E-Paper

পোষ্যের পাঠ আবশ্যিক

পোষ্যকে ঠিকমতো প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে সুবিধে সব দিক থেকেই

সায়নী ঘটক

শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ১০:১০

পোষ্যকে বাড়িতে আনার পরে অনেকেই তাকে নিজের মতো করে শিখিয়ে পড়িয়ে নেন। তবে সেই শিক্ষা বা ট্রেনিং ঠিক মতো হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। পোষ্যের প্রতি খেলার পুতুলের মতো আচরণ না করে তাকে সন্তানসম যত্নে লালনপালন করুন। অতিরিক্ত শাসন নয়, তবে প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে। শাসন বেশি করলে ওদের স্বভাব ভীরু প্রকৃতির হবে, কামড়াতে শিখবে। ধৈর্য সহকারে, নিয়ম মেনে ওদের গ্রুমিং করুন। নামীদামি ব্রিড থেকে পথকুকুর, ভাল করে ট্রেনিং দিতে পারলে সহজেই তারা শিখে ফেলতে পারে। বিশেষ কোনও প্রয়োজনে বা ডগ শোয়ে পাঠানোর পরিকল্পনা থাকলে বিশেষ প্রশিক্ষকের সাহায্য নিতে হবে।

বাড়ি থেকে বেরিয়ে

পোষ্যকে সারাক্ষণ আটকে রাখলে বা ছোট জায়গার মধ্যে বন্দি করে ফেললে তা ওদের সার্বিক বিকাশের পথে অন্তরায়। কুকুরকে নিয়ে নিয়মিত বাইরে বেরোতে হবে, ছোটাতে হবে। মাঠ বা পার্ক থাকলে ভাল, না হলে রাস্তাতেই ঘুরিয়ে আনুন। লাগাম দিয়ে নিয়ে যান কিংবা সেটা ছাড়া, এমন ভাবে কম্যান্ড দেওয়া অভ্যেস করান, যাতে সে ঠিক আপনার পাশে পাশেই হাঁটে। নিয়মিত সঙ্গে নিয়ে বেরোলে অন্য কুকুর বা প্রাণীকে দেখে তেড়ে যাওয়া কিংবা ভয় পাওয়ার বিষয়টা কেটে যাবে। বল ছুড়ে দিয়ে ওকে নিয়ে আসতে বলুন। বড় রিঙের মধ্য দিয়ে লাফ দেওয়ানোও অভ্যেস করাতে পারেন। জিনিস লুকিয়ে খুঁজে বার করে আনতে বলাও আর একটি খেলা।

নির্দেশ পালন

কুকুর প্রাকৃতিক ভাবে দলবদ্ধ জীব। জঙ্গলে নেকড়ে, কুকুর এই জাতীয় প্রাণী দল বেঁধে থাকে। সেখানে দলের মাথা অর্থাৎ আলফা-কে মেনে চলে সকলে। কুকুরকে পোষ মানাতে গেলে মাথায় রাখতে হবে, তাকে আলফা হতে দেওয়া চলবে না। তবেই সে কথা শুনে চলবে, নিয়মে অভ্যস্ত হবে। তবে বকুনি বা মারধর কখনওই নয়, আদর করে, ভালবেসে ওদের শেখান। কোনও কিছু করতে পারলে পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখুন। হাতের কাছে ট্রিট, পছন্দের খাবার এনে রাখুন। তবে কম্যান্ড দেওয়ার সময়ে শান্ত অথচ দৃঢ় স্বরে তা দিন। কোনও জিনিস নষ্ট করলে বা ভাঙলে ওকে কড়া ভাবে বোঝান যে, ভুল করেছে, কিন্তু কখনওই বকাঝকা করবেন না। পশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গৌতম মুখোপাধ্যায় বললেন, “ওদের ‘কাম’, ‘গো’, ‘ওকে’, ‘রান’, ‘সিট’ ইত্যাদি ছোট ছোট শব্দে অভ্যস্ত করে তুলুন। যদি দেখেন কোনও দিন শেখানোর সময়ে কথা শুনছে না কিংবা চঞ্চল হয়ে পড়ছে, কিছুক্ষণ চেষ্টা করে ওকে সে দিনের মতো ছেড়ে দিন। পরের দিন আবার চেষ্টা করুন। তবে ওয়ান মাস্টার ডগেরা অনেক সময়ে বাইরের লোক দেখলেই কামড়াতে যায়। কুকুরকে সকলের সঙ্গে মিশতে দিলে তবেই সে সামাজিক হবে।”

টয়লেট ট্রেনিং

ছোটবেলা থেকেই টয়লেট ট্রেনিং করানো দরকার। ঘুম থেকে উঠে ও ঘুমোতে যাওয়ার সময়ে নিয়ম করে মলত্যাগের অভ্যেস তৈরি করুন। ডা. মুখোপাধ্যায় একটি পদ্ধতির কথা বললেন, “প্রথম প্রথম ঘরের যেখানে সেখানে মলত্যাগ করলে একটি কাপড় বা কাগজ দিয়ে সেটি পরিষ্কার করে নিন। এ বার আপনার ঠিক করে দেওয়া নির্দিষ্ট জায়গায় (বারান্দা বা ওয়াশরুমে) সেই কাপড় বা কাগজটি রাখুন। পরের দিন ও ঠিক সেখানেই গিয়ে মলত্যাগ করবে।” ছাদে কিংবা রাস্তায় নিয়ে বেরোনোর সময়ে মলত্যাগের অভ্যেস না করানোই ভাল। যদি রাস্তায় গিয়ে করানোর অভ্যেস থাকে, সঙ্গে প্লাস্টিকের ব্যাগ ও পুপ-স্কুপার রাখবেন, যাতে সঙ্গে সঙ্গে তা পরিষ্কার করে দেওয়া যায়।

একা রাখলে

চাকুরিরত ব্যক্তিরা বাড়িতে অনেক সময়েই পোষ্যকে একা রেখে বেরোন। সে সময়ে ওদের গতিবিধি নির্দিষ্ট জায়গার মধ্যে সীমিত করে দিতে পারেন। সঙ্গে খাবার, জল অবশ্যই দিয়ে রাখবেন। ডা. মুখোপাধ্যায়ের পরামর্শ, “টিভি চালিয়ে রাখলে ওরা মনে করবে, বাড়িতে লোক আছে। সোফা, পর্দার নীচের অংশ, কার্পেট, পাপোশ চিবিয়ে নষ্ট করার প্রবণতা দেখলে সেখানে পারফিউম স্প্রে করে রাখতে পারেন।”

পোষ্য ট্রেনিংপ্রাপ্ত হলে সুবিধে সব দিক থেকেই। আপনার নির্দেশ মেনে চললে পোষ্যকে পুরস্কৃত করুন, আদর করুন। ভালবাসার ভাষাই ওরা সবচেয়ে ভাল বোঝে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Pets Dog Lovers

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy