেওয়া হচ্ছে। ৫ মার্চ হোয়াইট হাউসের সেই বিবৃতি নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। ভারত কী করবে, কোথা থেকে তেল কিনবে, সে বিষয়ে আমেরিকার অনুমতির প্রয়োজন হচ্ছে কি না, প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রকে বিঁধেছিল বিরোধীরা।
আরও পড়ুন:
মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট দাবি করেছিলেন, এর ফলে রাশিয়ার খুব বেশি আর্থিক লাভ হবে না। তবে বাস্তবে গত কয়েক দিনে ভারত-সহ একাধিক দেশ তাদের কাছ থেকে তেল কেনায় রাশিয়ার রাজস্ব বাবদ আয় বেড়েছে বলে দাবি করছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। আরাঘচি তেমনই একটি সংবাদপত্রের শিরোনামের ছবি পোস্ট করেছেন আমেরিকাকে কটাক্ষ করতে গিয়ে। সেই সঙ্গে তিনি ইউরোপের দেশগুলিকেও বার্তা দিয়েছেন। লিখেছেন, ‘‘ইউরোপ ভেবেছিল, ইরানের বিরুদ্ধে এই বেআইনি যুদ্ধকে সমর্থন করলে তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন সমর্থনও পাবে। বেচারা!’’
উল্লেখ্য, আমেরিকা দাবি করেছিল, ভারত রাশিয়ার তেল কেনার ফলে ভ্লাদিমির পুতিন যে আর্থিক লাভ করছেন, তা কাজে লাগাচ্ছেন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে। তাই ওই আমদানি বন্ধের জন্য ভারতকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি, ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্কও আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। পরে তা তুলে নেওয়া হয়। হোয়াইট হাউস দাবি করে, ভারত এখন রাশিয়ার তেল আমদানি করা কমিয়ে দিয়েছে। যদিও ভারত সরকার প্রথম থেকেই জানিয়ে এসেছিল, জাতীয় স্বার্থে জ্বালানি নীতি তারা নির্ধারণ করে থাকে। অন্য কারও কথায় কাজ হয় না। তবে যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি বদলে যায়। পশ্চিম এশিয়ার তেল রফতানিকারক দেশগুলি যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হরমুজ় প্রণালী দিয়ে তেল রফতানিতে বাধা দেয় ইরান। তার পরেই তেলের জন্য রাশিয়ার দিকে ঝোঁকে ক্রেতারা। তা নিয়ে আমেরিকাকে কটাক্ষ করল ইরান।