চার দিনে চার দাবি—

১। উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের গোঁফকে ‘জাতীয় গোঁফ’ ঘোষণা করা হোক। 

২। ‘এক পদ, এক পেনশন’-এ ৫ রকম পেনশন না-দিয়ে একটিই পেনশন হোক।

৩। জখম ফৌজি কাজ ছেড়ে দিলে যেন পেনশনে কর আরোপ না হয়। 

৪। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কারও মৃত্যু হলে ‘শহিদ’-এর মর্যাদা দেওয়া হোক। 

যে সেনাকে সামনে রেখেই নরেন্দ্র মোদী সদ্য সমাপ্ত লোকসভা ভোটে বাজি মেরেছেন বলে বিরোধীদের অভিযোগ, চারটি দাবিই সেনাদের নিয়ে। পুলওয়ামার ঘটনার পর বালাকোটে বায়ুসেনার অভিযানকে যে ভাবে প্রচার করে জাতীয়তাবাদের তাস খেলেছে গেরুয়া শিবির, তাতেই পিছিয়ে পড়েছে অন্যরা। এখন সেই জাতীয়তাবাদেই থাবা বসাতে চাইছে কংগ্রেস। দলীয় সূত্রের মতে, সনিয়া গাঁধীর নির্দেশ, জাতীয়তাবাদের কৃতিত্ব সব থেকে বেশি দাবি করতে পারে কংগ্রেসই। স্বাধীনতার আন্দোলনের পুরোধা কংগ্রেস। অথচ সব থেকে বেশি ঢাক পেটায় বিজেপি। জাতীয়তাবাদের বিষয়টিকে ফের জাগিয়ে তুলতে হবে কংগ্রেসকে। 

সনিয়ার নির্দেশের পরেই লোকসভায় কংগ্রেসের নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী চলতি সপ্তাহেই সেনা সংক্রান্ত একের পর এক বিষয় নিরন্তর উত্থাপন করে চলেছেন। রাষ্ট্রপতির বক্তৃতায় ধন্যবাদজ্ঞাপক বিতর্কের সময়েই অধীর বায়ুসেনার উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের গোঁফকে ‘জাতীয় গোঁফ’ করার দাবি তুলেছিলেন। তাঁকে ‘ভারতশ্রী’ দেওয়ার দাবিও তোলেন প্রধানমন্ত্রীর সামনে। তিন দিনের মাথায় আজ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের সামনে লোকসভায় ফের সরব হন প্রত্যক্ষ কর পর্ষদের সাম্প্রতিক নির্দেশিকার বিরুদ্ধে। যেখানে বলা হয়েছে, জখম হওয়া কোনও ফৌজি কাজ ছাড়লেও তাঁর পেনশনে কর বসবে। অধীর বলেন, ‘‘যে সরকার বারবার সেনার কথা বলে ভোটে লড়েছে, আজ তাঁদের উপরেই কর চাপাচ্ছে। এটি বেদনাদায়ক। ‘এক পদ, এক পেনশন’-এ পাঁচ ধরনের পেনশন রয়েছে। সেটিও শোধরানো জরুরি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কারও মৃত্যু হলে শহিদের মর্যাদা দিতে হবে। সেনাদের সঙ্গে অবিচার হওয়া উচিত নয়।’’ সনিয়া গাঁধী সংসদে দলের সাংসদদের আক্রমণাত্মক হতেই বলছেন বারবার। লোকসভায় মাত্র ৫২ জন সাংসদ। তাঁদের উপস্থিতি সুনিশ্চিত করতে সনিয়ার নির্দেশ, সংসদে থাকতে হবে। বিশেষত দ্বিতীয়ার্ধে। 

সেনা নিয়ে কংগ্রেসের চাপে আজ জবাব দিতে হয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহকেও। তিনি বলেন, ‘‘আমরা সেনার কদর করি। ‘এক পদ, এক পেনশন’ আমাদের সরকারেরই করা।’’ জখম ফৌজিদের পেনশন নিয়ে অধীর যে আপত্তি তুলেছেন, সেটিও খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন মন্ত্রী। কিন্তু বিজেপির এক নেতার বক্তব্য, ‘‘জাতীয়তাবাদের প্রশ্ন নিয়ে কংগ্রেসের যখন টনক নড়ল, তখন অনেক দেরি হয়েছে। মোদীজি তো কংগ্রেসকই আবেদন করেছিলেন, তাঁরাও আসুন। সর্দার পটেলকেও গ্রহণ করুন। ২০২৪ সালের ভোট কি আর একই বিষয় নিয়ে হবে!’’

এবার শুধু খবর পড়া নয়খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।