• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

রাফাল রায়ে ব্যাকরণ ভুল! মুখ বাঁচাতে কোর্টেই কেন্দ্র

Supreme Court
প্রতীকী ছবি।

রাফাল মামলার রায় নিয়ে বিতর্কের দায় সুপ্রিম কোর্টের উপরেই চাপাল নরেন্দ্র মোদী সরকার। 

কেন্দ্রের বক্তব্য, যুদ্ধবিমান কেনার সময়ে দাম নিয়ে কী ভাবে এগোনো হয়, সেই পদ্ধতি ধাপে ধাপে লিখে তারা মুখ-বন্ধ খামে সুপ্রিম কোর্টে জমা দিয়েছিল। সম্ভবত সেই নথির ভিত্তিতে রায় লেখার সময়ে ক্রিয়াপদের পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে। সরকার কখনওই বলেনি যে, কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)-এর রিপোর্ট ইতিমধ্যেই সংসদের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (পিএসি) খতিয়ে দেখেছে। ওই রিপোর্টের কাটছাঁট করা একটি অংশ সংসদে ও প্রকাশ্যে জানানো হয়েছে— এমন কথাও বলেনি। ভুল ব্যাখ্যার ফলেই এমন বিতর্ক হচ্ছে। রায় সংশোধন করার জন্য নজিরবিহীন ভাবে আজ শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কেন্দ্র। 

গোড়া থেকেই রাফাল বিতর্কের অন্যতম মূল প্রশ্ন ছিল বিমানের দাম। গত কাল রায়ে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ লিখেছে, ‘‘রাফালের দাম সবিস্তারে জানানো হয়েছে সিএজি-কে। তা নিয়ে সিএজি-র রিপোর্ট পিএসি খতিয়ে দেখেছে। ওই রিপোর্টের কাটছাঁট করা একটি অংশ সংসদে এবং প্রকাশ্যে জানানো হয়েছে।’’ 

গন্ডগোলের সূত্রপাত এখানেই। আদালতের রায় আসতেই রাহুল গাঁধী চেপে ধরেন সরকারকে। পিএসি চেয়ারম্যান মল্লিকার্জুন খড়্গেকে পাশে বসিয়ে কংগ্রেস সভাপতি জানান, রাফাল সংক্রান্ত কোনও রিপোর্ট পিএসি-র কাছে আসেনি। তাঁকে সমর্থন করে এনডিএ শরিক শিবসেনা। আজ সকালে খড়্গে বলেন, ‘‘সরকার জানিয়েছে, ওই রিপোর্ট পিএসি-র কাছে জমা পড়েছে। ভাল কথা। তা হলে অ্যাটর্নি জেনারেল এবং সিএজি-কে ডেকে পিএসি জানতে চাইবে, কবে ওই রিপোর্ট সংসদে জমা পড়ল।’’ অস্বস্তি বাড়তে থাকে সরকারের অভ্যন্তরে। 

শেষে রায় বেরোনোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে ভ্রম সংশোধনের আর্জি পেশ করে কেন্দ্র। যুক্তি দেয়, মুখ-বন্ধ খামে রাফালের সবিস্তার দাম জানানোর পাশাপাশি তারা বলতে চেয়েছিল, সিএজি-কে রাফালের দাম জানানো হয়েছে। এর পরে সিএজি-র রিপোর্ট খতিয়ে দেখবে পিএসি।

আরও পড়ুন: মাতৃত্বের ছুটি থেকে জওয়ানদের উঁকিঝুঁকি! যুদ্ধে পাঠানো সম্ভব নয় মেয়েদের, বলছেন সেনাপ্রধান 

তার পরে রিপোর্টের একটি কাটছাঁট করা অংশ সংসদে এবং সর্বসমক্ষে পেশ করা হবে। এটাই পদ্ধতি। কিন্তু রায় লেখার সময়ে ‘ইজ়’ হয়ে গিয়েছে ‘ওয়াজ়’ এবং ‘হ্যাজ় বিন’। বর্তমান কাল হয়েছে অতীত কাল। ফলে সিএজি-কে দাম জানানোর তথ্যটি ঠিক থাকলেও পরের দু’টি বাক্যের অর্থ পাল্টে গিয়েছে। 

সুপ্রিম কোর্টে আজ কেন্দ্রের আবেদনে বলা হয়েছে, ‘‘সিএজি-র রিপোর্ট তৈরি হয়ে গেলে কী কী করা হবে, তা বোঝাতেই মুখ-বন্ধ খামের বিবৃতিতে ‘ইজ়’ ব্যবহার করা হয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত, তার মধ্যে একটি ভুল ব্যাখ্যা ঢুকে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে। যার ফলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।’’ অর্থাৎ, পিএসি-র কাছে যে কোনও রিপোর্ট পৌঁছয়নি, তা স্বীকারই করে নিয়েছে কেন্দ্র। 

সরকারের এই যুক্তি উড়িয়ে দিয়ে রাফাল তদন্তে যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠনের দাবিতে আজ ফের সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। রাতে সেই দাবিতেই ইন্ডিয়া গেটের সামনে মিছিল করেছে যুব কংগ্রেস। রাহুল আজ রাফাল নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও ‘লিঙ্কড-ইনের’ সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যানের একটি উদ্ধৃতি টুইটারে তুলে দিয়েছেন— ‘‘কারও মন বা রণকৌশল যতই ধারালো হোক না কেন, একা মাঠে নামলে একটা টিমের কাছে হারতেই হবে।’’ শুধু সিএজি-পিএসি নয়। কংগ্রেসের বক্তব্য, কোর্টের রায়ে বায়ুসেনা প্রধানের বিবৃতির কথা বলা হয়েছে। বাস্তবে তা নেওয়া হয়নি। বায়ুসেনার কোনও অফিসারকে রাফাল কেনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়নি। ‘পেরেন্ট’ বা মূল রিলায়্যান্স সংস্থা ও দাসোর চুক্তির কথা বলা হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে এত ভুল থাকে কী করে? 

আরও পড়ুন: সিন্ধিয়াকে সভাপতি করা হোক রাজ্যে, সরব অনুগামীরা

সব মিলিয়ে ক্ষণিকের স্বস্তির পরেই অস্বস্তিতে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহেরা। আজ সারা দিনে রাফাল নিয়ে টুঁ-শব্দ করেননি বিজেপির কোনও নেতা। তামিলনাড়ুর বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মোদী শুধু বলেছেন, ‘‘জাতীয় সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রটি কংগ্রেসের কাছে কেবল অর্থ উপার্জনের রাস্তা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।’’ 

কংগ্রেসের আইনজীবী নেতা কপিল সিব্বলের বক্তব্য, ‘‘পিঠ বাঁচাতে আদালতকে ইচ্ছে করে ভুল পথে চালনা করা হয়েছে। কিন্তু এ বার কী হবে?’’ সূত্র জানাচ্ছে, আপাতত সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চের কাছেই যাবে কেন্দ্রের আর্জি। অন্যতম মামলাকারী প্রশান্ত ভূষণও রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন ঘনিষ্ঠ মহলে। টুইটারেও তিনি লিখেছেন, ‘‘বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী মিথ্যা বিবৃতি ছাড়া সরকারের মুখ-বন্ধ খামে আর কী কী মিথ্যা ভরা ছিল, কে জানে!’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন