ছিল বঁটি, এল ছুরি। ছিল ছুরি, এল চপার, দড়ি টেনে বা চাপ দিয়ে আনাজ কাটা হয় তাতে। ছিল সাধারণ সেই চপার, এল বৈদ্যুতিক চপার। সময় পাল্টাচ্ছে, আবিষ্কার হচ্ছে নতুন নতুন সামগ্রী। রাঁধুনীর কাজ সহজ করার জন্য বাজার ভরে উঠছে এমনই সমস্ত জিনিসে। টম্যাটো থেকে পেঁয়াজ কাটার জন্য অনেকেই যখন ছুরি থেকে হাতে ঘোরানো চপারে স্বাচ্ছন্দ হয়েছেন, তখনই এল ইলেকট্রিক চপার। সুইচ টিপলেই নিজে নিজে আনাজ কাটা শুরু করে এই যন্ত্র।
দু’ধরনের যন্ত্রেরই নিজস্ব সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত হবে, তা নির্ভর করে রান্নার ধরন, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং রোজের প্রয়োজনের উপর।
সাধারণ চপারে সাধারণত দড়ি টেনে বা হাতের চাপ দিয়ে আনাজ কাটা হয়। এতে বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় না। অল্প পরিমাণ সব্জি, কাঁচালঙ্কা বা রসুন কুচি করার ক্ষেত্রে এটি বেশ দ্রুত কাজ করে। ছোট পরিবারের জন্য বা প্রতি দিন যে বাড়িতে অল্প রান্না হয়, সেখানে এই ধরনের চপার যথেষ্ট কার্যকর হতে পারে।
ম্যানুয়াল চপার। ছবি: সংগৃহীত
অন্য দিকে ইলেকট্রিক চপারে মোটরের সাহায্যে ব্লেড ঘোরে। ফলে একসঙ্গে অনেক বেশি পরিমাণ সব্জি খুব কম সময়ে কুচোনো সম্ভব হয়। বিশেষ করে পরিবার যদি বড় হয়, অতিথি আপ্যায়ন করা হয় প্রায়ই বা একসঙ্গে কয়েকটি রান্না করার ক্ষেত্রেও এটি সময় বাঁচাতে পারে। তা বলে সব হেঁশেলেই যে বৈদ্যুতিক চপারের প্রয়োজন রয়েছে, তা নয়।
পার্থক্য কোথায়?
· সময় বাঁচানোর প্রশ্নে সাধারণত ইলেকট্রিক চপার এগিয়ে থাকে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই এটি অনেকখানি উপকরণ কুচিয়ে ফেলতে পারে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন। ইলেকট্রিক চপার ব্যবহারের আগে সেটি জোড়া লাগানো এবং পরে পরিষ্কার করতেও কিছুটা সময় লাগে। ফলে খুব অল্প পরিমাণ উপকরণ কাটার ক্ষেত্রে সময়ের ফারাক সব সময়ে খুব বেশি না-ও হতে পারে। হয়তো শেষমেশ একই রকমের সময় লেগে গেল হাতে ঘোরানো বা দড়ি টানা চপারে।
· পরিষ্কারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ চপারের যন্ত্রাংশ তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক সময় তা ধোয়া সহজ হয়। তবে ব্লেডের ফাঁকে সব্জি আটকে গেলে ঝক্কি পোহাতে হবে। ইলেকট্রিক চপারের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা যায়, তবে অতিরিক্ত মোটর অংশ থাকায় পরিষ্কার করার সময় একটু বেশি সতর্কতা প্রয়োজন।
ইলেকট্রিক চপার। ছবি: সংগৃহীত
· বিদ্যুৎ না থাকলেও সাধারণ চপার ব্যবহার করা যায়। তাই ভ্রমণ, পিকনিক বা যেখানে বার বার বিদ্যুতের সমস্যা দেখা দেয়, সে সব ক্ষেত্রে এটি বেশ সুবিধাজনক। ইলেকট্রিক চপার অবশ্য বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল, যদিও এখন কিছু মডেল পাওয়া যায়, যা রিচার্জ করা যাবে।
· খরচের দিক থেকেও দুই ধরনের যন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সাধারণ চপার সাধারণত অনেক কম দামের হয়। ইলেকট্রিক চপার কিনতে তুলনামূলক ভাবে বেশি খরচ করতে হয়, তবে নিয়মিত এবং বেশি পরিমাণ রান্না হলে সেই বিনিয়োগ সার্থক মনে হতে পারে।
কখন কোনটি বেছে নেবেন?
১. প্রতি দিন অল্প রান্না হলে এবং বাজেট কম থাকলে সাধারণ চপারেই কাজ হবে।
২. বড় পরিবারের জন্য রোজ বেলায় বেলায় রান্না করার ঝক্কি পোহাতে হয়? তা হলে বৈদ্যুতিক চপার কিনলে কাজ অনেকটা সহজ হয়ে যাবে।
৩. বাড়িতে বিদ্যুতের সমস্যা থাকলে সাধারণ হাতে ঘোরানো চপারই কেনা উচিত।
৪. দ্রুত অনেক পরিমাণ সব্জি কুচোতে হলে ইলেকট্রিক চপার বেশি কার্যকর।
ম্যানুয়াল চপার সাশ্রয়ী এবং ছোট কাজের জন্য উপযুক্ত। আর ইলেকট্রিক চপার দ্রুত, শক্তিশালী এবং বেশি পরিমাণ সব্জি কাটার ক্ষেত্রে কার্যকর। তাই কেনার আগে নিজের রান্নাঘরের প্রয়োজন বুঝেই কেনা উচিত।