কাশ্মীর হোক বা কলকাতা, উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতেপুলিশ-সেনার হাতে নানা অস্ত্র। লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস, রবার বুলেট কিংবা জলকামান— সব কিছুই প্রতিরোধ করার নানা কৌশল রপ্ত করে ফেলেছেন উপত্যকার পাথর নিক্ষেপকারী আম জনতা কিংবা রাজনৈতিক কর্মীরা। এ বার তাই বিক্ষোভ সামাল দিতে আসছে নয়া অস্ত্র— ‘শব্দকামান’। যদিও আপাতত কাশ্মীরে পাথর-বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতেই এই অস্ত্র ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যেই সেনাকে সবুজ সঙ্কেতও দিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

কিন্তু কেন্দ্রের অনুমোদনের খবর আসতেই নানা মহল থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিক্ষোভ-জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে ‘শব্দকামান’ অব্যর্থ হলেও, তাতে শ্রবণশক্তির উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি, চিরকালের মতো শ্রবণশক্তিই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। শিশু-প্রবীণদের ক্ষেত্রে সেই প্রভাব আরও মারাত্মক হওয়ার পাশাপাশি স্নায়ুর উপরেও ভয়ানক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও কেন্দ্রের আশ্বাস বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে মানুষের কানের সহ্যশক্তির মাত্রার মধ্যেই রাখা হবে শব্দ।

কী ভাবে কাজ করে এই শব্দকামান? কেনই বা ক্ষতিকর? পোশাকি নাম লং রেঞ্জ অ্যাকোয়াস্টিক ডিভাইস বা এলআরএডি। আসলে উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ উৎপাদনকারী যন্ত্র।ওয়াকিবহাল মহল জানাচ্ছে, এই যন্ত্র থেকে বিকট ও তীক্ষ্ণ শব্দ  হয়। শব্দের কম্পাঙ্ক এবং তীব্রতা এতটাই তীক্ষ্ণ হয় যে, কার্যত কান চেপে ধরেও তা আটকানো অসম্ভব। উচ্চ মাত্রার এই শব্দতরঙ্গ চালু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই আশপাশের এলাকার মানুষজনের শুরু হয় মাথাব্যাথা। কারণ তীব্র ও তীক্ষ্ণ শব্দতরঙ্গস্নায়ুর উপর প্রভাব ফেলে। ফলে বিক্ষোভস্থল ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় জনতা।

আরও পড়ুন: দু’বছরেও তদন্ত শেষ হল না! সিবিআই দফতরে এসে আক্ষেপ ম্যাথুর

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর, জঙ্গি দমনে গতি আনতে এবং উপত্যকায় সেনা-পুলিশের উপর জনতার পাথর ছোড়া আটকাতে এই যন্ত্রের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রক। সিআরপিএফ-কে পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ নোটে দেশের মধ্যেই এই এলআরএডি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলা হয়েছে। মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নোটে বলা হয়েছে, ‘‘এলআরএডি প্রস্তুতকারী সংস্থাকে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে মানুষের শ্রবণশক্তির উপর কতটা প্রভাব ফেলবে এবং দেশের মেডিক্যাল সংস্থাগুলির সার্টিফিকেট থাকতে হবে।’’ এ ছাড়া একই উদ্দেশে বা অন্য উদ্দেশে আগে কোথায় ব্যবহার হয়েছে, তার পরিণাম কী হয়েছে, সে সম্পর্কেও তথ্য দিতে হবে প্রস্তুতকারী সংস্থাকে।

এই খবরে উপত্যকায় সেনা এবং পুলিশের মধ্যে অবশ্য আশার কথাই শোনা গিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, জঙ্গি লুকিয়ে থাকার খোঁজ পেয়ে অভিযানে গেলে অনেক সময়ই স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়তে হয়। পাথর ছুড়তে শুরু করে এলাকাবাসী। সেই সুবিধা নিয়ে জঙ্গিরা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। আবার পাথর ছোড়া জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এখন যে রবার বুলেট ব্যবহার করা হয়, তা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। কারণ চোখ, মুখের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় এই রাবার বুলেট লাগলে, তা থেকে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। এমনকী, মৃত্যুর সম্ভাবনা পর্যন্ত থাকে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১০ সালে উপত্যকায় এই রবার বুলেটেই অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। শব্দ কামানের ব্যবহার চালু হলে এই সব সমস্যা থেকে অনেকটাই সুরাহা মিলবে।

আরও পডু়ন: মমতার সরকারের পুলিশই তাঁর প্যারোল আটকেছিল, ফেসবুকে বিস্ফোরক মদন

ভারতে অবশ্য এর আগে এই এলএআরডি ব্যবহারের নজির নেই। তবে মার্কিন মুলুকে ব্যবহার করা হয়েছিল ২০০৯ সালে। ওই সময় পিটসবার্গে জি-টোয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলন চলছিল। এক দল লোকের বিক্ষোভ কিছুতেই থামানো যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত এই শব্দকামান ব্যবহার করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করা হয়।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।