সমকামী নারী-পুরুষ, ট্রান্সজেন্ডার ও পুরুষ যৌন কর্মীদের জন্য ধরে মুম্বই এলাকায় কাজ করছে হামসফর ট্রাস্ট। গে, লেসবিয়ান, ট্রান্সজেন্ডারের সাহায্য করা ও এডসের জন্য দায়ী এইচআইভি ভাইরাস নিয়ে সচেতনতা প্রসারের লক্ষ্যে গত ২০ বছর কাজ করে যাচ্ছে এই সংস্থা। সেই লক্ষ্যপূরণের জন্য সম্প্রতি তারা তৈরি করল দেশের প্রথম এইচআইভি ট্রিটমেন্ট সেন্টার। সেই সেন্টারে চিকিৎসা করা হবে লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল ও ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের মানুষদেরও।

এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে সংক্রমণ যাতে বেশি মাত্রায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে জন্য অ্যান্টি রেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। হামসফর ট্রাস্টের চালু করা এই ক্লিনিকে থাকবে এআরটি-র ব্যবস্থা। এ ছাড়া বিনামূল্যে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে এই ক্লিনিকে।

এলজিবিটি কমিউনিটির জন্য এই ক্লিনিক খোলার কারণও জানিয়েছেন হামসফরের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন অশোক রো কবি। তিনি বলেছেন, ‘‘এই ক্লিনিক শুরুর আগে অবধি আমরা এখানেই এইচআইভি টেস্ট করাতাম। টেস্টের ফল পজিটিভ হলে আমরা নিকটবর্তী সিওন হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দিতাম। কিন্তু তাতে এলজিবিটি কমিউনিটির অধিকাংশ এইচআইভি পজিটিভ রোগী কিছুদিন চিকিৎসা করানোর পর বন্ধ করে দিত। এর কারণ, এলজিবিটি সম্প্রদায়ের প্রতি সমাজের একটা বড় অংশের মনোভাব।’’ সে জন্যই এই ক্লিনিক খোলা হল বলে জানিয়েছেন হামসফরের চেয়ারপার্সন।

এইচআইভির চিকিৎসা কমিউনিটি নির্ভর করার ফলে এইচআইভি পজিটিভ রোগীর সংখ্যা গত ২০ বছরে অনেক কমেছে বলে জানিয়েছেন মুম্বই ডিস্ট্রিক্ট এডস কন্ট্রোল সোসাইটির ডাক্তার শ্রীকলা আচার্য। তিনি বলেছেন, ‘‘চার হাজার সমকামী পুরুষের আমরা নিয়মিত স্ক্রিনিং করে থাকি। তাঁদের মধ্যে মাত্র ২৫৩ জন রয়েছেন যাঁরা এইচআইভি পজিটিভ।’’

আরও পড়ুন: ভুলবশত ভারতে অনুপ্রবেশ, পাক প্রৌঢ়কে দেশে পাঠিয়ে সৌজন্য দেখাল ভারত