ফলের প্রবণতা দেখেই বলেছিলেন, যাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার দেবেন, তাদেরই সমর্থন করবেন। অর্থাৎ বিজেপি এবং কংগ্রেস সবার জন্যই দরজা খোলা রেখেছিলেন। সেই জল্পনা জিইয়ে রেখেই ফের দুষ্মন্ত চৌটালা বললেন, ‘কেউ অচ্ছুত নয়’। জননায়ক জনতা পার্টি (জেজেপি) সুপ্রিমোর দাবি, হরিয়ানায় স্থায়ী সরকার গঠনের ‘চাবি’ এখনও তাঁর হাতেই রয়েছে।

৯০ আসনের হরিয়ানা বিধানসভায় কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। বিজেপি ম্যাজিক সংখ্যা (৪৬) থেকে ৬ আসন দূরে। কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ৩১। দুষ্মন্তের দলের প্রার্থীরা জিতেছেন ১০টি আসনে। ফলে বিজেপি-কংগ্রেস যেই সরকার গঠনের দাবি করুক, তার জন্য হয় নির্দলদের উপর, নয়তো দুষ্মন্ত চৌটালার জেজেপির মুখাপেক্ষী হতে হবে।

বিজেপি ইতিমধ্যেই নির্দল বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে ‘দাগী’ গোপাল কান্ডাকে নিয়ে। শুধু বিরোধী নয়, দলের অভ্যন্তরেও তীব্র সমালোচনা করেছেন উমা ভারতীর মতো নেত্রী। কান্ডা আবার দাবি করেছেন, তাঁর সঙ্গে আরও পাঁচ বিধায়ক রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত বিজেপি নির্দলদের সমর্থন নেবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

আবার কংগ্রেসের তরফে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোট গণনার দিনই যোগাযোগ করা হয়েছে দুষ্মন্ত চৌটালার সঙ্গে। কংগ্রেসকে সমর্থনের দাবি জানিয়েছেন দলের নেতৃত্ব। জেজেপি এবং কংগ্রেস দুই দল সূত্রেই খবর, কংগ্রেসের প্রস্তাবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোনওটাই বলেননি দুষ্মন্ত।

আরও পড়ুন: নেপথ্যে ‘ক্ষমতার দম্ভ’! মহারাষ্ট্রে খারাপ ফল নিয়ে বিজেপিকে তোপ দেগে চাপ বাড়াচ্ছে শিবসেনা

২০১৮ সালেই ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল লোক দল (আইএনএলডি) থেকে বেরিয়ে নতুন দল জেজেপি গঠন করেন দুষ্মন্ত। এক বছর পরেই বিধানসভা ভোটে ভাল ফল দলের। এ বার বিধানসভা ভোটে জেজেপির প্রতীক ছিল ‘চাবি’। শুক্রবার দলের জাতীয় কার্যকরী কমিটির বৈঠকের পরে দুষ্মন্তের দাবি, স্থায়ী সরকার গঠনের সেই ‘চাবি’ তাঁর কাছেই রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা কারও সঙ্গেই কথা বলিনি। এখনও সমর্থন নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’’

বিজেপি নাকি কংগ্রেস— এই প্রশ্নে কোনও সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেননি বা কারও পক্ষে স্পষ্ট মতও দিতে চাননি দুষ্মন্ত। সাংবাদিকদের তিনি জানান, দলের কেউ কেউ বিজেপির সঙ্গে জোট করার পক্ষে। অন্য এক দল আবার কংগ্রেসের সঙ্গে যাওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘ভোটে আমরা যে সব ইস্যু নিয়ে লড়াই করেছি কোনও দল যদি তাতে শামিল হয় এবং আমাদের যোগ্য সম্মান দেয়, তা হলে আমরা তাদের সমর্থন করব।’’ দোদুল্যমান পরিস্থিতিতে জল্পনা জিইয়ে রেখে তাঁর মন্তব্য, ‘‘বিজেপি বা কংগ্রেস কেউই অচ্ছুত নয়।’’

আরও পডু়ন: গোপাল কান্ডার সমর্থন প্রশ্নে দু’ভাগ বিজেপি, তীব্র ভর্ৎসনা বিরোধীদেরও

ভোট গণনার প্রাথমিক প্রবণতায় ইঙ্গিত মিলেছিল, কংগ্রেস ৩৪-৩৫টি আসন পেতে পারে। জেজেপির ঝুলিতে যেতে পারে ১১-১২টি আসন। বিজেপিও সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে বেশ খানিকটা দূরে থাকবে। কিন্তু চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর দেখা যায় কংগ্রেস এবং জেজেপি দু’জনেরই আসন কমে যায়। অন্য দিকে, বিজেপি প্রায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। ফলে দুষ্মন্তের দাবি অনেকটাই কমজোরি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার গঠনের দৌড়ে আপাতত পাল্লা ভারী বিজেপির। কিন্তু কান্ডা-ইস্যুতে পরিস্থিতি পাল্টানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই। সেটা হলে ফের নজর ঘুরবে দুষ্মন্তের দিকে। তাই আপাতত পরিস্থিতির উপর নজর রেখে দৌড়ে থাকতে চাইছেন দুষ্মন্ত। কিন্তু তাঁর সেই ‘চাবি’তে শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের তালা খুলবে কি না, সেটার জন্য আরও কিছু দিনের অপেক্ষা।