• চিরশ্রী মজুমদার
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সজল ত্বকের কথা

skin
ত্বকের যত্নে গরমেও থাকুন তরতাজা।

চড়া রোদ আর প্রচণ্ড আর্দ্রতা আমাদের ঘামে স্নান করিয়ে দেয়। ফলে ত্বকের তৈলগ্রন্থি হয়ে ওঠে অতিমাত্রায় সক্রিয়। এই মরসুমে ত্বকে আঙুল বোলালেই টি-জ়োনের তেলময়লা উঠে আসে, র‌্যাশ বেরোয়। রোদের তেজে মুখে হাতে কালো ছোপ। গরমে সমস্যা হল, ত্বক শুকিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ময়শ্চারাইজ়ারও লাগানো যাচ্ছে না আর্দ্রতার কারণে। ফলে ত্বকে আর্দ্রতার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ভরসা রাখুন রূপচর্চায়। এই সামার স্পেশ্যাল বিউটি রুটিনের মূল কথাই হল, দেহে আর্দ্রতার ভারসাম্য রক্ষা।

বদলে নিন টোনার এবং ময়শ্চারাইজ়ার 

দাবদাহের মধ্যেও সুস্থ, তরতাজা থাকতে সকাল-বিকেল স্নানের বিকল্প নেই। ত্বক সজীব দেখাতে বারবার জলের ঝাপটা দিন। এই জলকণা শুকোলে ত্বকের জলীয় ভাব খোয়া যায়। তাই টোনার ব্যবহার করে ময়শ্চারাইজ়ার লাগানোর বিধি। কিন্তু এই প্যাঁচপেচে গরমে ময়শ্চারাইজ়ার লাগালেই তো ঘেমে যাবেন। এর জন্যই একটু বুদ্ধি করে গ্রীষ্মকালীন ময়শ্চারাইজ়ারটি বাছাই করতে হবে।

ত্বক শুষ্ক হোক বা তৈলাক্ত, গরমের জন্য ফোমি ক্লেনজ়ার ব্যবহার করুন। এই ধরনের ফেস ওয়াশে ত্বকের নিজস্ব আর্দ্রতা বজায় থাকে। দিনে অন্তত তিন বার মুখ ধুয়ে পাতলা, হাইড্রো বুস্টার ময়শ্চারাইজ়ার ব্যবহার করবেন। এতে ত্বক ঘেমে উঠবে না, কিন্তু ভেজা অনুভূতি পাবেন। আরাম লাগবে। ত্বকে হিট বয়েল দেখা দিলে হার্বাল টোনার ব্যবহার করে, দু’মিনিট বাদে ময়শ্চারাইজ়ার লাগান।

সানস্ক্রিনে থাকুক অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট

গরমের জন্য ভিটামিন সি বা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন কিনে নিন। এই ধরনের ক্রিম, সেরাম ও লোশন দূষণের ক্ষতি রোধ করে। রোদে ত্বকে ফুটে ওঠা ভাঁজগুলিকে তা মিলিয়ে দেয়। স্বাভাবিক স্থিতিস্থাপকতা ফেরায়, চামড়াও মসৃণ রাখে। রাতে ওই লোশন ধুয়ে ফেলার পরেও ঔজ্জ্বল্য হারায় না।

ব্যবহার করুন ফেস মিস্ট

ত্বকের গভীরে ময়শ্চার ধরে রাখতে কার্যকর ফেস মিস্ট। ক্রিম লাগানোর আগে ফেস মিস্ট ছিটিয়ে নিলে ওই ক্রিম বেশি উপকারী। ফেস মিস্ট বাড়িতেও তৈরি করে নিতে পারেন। শসার রস, পাঁচ-ছ’টি পুদিনা পাতার নির্যাস, এক চা চামচ গোলাপ জল মিশিয়ে, পরিষ্কার তুলোয় করে মুখে লাগিয়ে নিন। সব ধরনের ত্বকেই এই মিশ্রণ উপকারী।

