Advertisement
E-Paper

৫০ হাজার টাকার কুর্তি নিয়ে ‘গ্যাংস অফ পিলখানা’র অশান্তি, প্রোমোটার খুনের নেপথ্যের কারণ বার করল পুলিশ

ভিন্‌রাজ্যের এক পোশাক ব্যবসায়ী অনলাইনে ৫০ হাজার টাকার কুর্তি অর্ডার করেছিলেন হাওড়ার ফোরশোর রোডের বাসিন্দা পারভেজ নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে। কিন্তু তাঁকে ছেঁড়া কুর্তি সরবরাহ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেখান থেকে হারুন বনাম সৌফিকের দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:১১
Howrah Shoot Out

(বাঁ দিকে) সৌফিক খান। হারুন খান (ডান দিকে)। —নিজস্ব ছবি।

হাওড়ার পিলখানায় প্রোমোটার সৌফিক খানের খুনের নেপথ্যে নানা কারণ উঠে আসছে। তবে ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে পোশাকের কারবার নিয়ে গন্ডগোলই মূল বলে মনে করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, মহিলাদের কুর্তি কেনা নিয়ে একটি গন্ডগোলই পিলখানায় শুটআউটে অনুঘটক হিসাবে কাজ করেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ভিন্‌রাজ্যের এক পোশাক ব্যবসায়ী অনলাইনে ৫০ হাজার টাকার কুর্তি অর্ডার করেছিলেন হাওড়ার ফোরশোর রোডের বাসিন্দা পারভেজ নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে। কিন্তু তাঁকে ছেঁড়া কুর্তি সরবরাহ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করে ভিন্‌রাজ্যের সেই ব্যবসায়ী যোগাযোগ করেন পিলখানাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত হারুন খানের সঙ্গে। হারুন পারভেজকে ফোন করে টাকা ফেরত দিতে বলেন। পারভেজ তাতে পাত্তা না-দিয়ে যোগাযোগ করেন সৌফিকের সঙ্গে। শুরু হয়ে যায় দুই আলাদা ‘গ্যাং’-এর মধ্যে অশান্তি।

তদন্তকারীদের দাবি, সৌফিক কেন এখানে নাক গলাচ্ছেন, তাই নিয়ে হারুনের সঙ্গে বচসা তাঁর বচসা শুরু হয়। তারই পরিণতি বুধবারের শুটআউট।

সৌফিককে খুনের আগে হারুন একবার দলবল নিয়ে পারভেজের কাছে গিয়ে তাঁকে হুমকি দিয়ে যান বলে খবর। তার পাল্টা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সৌফিক দলবল নিয়ে পিলখানায় হারুনকে খুঁজতে চলে গিয়েছিলেন। ঘটনাক্রমে বুধবার ভোরে হারুন এই শুটআউটে আর এক অভিযুক্ত রোহিতকে দিয়ে সৌফিককে ডেকে পাঠান। তার পরেই বাদানুবাদ এবং পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি।

স্থানীয় বিজেপি নেতা উমেশ রাইয়ের দাবি, সৌফিক এবং হারুন, দু’জনেই গলায় গলায় বন্ধু ছিলেন। সম্পর্কে চিড় ধরে কয়েক বছর আগে গোলাবাড়ি এলাকাতেই একটি গুলি চালানোর ঘটনায়। ওই মামলায় দু’জনেই একসঙ্গে জেল খাটেন। তার পর দু’জনের মধ্যে শত্রুতা শুরু হয়। জেল থেকে বেরিয়ে দু’জনে আলাদা আলাদা দল (গ্যাং) তৈরি করেন।

বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে এলাকায় নানা দুষ্কর্মের অভিযোগ ছিল সৌফিক এবং হারুন, দু’জনের বিরুদ্ধেই। বিরোধীদের দাবি, এঁদের বাড়বাড়ন্তের জন্য দায়ী শাসকদল। তৃণমূলের একাধিক স্থানীয় নেতার ছত্রছায়ায় দুই দলই বেড়ে উঠেছে। যদিও তৃণমূল ওই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে হাওড়া মধ্য বিধানসভার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায় জানান, তৃণমূলের সঙ্গে অভিযুক্তদের কোনও সম্পর্ক নেই। হারুনকে একদা তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে দেখা যেত, এই অভিযোগের জবাবে অরূপ বলেন, ‘‘তখন হয়তো কোনও অপরাধের সঙ্গে ওর নাম জড়ায়নি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘পুলিশ তদন্ত করছে। অপরাধীরা গ্রেফতার হবে।’’

প্রোমোটার খুনের পর দু’দিন কেটে গিয়েছে। পুলিশের হাতে তিন জন পাকড়াও হয়েছেন। কিন্তু মূল অভিযুক্ত হারুন এখনও অধরা। তা নিয়ে চাপা উত্তেজনা রয়েছে এলাকায়। নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না-ঘটে, সে জন্য এলাকায় পুলিশ পিকেট বসেছে।

Pilkhana Murder Case Crime Golabari PS
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy