রঙিন মাছে ভরা অ্যাকোয়ারিয়াম বাড়িতে রাখতে পছন্দ করেন অনেকেই। কিন্তু সঠিক পরিচর্যা না হলে অ্যাকোয়ারিয়াম আবর্জনাতে ভরে যেতে পারে। খারাপ হয়ে যেতে জলের মানও। এর ফলে মাছের স্বাস্থ্যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। হতে পারে মৃত্যুও। বাড়িতে মাছ রাখতে চাইলে কী ভাবে নেবেন অ্যাকোরিয়ামের যত্ন, রইল হদিস।
১) নতুন মাছ আনার হুজুগে তাদের অনেকটা পরিমাণে খাবার দিয়ে ফেলছেন না তো? এতে কিন্তু বিপদ বাড়বে। অ্যাকোয়ারিয়ামে খাবার দেওয়ার মিনিটকখানেকের মধ্যে মাছ যতটুকু খাবার খেতে পারে, সেটুকুই তাদের জন্য বরাদ্দ করতে হবে। মাছ কিন্তু বুঝতে পারে না, তার কতটুকু খাওয়া উচিত। বেশি খাবার পেলে সে আয়ত্তের বাইরে গিয়ে খেয়ে ফেলবে। তাতেই হিতে বিপরীত হবে।
২) নতুন মাছ ছাড়ার আগে জলের তাপমাত্রা দেখে নিতে হবে। কোনও কোনও মাছ ঠান্ডা জল পছন্দ করে। আবার কোনও কোনও মাছের পছন্দ উষ্ণ জল। আগে থেকে সেই বিষয়ে সচেতন না থাকলে মাছেদের বাঁচানো যাবে না।
৩) মাছ ছাড়ার আগে অন্তত পক্ষে পাঁচ থেকে সাত দিন অ্যাকোয়ারিয়ামে জল ভরে রাখতে হবে। তার মধ্যে মাছ থাকলে যে সব যন্ত্রপাতি চলে, স্বাভাবিক ভাবেই সেগুলি চালু রাখতে হবে। এই ‘সাইক্লিং’ পদ্ধতি জলের ভিতর নাইট্রোজেন এবং ভাল ব্যাক্টেরিয়ার সমতা বজায় রাখবে। নতুন পরিবেশের সঙ্গে মাছ সহজেই খাপ খাইয়ে নিতে পারবে।
৪) খাবারের উচ্ছিষ্ট এবং মাছেদের শরীরের বর্জ্য থেকে জল দূষিত হয়। ফলে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। মাছেদের দীর্ঘায়ু কামনা করলে অ্যাকোয়ারিয়ামে মাছ আনার আগে অক্সিজেন পাম্প এবং ফিল্টারের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫) মাছেদের মধ্যেও কিন্তু ভেদাভেদ আছে। সব জাতের মাছ এক জায়গায় থাকতে পারে না। প্রতিবেশীকে পছন্দ না হলে মাছেদের মধ্যে কিন্তু দক্ষযজ্ঞ বেধে যেতে পারে। অপছন্দের প্রতিবেশীকে প্রাণেও মেরে ফেলতেও পিছপা হয় না বেশ কিছু জাতের মাছ। তাই অ্যাকোয়ারিয়ামে মাছ রাখার আগে অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ নেওয়া ভাল।