নিজের অফিসেই খুন হলেন হিন্দু মহাসভার প্রাক্তন সভাপতি কমলেশ তিওয়ারি। খুব কাছ থেকে গুলি করে তাঁকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শুক্রবার দুপুর পৌনে দু’টো নাগাদ লখনউয়ের খুরশিদবাগে কমলেশের অফিসে গেরুয়া পোশাক পরা এক ব্যাক্তি আসে।অভিযোগ, ওই ব্যক্তিই তাঁকে খুন করেছে।

পুলিশকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির হাতে ছিল মিস্টির বাক্স।  দিওয়ালি উপলক্ষে কমলেশকে মিষ্টি উপহার দেওয়ার কথা বলেছিল ওই ব্যক্তি।কমলেশের সঙ্গে সে কয়েক মিনিট কথাও বলে। এরপরই মিষ্টির বাক্স এগিয়ে দেওয়ার অছিলায় বাক্স থেকে পিস্তল বার করে খুব কাছ থেকে কমলেশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় আততায়ী।

শুধু গুলি নয়, কমলেশকে কোপানো হয় বলেও অভিযোগ। এর পরই সেখান থেকে চম্পট দেয় আততায়ী। কমলেশকে তাঁর দফতর থেকে দ্রুত লখনউয়ের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।ঘটনার পরেই গন্ডগোলের আশঙ্কায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় গোটা এলাকায়।

আরও পড়ুন:আইএনএক্স মামলায় চিদম্বরমের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করল সিবিআই, রয়েছে আরও ১৩ জনের নাম
আরও পড়ুন:সমঝোতায় সায় নেই, জানাল মুসলিম পক্ষের একাংশ, নয়া মোড় অযোধ্যা মামলায়

 

হিন্দু মহাসভার প্রাক্তন ওই সভাপতি ২০১৭ সালে হিন্দু সমাজ পার্টি গঠন নামে পৃথক দল গঠন করেছিলেন। বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার জন্য  সমালোচিতও হন ওই নেতা।২০১৫ সালে সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের জন্য তাকে জাতীয় সুরক্ষা আইন (এনএসএ)-এ গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে এলাহাবাদ হাইকোর্ট তাঁকে রেহাই দেয়।

কমলেশের মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ। কমলেশকে নিয়ে অক্টোবর মাসে চারজন হিন্দুত্ববাদী নেতা খুন হলেন উত্তর প্রদেশে। এর আগে অক্টোবর মাসের ৮ তারিখ দেওবন্দে এ রকম ভাবেই খুন হন বিজেপি নেতা চৌধুরি যশপাল সিংহ। দু’দিন পরেই কবীর তিওয়ারি নামে অন্য এক বিজেপি নেতা খুন হন বস্তিতে। এ মাসের ১৩ তারিখ সাহারানপুরে গুলি করে হত্যা করা হয় বিজেপি নেতা দারা সিংহকে।

যদিও সংবাদসংস্থা লখনউ পুলিশের এক আধিকারিককে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে যে পুলিশের সন্দেহ এই খুনের পিছনে কমলেশের কোনও পুরনো সঙ্গী যুক্ত।