কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে ইস্তফায় অনড় রাহুল গাঁধী। নতুন সভাপতি খুঁজে বার করার চেয়ে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব রাহুলকেই সভাপতি পদে ফেরানোর চেষ্টায় বেশি সক্রিয়। ফলে দলও এখন কার্যত দিশাহীন। এই পরিস্থিতিতে এ বার উত্তরপ্রদেশ ও কর্নাটকে প্রদেশ কমিটি ভেঙে দিল কংগ্রেস। অর্থাৎ এই দুই রাজ্যের প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির আর কোনও সাংগঠনিক কাঠামো থাকল না। আগামী সপ্তাহে ফের বৈঠকে বসছে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি (সিডব্লিউসি)। ওই বৈঠকেই সভাপতি নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে।

লোকসভা ভোটের ফল ঘোষণা হয়েছিল ২৩ জুন। ভোটে ২০১৪ সালের চেয়ে সামান্য বেড়ে কংগ্রেসের আসন ৫২ হলেও কার্যত ভরাডুবি হয়েছে কংগ্রেসের। তার পর ২৫ জুন পর্যালোচনা বৈঠকে বসে সিডব্লিউসি। দলের বিপর্যয়ের দায় নিয়ে ওই বৈঠকেই ইস্তফা পত্র পেশ করেন রাহুল গাঁধী। কিন্তু দলের নীতি নির্ধারণ কমিটি সর্বসম্মত ভাবে সেই পদত্যাগ পত্র গ্রহণ না করে রাহুলকেই সভাপতি পদে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আর্জি জানায়। কিন্তু রাহুল তাতে রাজি হননি।

তার পরও দলের শীর্ষ নেতাদের প্রায় সবাই বহু ভাবে তাঁকে পদে থাকার অনুরোধ-উপরোধ করেছেন। কিন্তু রাহুল গোঁ ধরে রয়েছেন। তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্তে অবিচল। কোনও ভাবেই কংগ্রেস সভাপতির পদে আর ফিরবেন না। এই পরিস্থিতিতে দলও এবার নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। সভাপতির বদলে কাউকে কার্যকরী সভাপতি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কৌশলের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন: কালো টাকা রুখতে পদক্ষেপ করেনি এনডিএ সরকার! সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট ঘিরে জল্পনা

আরও পডু়ন: দু’বছরেও তদন্ত শেষ হল না! সিবিআই দফতরে এসে আক্ষেপ ম্যাথুর

এই পরিস্থিতিতে উত্তরপ্রদেশ এবং কর্নাটকের প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি সোমবার ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইকম্যান্ড। সভাপতি নির্বাচন ইস্যুতে আগামী সপ্তাহে ফের বৈঠকে বসছেন কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা। দলীয় সূত্রে খবর, ওই বৈঠকেও ফের এক বার রাহুল গাঁধীকে সভাপতি পদে থাকার জন্য অনুরোধ জানাবেন শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে একটি সূত্রে এও বলা হচ্ছে, এটাই হবে শেষ অনুরোধ। এ বারও রাহুল রাজি না হলে নতুন সভাপতি বা কার্যকরী সভাপতি খোঁজার কাজ শুরু করে দেবেন দলের নেতারা।

(এই খবরটি প্রথম প্রকাশের সময় ভুলবশত লেখা হয়েছিল ‘ সব প্রদেশ কমিটি ভেঙে দিয়েছে কংগ্রেস’। এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত)

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।