প্রচণ্ড গরমে ফ্রিজ শুধু খাবার ঠান্ডা রাখার যন্ত্র নয়, বরং নষ্ট হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচানোর অন্যতম ভরসা। দুধ, মাছ, মাংস, রান্না করা খাবার কিংবা ফল-সব্জি, সব কিছুই অনেকাংশে ফ্রিজের উপর নির্ভর করে। কিন্তু ফ্রিজ ঠিক মতো কাজ করছে কি না, তা অনেক সময়েই বোঝা যায় না। বাইরে থেকে দেখলে ফ্রিজ স্বাভাবিক মনে হলেও ভিতরের ঠান্ডা বাতাস ধীরে ধীরে বেরিয়ে যেতে পারে। তার জন্যই প্রয়োগ করতে হবে সহজ এক কৌশল।
বাইরে যখন প্রবল রোদের তেজ, ফ্রিজের ভিতরেও কখনও সখনও বাষ্প দেখা যায়। যেন সঠিক ভাবে ঠান্ডা হচ্ছে না। কিন্তু অনেক সময়েই তা-ও চোখে পড়ে না। কিন্তু জটিল রোগের মতো এটিও সঠিক সময়ে শনাক্ত না করতে পারলে দেরি হয়ে যাবে। ফ্রিজের পাশাপাশি নষ্ট হবে ভিতরের সমস্ত খাবারদাবার, মশলাপাতি।
গরমে খাবার ঠিক আছে কি না, কী ভাবে বুঝবেন? ছবি: সংগৃহীত
এই কারণেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক টোটকা আলোচনায় উঠে আসছে। গরমের সময়ে ফ্রিজে একটি সাধারণ এ৪ আকারের কাগজ রেখে পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ফ্রিজের দরজার চারপাশে একটি রবারের সিল থাকে। এই অংশটির কাজ হল দরজা বন্ধ হওয়ার পরে ঠান্ডা বাতাসকে ভিতরে আটকে রাখা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই রবার ঢিলে হয়ে যেতে পারে, ফেটে যেতে পারে বা ময়লা জমে তার কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। তখন দরজা ভাল করে বন্ধ করলেও সামান্য ফাঁক থেকে যায়। আর তা দিয়েই ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যায় এবং বাইরের গরম বাতাস ভিতরে ঢুকে পড়ে। সেটা দরজা বন্ধ করতে গিয়ে সব সময়ে টের না-ও পেতে পারেন। আর সে ভাবেই ধীরে ধীরে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে গিয়ে ভিতরে গরম হাওয়া ঢুকিয়ে দেয়। এর ফলে ভিতরে একই তাপমাত্রা বজায় রাখতে বেশি পরিশ্রম করতে হয় ফ্রিজকে। তা ছাড়া বিদ্যুৎ খরচও বেড়ে যায়। আর খাবার প্রয়োজনীয় ঠান্ডা পরিবেশ না পেতে পেতে পচে যায়।
আর সেখানেই কাজে আসতে পারে একটি কাগজ।
পরীক্ষাটি খুব সহজ। একটি এ৪ কাগজ ফ্রিজের দরজা এবং মূল অংশের মাঝখানে রেখে দরজা বন্ধ করুন। অর্ধেক অংশ ফ্রিজের ভিতরে, অর্ধেক অংশ বাইরে। তার পর কাগজটি টেনে বার করার চেষ্টা করুন। যদি জোরে টান দিয়ে বার করতে হয়, তা হলে বুঝবেন, দরজার রবারের সিল এখনও ঠিক ঠাক কাজ করছে। আর যদি কাগজটি অনায়াসে বাইরে বেরিয়ে যায়, তা হলে বুঝতে হবে ফ্রিজের দরজার মেরামতির প্রয়োজন রয়েছে দ্রুত। তবে শুধু একটি জায়গায় নয়, দরজার চারপাশের বিভিন্ন অংশে এই পরীক্ষা করা উচিত। কারণ, কোনও কোনও অংশে সিল ঠিক থাকলেও অন্য অংশে সমস্যা থাকতে পারে।
গরমের সময়ে এই পরীক্ষা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাইরে তাপমাত্রা যত বৃদ্ধি পায়, ফ্রিজের উপর চাপও তত বাড়ে। এমন অবস্থায় দরজার সিল ঠিক মতো কাজ না করলে ভিতরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে খাবার ও ফ্রিজ, দুই-ই নষ্ট হতে পারে।