সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার মামলায় নয়া মোড়। এ নিয়ে যে শীর্ষ আদালতের বিচারপতিদের মধ্যে যে মতপার্থক্য রয়েছে, তা প্রকাশ্যে চলে এল।

শীর্ষ আদালতের বিচারপতি রোহিনটন ফলি নরিম্যান এবং বিচারপতি ধনঞ্জয় ওয়াই চন্দ্রচূড়ের মতে, অভিযোগকারিণীর অনুপস্থিতিতে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে শুনানি হলে তা সুপ্রিম কোর্টের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তিতেই আঘাত হানবে।

শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই গঠিত হয়েছে তিন সদস্যের একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি। তাতে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এস এ বোবদে, বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি ইন্দু মলহোত্র। শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই তিন বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেন বিচারপতি নরিম্যান ও বিচারপতি চন্দ্রচূড়। সে সময় বিচারপতি নরিম্যান তাঁদের পরামর্শ দেন, শুনানির সময় অভিযোগকারিণীর আইনজীবীকে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হোক অথবা শুনানির জন্য এক জন নিরপেক্ষ পরামর্শদাতা নিয়োগ করা হোক।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

১৯ এপ্রিল শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেন পঁয়ত্রিশ বছরের এক তরুণী। সুপ্রিম কোর্টের ২২ জন বিচারপতিকে লেখা এক হলফনামায় তিনি দাবি করেন, ২০১৮ সালে তাঁকে যৌন হেনস্থা করেন প্রধান বিচারপতি গগৈ। যদিও ওই অভিযোগের কথা অস্বীকার করেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর দাবি ছিল, এর পিছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র রয়েছে।

আরও পড়ুন:  ‘আপনার বাবা সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত’, বফর্স নিয়ে রাহুলকে আক্রমণ মোদীর

আরও পড়ুন: ‘এই পালিয়ে যাচ্ছিস কেন? সামনে আয়’, রাম-ধ্বনি শুনে রুখে দাঁড়ালেন মমতা

ওই মামলার শুনানির জন্য তিন সদস্যের একটি অভ্যন্তরীণ প্যানেল গঠন করা হয়। তবে ওই কমিটির কাছে দু’দিন হাজিরা দেওয়ার পর একটি বিবৃতি দিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া থেকে সরে আসেন ওই তরুণী। ওই মামলায় সুবিচার পাবেন না বলে নিজের বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, শুনানির সময় তাঁর কোনও আইনজীবীকে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি, শুনানির অডিয়ো-ভিডিয়ো রেকর্ডিংও করা হচ্ছে না। তদন্ত প্রক্রিয়া কোন পথে চলবে, তা-ও তাঁকে জানানো হচ্ছে না। এমনকি, কেন এত দেরি করে এই অভিযোগ করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই তদন্ত প্রক্রিয়া থেকে অভিযোগকারিণী সরে দাঁড়ালেও তাঁকে ছাড়াই শুনানি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিটি। তবে তা কতখানি যুক্তিযুক্ত, এ বার তা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন শীর্ষ আদালতের দুই বিচারপতি।