জাপানি এনসেফ্যালাইটিসে আক্রান্তের সন্ধান মিলল এ বার হুগলিতেও।
দিন কয়েক আগে উত্তরপাড়ার মাখলার সারদা পল্লির বাসিন্দা অশোক কুমার যাদব নামে এক রেলকর্মী জ্বর নিয়ে বাড়ি ফেরেন। স্থানীয় চিকিৎসকদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁকে শিয়ালদহের বি আর সিংহ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর রক্তে জাপানি এনসেফ্যালাইটিসের জীবাণু পাওয়া গিয়েছে। বছর উনচল্লিশের ওই যুবককে কর্মসূত্রে নিয়মিত কালকা-যোধপুর যাতায়াত করতে হয়। মাখলারই অবসরপ্রাপ্ত আর এক রেলকর্মীও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি। চিকিৎসকেরা তাঁর অসুস্থতার কারণ ঠিক কী, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছেন।
মাখলার বিভিন্ন জায়গায় শুয়োর চরে বেড়ানো নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ রয়েছে। শুয়োর জাপানি এনসেফ্যালাইটিসের অন্যতম ধারক। মাখলা এলাকার অনেক বাসিন্দারই অভিযোগ, এখানে যত্রতত্র শুয়োর ঘুরে বেড়ায়। পুরসভা মশা মারতে উদ্যোগী হচ্ছে না। এলাকায় নিকাশি-নালাগুলিও নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। পাশাপাশি পুকুরগুলিও সংস্কার না হওয়ায় মশার উপদ্রব বাড়ছে। প্লাস্টিকের যথেচ্ছ ব্যবহারও পুরো পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
মাখলা এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলর ইন্দ্রজিৎ ঘোষ অবশ্য ইতিমধ্যেই এলাকার শুয়োর-পালকদের ডেকে সতর্ক করেছেন। সোমবার সকালে পুলিশও যায়। প্রশাসনের তরফে শুয়োর-পালকদের খোঁয়াড় তৈরি করতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইন্দ্রজিৎবাবু বলেন, “মশা মারতে পুরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে তেল ছড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মানুষকে সতর্ক করে প্রচারের কাজও শীঘ্রই শুরু হবে।” জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই জেলা স্বাস্থ্য দফতর এবং প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতর থেকে মাখলার সারদা পল্লি এবং শ্রীমা পল্লি পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।