ভোটের মধ্যেই ফের মাওবাদী হানা। মাওবাদী গেরিলাদের হানায় প্রাণ হারালেন এন্তত ১৫ জন কমান্ডো। মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গাড়ির চালকেরও।  রবিবারই এক বছর আগে সংগঠনের ৪০ জন গেরিলা এবং নেতা-নেত্রীর মৃত্যুর বদলা নেওয়ার হুমকি দিয়ে পোস্টার দিয়েছিল মাওবাদীরা।

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, উত্তর গঢ়চিরৌলীর কুরখেদা থেকে ছ’কিলোমিটার দূরে রাজ্য সড়কের উপর লেন্দরী পুলের কাছে ঘটনাটি ঘটেছে। রাস্তায় পেতে রাখা মাওবাদীদের আইইডি বিস্ফোরণে উড়ে যায় সি-৬০ কমান্ডোদের একটি গাড়ি।

বিষ্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে গোটা গাড়িটা টুকরো টুকরো হয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ওই গাড়িতে থাকা ১৬ জন সি-৬০ কমান্ডো ছিলেন। প্রত্যেককেই গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে পুলিশ জানতে পেরেছে বিস্ফোরণের পরেই ওই গাড়ি এবং আহত জওয়ানদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে গেরিলারা।

এ দিন ভোর রাত থেকেই ওই চত্বরে কার্যত তাণ্ডব চালায় মাও গেরিলারা। সেখানে তারা প্রায় তিন ডজন গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ১৫০ জনের  একটি দল ভোর রাত থেকে পুরাদা-ইয়েরকর ১৩৬ নম্বর জাতীয় সড়ক নির্মানের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং গাড়ির উপর হামলা চালায়।

সেই খবর পেয়েই কমান্ডোদের ওই দল ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছিল বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য মঙ্গলবার থেকে গোটা রাজ্যে পালন করা হচ্ছে মহারাষ্ট্র দিবস। তার মাঝেই এই বড়সড় হামলা চালাল মাওবাদীরা।

আরও পড়ুন: ২০৫ কিমি বেগে গোপালপুর-চাঁদবালির উপর শুক্রবার আছড়ে পড়তে পারে ফণী

আরও পড়ুন: ‘বদলার খিদে মেটেনি’, ভারত ও বাংলাদেশে নতুন করে সন্ত্রাসের হুমকি দিল আইএস

তবে এই ধরণের হামলা যে হবে তার ইঙ্গিত গত কয়েকদিন ধরেই পাওয়া যাচ্ছিল। ঠিক এক বছর আগে গঢ়চিরৌলীর কাসনাসুর এবং নায়নারে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারান সিপিআই মাওবাদী সংগঠনের ৪০ জন। তাঁদের মধ্যে ওই জেলার বেশ কিছু প্রথম সারির নেতৃত্বও ছিলেন।

এ বছর গণপতির কাছ থেকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বভার নেওয়ার পরেই ওই ঘটনার বদলা নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন বাসবরাজ। তার পর থেকেই গঢ়চিরৌলীতে নতুন করে সংগঠন সাজানোর কাজ শুরু করা হয় বলে গোয়েন্দাদের দাবি।

গত শুক্রবার ভামড়াগড় এলাকার কোটি গ্রামের কাছে সি-৬০ কমান্ডোদের একটি গাড়িতে আইইডি বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করে মাওবাদীরা। মহারাষ্ট্র পুলিশের দাবি, আগে থেকেই সজাগ থাকায় বড়সড় ক্ষতি রোখা সম্ভব হয়। পাল্টা আঘাত হানে কমান্ডোরা। পুলিশের দাবি, পাল্টা হামলায় প্রাণ হারাণ মাওবাদীদের ডিভিশনাল কমিটির সদস্য কমলা নারোট ওরফে রামকরো শিল্পা ধ্রুব। কিন্তু তারপরও কেন মাওবাদীরা বুধবার ভোর রাত থেকে জাতীয় সড়ক নির্মাণস্থলে তাণ্ডব চালাল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।  

গঢ়চিরৌলীর ওই হামলার ঘটনার কয়েকদিন আগেই ছত্তীসগঢ়ে হামলা চালায় মাওবাদীরা। তাদের হামলায় বিজেপির এক বিধায়ক সহ প্রাণ হারান পাঁচজন।