অযোধ্যা বিতর্ক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানালেও, খুশি নয় মুসলিম পক্ষ। রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই তা স্পষ্ট করে দিয়েছে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড এবং মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড। তবে সাংবিধানিক বেঞ্চের ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে পাল্টা কোনও আবেদন জানানো হবে না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড।

অযোধ্যার জমি বিতর্ক নিয়ে কী রায় দিতে পারে সুপ্রিম কোর্ট? তা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই দেশ জুড়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। শনিবার শীর্ষ আদালতের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ রায়ে বলে,  অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে মন্দির তৈরি হবে। আর বিকল্প পাঁচ একর জমি পাবে মুসলিমদের পক্ষের ‘সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড’। কিন্তু, শীর্ষ আদালতের পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চের এই রায়ে খুশি নয় সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড।

রায় বেরনোর পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বোর্ডের আইনজীবী জাফরাইব জিলানি বলেন, ‘‘আমরা রায়কে সম্মান জানাই। কিন্তু, এতে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে চিন্তা ভাবনা করব।’’  তবে এ নিয়ে তাঁরা যে কোনওরকম বিক্ষোভ বা প্রতিবাদের পথে যাবেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করার বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন অযোধ্যার জামা মসজিদের শাহি ইমামও। তাঁর মতে, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের এই রায় আমাদের পক্ষেই। তাই এটা ফের চ্যালেঞ্জ করা মুসলিমদের উচিত নয়। আমাদের এই রায় মেনে নেওয়া উচিত।’’

আরও পড়ুন: বাঁক নিচ্ছে অতি ভয়ঙ্কর বুলবুল, গতিবেগ ১২০ কিমি, রাতে বড় ছোবল সুন্দরবনে?

অন্যদিকে, রায় নিয়ে প্রাথমিক ভাবে কড়া প্রতিক্রিয়া দেয় অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডও। তাদের তরফে কামাল ফারুকি বলেন, ‘‘এর বদলে ১০০ একর জমি দেওয়া হলেও আমাদের কোনও লাভ নেই। ইতিমধ্যেই আমাদের ৬৭ একর জমি দখল করা হয়েছে, তা হলে আমাদের কি দান করা হচ্ছে? আমাদের ৬৭ একর জমি নেওয়ার পর ৫ একর দেওয়া হচ্ছে। এটা কোথাকার বিচার?’’

এ সবের মধ্যেই সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন এআইএমএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়েইসি। এ দিন সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেন, ‘‘আদালত মেনে নিয়েছে যে পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বিভাগের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওখানে মন্দির ছিল না। রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট যে ১৪২ আর্টিকলের ব্যবহার করেছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। এই রায় সৌভ্রাতৃত্বের নয়।’’

আরও পড়ুন: অযোধ্যায় মন্দির-মসজিদ বিতর্ক​

ওয়াইসির মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা সালমান নিজামি। টুইটে লিখেছেন, ‘কেন ৫ একর জমি ছাড়ব? ওয়াইসি ২০ কোটি মুসলিমের ঠিকাদার নয়। আমাদের অবশ্যই মসজিদ তৈরি করা উচিত। এছাড়াও, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করা উচিত যেখানে হিন্দু ও মুসলিম দু’পক্ষই পড়াশোনা করবে। কেউ যেন বিরক্ত বোধ না করে। ঘৃণা এবং খারাপের বিরুদ্ধে  এভাবেই ইতিবাচক শক্তি ও ভাবনা দিয়ে মোকাবিলা করা যেতে পারে।’

ভিন্ন সুর শোনা গিয়েছে অজমেঢ় শরিফ দরগার দেওয়ান সৈয়দ জয়নুল আবেদিনের গলাতেও। তিনি বলেন, ‘‘এই রায়ে কারও জয় হয়নি, কারও পরাজয়ও হয়নি। আমাদের সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে নেওয়া উচিত। দেশের স্বার্থে আমাদের এখনই এই বিতর্কে ইতি টানা উচিত।’’