স্বাধীনতা দিবসে ওয়াঘা-আটারি সীমান্তে সৌহার্দ্যের ছবির মাঝেই, নিয়ন্ত্রণ রেখায় চলল তুমুল গোলার লড়াই। ভারতীয় সেনার অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে বিনা প্ররোচনায় জম্মু কাশ্মীরের উরি এবং রাজৌরি সেক্টরে ভারতীয় সেনা শিবির লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে পাক সেনা। যদিও সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা জবাব দিয়েছে সতর্ক ভারতীয় বাহিনী। সেনা সূত্রে খবর, পাল্টা জবাবে নিহত হয়েছেন তিন পাক সেনা জওয়ান। পাক সেনা মুখপাত্রও একটি টুইট বার্তায় তিন পাক সেনার মৃত্যুর খবর স্বীকার করে নিয়েছেন। তবে পাকিস্তানের দাবি, সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে ৫ ভারতীয় সেনারও। পাক সেনার ওই দাবিকে ‘কাল্পনিক’ বলে জানিয়েছে ভারতীয় সেনা।

সারা দেশের মতো জম্মু-কাশ্মীরের প্রায় সর্বত্র স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে। অভিযোগ, তার মধ্যেই এ দিন সীমান্তের ওপার থেকে বিনা প্ররোচনায় গুলি-গোলা চালাতে শুরু করে পাক জওয়ানরা। নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে উরি এবং রাজৌরির গ্রামে উড়ে আসে পাক মর্টার এবং শেল। সেনা সূত্রে খবর, পাক বাহিনীর হামলা রুখতে ভারতের দিক থেকেও শুরু হয় পাল্টা গোলা বর্ষণ। ভারতের পাল্টা হামলায় পিছু হটে পাক বাহিনী।

সেই আক্রমণে তিন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সেনা। পাক সেনা মুখপাত্র জানিয়েছেন, মৃত তিন পাক সেনা হলেন নায়েক তনভীর, সিপাহী রমজান এবং ল্যান্স নায়েক তৈমুর।

ভারতের বিরুদ্ধে সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগ তুলে পাক সেনার মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর টুইটারে লিখেছেন, ‘জম্মু-কাশ্মীরের অবস্থা থেকে নজর ঘোরাতেই ভারত নিয়ন্ত্রণরেখায় গোলাগুলি বাড়িয়েছে। তিন পাক জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। পাক সেনাও যোগ্য জবাব দিয়েছে। পাঁচ জন সেনা জওয়ান নিহত হয়েছে, বাঙ্কার গুঁড়িয়ে গিয়েছে। মাঝে-মধ্যেই চলছে গুলি বিনিময়।’

আরও পড়ুন: ৭০ বছরে ৩৭০ ধারাকে কেন স্থায়ী করেননি? সাহস পাননি কেন? লালকেল্লা থেকে বিরোধীদের তোপ মোদীর

আরও পড়ুন: ভারত এবং পাকিস্তানের ও’ব্রায়েনরা: চাপা পড়ে থাকা কিছু দীর্ঘশ্বাস

তবে ভারতীয় সেনার এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, ‘‘পাকিস্তানের এই বক্তব্য সম্পূর্ণ মনগড়া। সেনার অভিযোগ, রাজৌরি, উরির মতোই বৃহস্পতিবার সকালের দিকে নাঙ্গি টেকরি এলাকার কেজি সেক্টরেও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে বিনা প্ররোচনায় গুলি চালিয়েছে পাক সেনা।’’

সেনা সূত্রে খবর, নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সব কটি সেক্টরেই হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পাকিস্তানের দিক থেকে যে কোনও রকমের প্ররোচনা, উস্কানি বা নাশকতামূলক কাজকে কড়া হাতে দমনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।