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

ক্লে মাস্কের ম্যাজিক

চকলেট ফেসিয়াল বা ক্লে মাস্ক ত্বকের হারানো আর্দ্রতা চটপট ফেরাতে সাহায্য করে। বাড়িতেও তৈরি করে নিতে পারেন এই প্যাক। খনিজসমৃদ্ধ ক্লে পাউডার, ফ্রুট মিক্সচার, পিচ ফলের তেল, এসেনশিয়াল অয়েল, অ্যালো ভেরা জেল, নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে মুখে বা সম্ভব হলে সারা দেহে মাখুন। আধ ঘণ্টা পরে লেই শুকিয়ে গেলে, তুলে ফেলুন। তার পরে জলপাই তেল মেশানো ও নিম পাতা ভেজানো জলে স্নান করে নিন।

ট্যান তোলার স্ক্রাব

রোদ, দূষণ ত্বকের উপরের পরত নষ্ট করে। তাই সালঁয় গিয়ে ট্যান রিমুভাল বা এক্সফোলিয়েটিং ফেসিয়াল করাতে পারেন। তা সম্ভব না হলে বাড়িতে দু’-তিন দিন অন্তর হোমমেড স্ক্রাব ব্যবহার করুন। আধ কাপ ব্রাউন সুগার, আধ কাপ কফি দানা, এক চামচ জলপাই তেল আর আর ইউক্যালিপটাস এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করুন। স্নানের আগে পনেরো মিনিট গায়ে লাগান। স্নানের পরে নরম অনুভূতি হবে।

উষ্ণ দিনে তৃষ্ণার্ত ত্বকের যা চাই 

  • শসার ফালি পুদিনা পাতায় মুড়ে আই মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করুন। 
  • ওপেন পোরসের সমস্যায় ডিমের সাদা অংশ (আধসিদ্ধ ও ঠান্ডা করা), কমলালেবুর রস, হলুদ বাটা দিয়ে মিশিয়ে মুখে মাখুন।
  • গরমেও ঠোঁট ফাটে। তাই রাতে শুতে যাওয়ার আগে এসপিএফ-যুক্ত লিপবাম বা অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম লাগিয়ে নিন। বাইরে বেরোলে অবশ্যই লিপগ্লস বা ময়শ্চারসমৃদ্ধ লিপস্টিক লাগান। বাড়িতে ফিরে মুখের সঙ্গে ঠোঁটেও টোনার লাগান। 
  • হাঁটু, কনুই, গোড়ালির অংশ ময়শ্চার হারিয়ে খসখসে হয়ে যায়। রাতে ঘুমোনোর আগে লেবুর রস, টক দই, মধু ঘষতে পারেন। ধুয়ে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম লাগান।
  • হাত-পায়ে টম্যাটো লাগালে আঙুলের কোঁচকানো ভাব দূর হবে।
  • গরমে তেল মাখলে কষ্ট হয়। ঠান্ডা জলে মরোক্কান অয়েল, লেবুর নির্যাস মিশিয়ে গায়ে ঢালুন। তার পরে সাবান মেখে স্নান।
  • সুতির রুমালের সঙ্গে ভেজা টিসু রাখুন ব্যাগে। পরিচ্ছন্ন থাকুন।

গ্ল্যামার পাবেন ফুলগাছে, ফলের ঝুড়িতে

এসি ঘরে রুম হিউমিডিফায়ার লাগাতে পারেন। ঠান্ডা হাওয়া শরীরের ময়শ্চার চুরি করতে পারবে না। জুঁই, চাঁপা, বেল প্রভৃতি সুগন্ধি ফুলের গাছ লাগান।

ত্বকের সমস্যার জন্য গরম কালকে যতই দোষারোপ করুন, সে নিজেই আর্দ্রতা রক্ষার বন্দোবস্ত রেখেছে। আম, তরমুজ, জামরুল, লিচু, কালো আঙুর, পেঁপে, স্ট্রবেরি, রাস্পবেরি খান। শরীরে জলের সাম্য বজায় রাখতে এদের জুড়ি নেই।  

মডেল: নয়নিকা সরকার

ছবি: আশিস সাহা

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন