কাজের খোঁজে হাওড়ায় এসে দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত পুরুলিয়ার দুই বাসিন্দা। মারধর করে টাকাপয়সা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ। ঘটনাস্থল হাওড়া স্টেশন চত্বর। পিলখানায় প্রোমোটার খুনের পরে গোলাবাড়ি থানায় ফের দুষ্কৃতী-দৌরাত্ম্যে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।
পুলিশের একটি সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাতে পুরুলিয়া থেকে হাওড়া আসেন ঝালদার দুই বাসিন্দা। ট্রেন থেকে নেমে স্টেশনের বাইরে আসেন মহানগরে কাজের খোঁজে আসা দুই যুবক। অভিযোগ, স্টেশন থেকে খানিক দূরে গঙ্গার পারে দাঁড়িয়ে থাকার সময় তাঁদের উপর আচমকা অস্ত্র হাতে হামলা চালান কয়েক জন। মারধর করে টাকাপয়সা কেড়ে দু’জনকে মাটিতে ফেলে পালিয়ে যান দুষ্কৃতীরা।
পুরুলিয়া থেকে আসা দুই ব্যক্তি অনেক ক্ষণ ধরে রক্তাক্ত অবস্থায় গঙ্গার পারে পড়েছিলেন। পরে খবর পেয়ে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তাঁদের। হাসপাতাল সূত্রে খবর, দু’জনের দেহে নানা জায়গায় ধারালো অস্ত্রের ক্ষত রয়েছে।
ওই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে গোলাবাড়ি থানা এলাকায়। হাওড়া জেলা বিজেপির একটি প্রতিনিধিদল আহতদের দেখতে হাওড়া জেলা হাসপাতালে যায়। বিজেপির অভিযোগ, হাওড়া স্টেশন লাগোয়া এলাকায় দুষ্কৃতী তাণ্ডব বেড়েই চলেছে। শাসকদলের স্থানীয় নেতাদের আশ্রয় এবং প্রশ্রয়ে অপরাধের ঘটনা ঘটছে।
আরও পড়ুন:
দু’দিন আগে গোলাবাড়ি থানার পিলখানায় গুলি করে খুন করা হয় এক প্রোমোটারকে। সে নিয়ে চাপানউতর অব্যাহত। হাওড়া স্টেশনের বাইরে হামলার প্রেক্ষিতে রাজ্যের মন্ত্রী তথা হাওড়া মধ্য বিধানসভার বিধায়ক অরূপ রায় জানান, পুলিশি নজরদারি এবং পদক্ষেপের অভাব থেকে যাচ্ছে। জলদি এই বিষয়টি প্রশাসনের দেখা উচিত। তিনি বলেন, ‘‘যদি কড়া অ্যাকশন নেওয়া হয়, তা-হলে অভিযুক্তদের মধ্যে ভয় কাজ করে। মুখ্যমন্ত্রী যখন প্রথম পুলিশ কমিশনারেট করলেন, তখন পুলিশ এমন কাজ করেছিল যে, অপরাধীরা ভয়ে এলাকা ছেড়েছিল। দুষ্কৃতী-দৌরাত্ম্য কমে গিয়েছিল। এখন আবার খারাপ কর্মকাণ্ড হচ্ছে। কিন্তু সে ভাবে অ্যাকশন নেই পুলিশের। প্রশাসনকে বলব, কড়া পদক্ষেপ করুন।’’