টানা ৬ বছর ধরে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার আগেভাগে আঁচ করতে গিয়ে হিসাবে কিছু ভুল হয়েছে। সেই হার যা হওয়ার কথা ছিল, তার চেয়ে তা অনেক বাড়িয়ে ভাবা হয়েছিল। দ্বিতীয় ইউপিএ জমানায় যেমন, প্রথম এনডিএ আমলেও। কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশে অবশ্য তা করা হয়নি। সেটা হয়েছিল টেকনোক্র্যাটদের জন্য। প্রযুক্তির অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁরা অতি-আশাবাদী ছিলেন বলে। তাঁর নিজের গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন দেশের প্রাক্তন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রহ্মণ্যন। তাঁর কথায়, ‘‘হারটা অন্তত আড়াই শতাংশ বাড়িয়ে ভাবা হয়েছিল।’’

সেই গবেষণায় যা যা জানা গিয়েছে, অরবিন্দ তা তুলে ধরেছেন সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিক ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ লেখা তাঁর নিবন্ধে। যা মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। হিসাবে সেই ভুলটা কোন সময়-পর্বে হয়েছিল, অরবিন্দ সেটাও স্পষ্ট জানিয়েছেন। লিখেছেন, ‘‘২০১১-’১২ অর্থবর্ষ থেকে ২০১৬-’১৭ অর্থবর্ষ, এই সময়ে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার বছরে গড়ে ছিল প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ। যা ৭ শতাংশ হবে ভাবা হয়েছিল।’’

অরবিন্দ মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন দ্বিতীয় মোদী সরকারে, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত। প্রবন্ধে অরবিন্দ লেখেছেন, ‘‘ভারতের অর্থনীতির রূপরেখা নির্ধারণে ভুল থেকে গিয়েছিল। আমার গবেষণায় যেটা উঠে এসেছে, তা হল; অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের পরিবর্তন আগাম অনুমান করার পদ্ধতিগুলির মধ্যে কিছু ভুল থেকে গিয়েছিল ওই সময়-পর্বে। তার ফলেই জিডিপি বৃদ্ধির হারের হিসাব কষতে ভুল হয়েছিল। সেই হার অনেকটাই বাড়িয়ে ভাবা হয়েছিল। তার ফলে, জিডিপি-র হার বাড়লেও তা দেশের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থানের নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ফলে, চাকরির বাজারে মন্দা আগেও যা ছিল, তা-ই থেকে গিয়েছে।’’

আরও পড়ুন- শিল্প চায় কম আয়কর, মন্ত্রক লক্ষ্যমাত্রাই​

আরও পড়ুন- অর্থনীতির চোখ এখন সুদ ও বর্ষায়​

মোদী সরকারের প্রাক্তন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অবশ্য বলেছেন, ‘‘এর পিছনে কোনও রাজনীতিক ছিলেন না। ছিলেন টেকনোক্র্যাটরা। প্রযুক্তির অগ্রগতির কথা মাথায় রেখে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি। বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সম্ভাব্য মন্দার বিষয়টি হিসাবে ততটা ধরা হয়নি।’’ অরবিন্দ এও জানিয়েছেন, ‘‘সেই হিসাবের গোলমালটা বেশি হয়েছিল দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের আমলে। আর সেটা সবচেয়ে বেশি হয়েছিল প্রথাগত নির্মাণশিল্পে।’’

হিসাবে গোলমালটা না ঘটলে কী হত? প্রাক্তন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ব্যাঙ্ক ব্যবস্থার সংস্কার ও কৃষির উন্নতিতে আরও আগে থেকে আরও গুরুত্ব আরোপ করা যেত।