বাবার অমতে বিয়ে করায়, ভিডিয়ো বার্তায় প্রাণ সংশয়ের কথা তুলে ধরেছিলেন বিজেপি বিধায়কের মেয়ে। তা সত্ত্বেও ঠেকানো গেল না অপ্রীতিকর পরিস্থিতি।

বাবার অমতে ‘দলিত’ পাত্রকে বিয়ে। তারপর থেকে যেন টানাপড়েন কাটছে না উত্তরপ্রদেশের বরেলীর বিজেপি বিধায়ক রাজেশ মিশ্রর মেয়ে সাক্ষী ও তাঁর স্বামী অজিতেশের। সোমবার, নতুন নাটকের সাক্ষী হল ইলাহাবাদ হাইকোর্ট। প্রাণের নিরাপত্তা চাইতে এ দিন আদালতে গিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু, আদালত চত্বরেই অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হন অজিতেশ। এক দল দুষ্কৃতী তাঁর উপর হামলা চালায়।

বাড়ির অমতে বিয়ে সাক্ষী ও অজিতেশের। তারপর থেকেই টালমাটাল পরিস্থিতি চলছিলই। তথাকথিত দলিত পাত্রকে বিয়ে করায়, বাবা রাজেশ মিশ্রর রোষ থেকে বাঁচতে, প্রাণের ভয়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছিল যুগলকে। এরপরেই, ইলাহাবাদ হাইকোর্টের কাছে নিরাপত্তার দাবিতে আবেদন করেন দুজনে। এ দিন তারই শুনানি ছিল। আদালত চত্বরে আক্রান্ত হলেও, শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরতে হয়নি তাঁদের। ঘটনার কথা শুনে তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেছে আদালত। যুগলকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইলাহাবাদ হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন: ভিন্ জাতে বিয়ে করলে টাকা দেয় কেন্দ্র, কিন্তু নিচ্ছে কে!​

কয়েকদিন আগেই ভাইরাল হয়ে ওঠে সাক্ষীর একটি ভিডিয়ো বার্তা। তাতে রাজেশ মিশ্রর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘বাবা,  আমাদের বিয়ে মেনে নাও। যে গুন্ডাকে পাঠিয়েছ, সেই রাজীব রাণা... আমাদের কিছু হলে ওর পুরো পরিবার জেলে যাবে। পালাতে পালাতে আমি ক্লান্ত। পাপা এবং ভিকি, মাননীয় এমএলএ পাপ্পু ভারতৌলজি এবং ভিকি ভারতৌলজি, নিজেরা শান্তিতে থাকো, যত খুশি রাজনীতি করো, আমাদেরও শান্তিতে থাকতে দাও।’’ রাজেশ মিশ্র বরেলীর বিঠারি চেনপুরের বিধায়ক।

বাবার উদ্দেশে মেয়ের এই ভিডিয়ো বার্তা দেখে তোলপাড় হয় দেশ। সেইসঙ্গে, নিরাপদে জীবন কাটানোর এমন আর্তি আরও একবার স্পষ্ট করে দেয় জাতপাতের ভেদাভেদের মারাত্মক ছবিটা। কিন্তু, জীবনের নিরাপত্তা চাইতে গিয়ে এ দিন প্রাণ সংশয় হয় ওই যুগলের। যদিও, দিনের শেষে আদালতের নির্দেশ তাঁদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।

এমন নিন্দনীয় ঘটনার পরেও, বিজেপি বিধায়ক রাজেশ মিশ্রকে সমর্থন জানিয়ে বিতর্কিত টুইট করেছেন মধ্যপ্রদেশের বিরোধী দলনেতা গোপাল ভার্গব।

আরও পড়ুন: কংগ্রেসের হুমকির আশঙ্কা, মুম্বইয়ে হোটেল থেকেই পুলিশকে চিঠি বিক্ষুব্ধদের

এ দিন, সকালে আদালত চত্বর থেকে সাক্ষী ও অজিতেশকে বন্দুক দেখিয়ে অপহরণের খবর ছড়িয়ে পড়ে সংবাদ মাধ্যমে। কিন্তু, পরে জানা যায়, তাঁরা সাক্ষী ও অজিতেশ নন। কিছুক্ষণ পর, ওই দুজনকে অবশ্য ফতেপুর থেকে উদ্ধার করা হয়।