৩৫০? ৪০০? ৩৫? 

পাকিস্তানের বালাকোটে বায়ুসেনার অভিযানের পরে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জঙ্গিমৃত্যুর যে ক’টি সংখ্যা এ পর্যন্ত সামনে এসেছে, সবই ‘সূত্রের দাবি’! নানা সূত্রের নানা দাবি নিয়ে তাই জল্পনাও বেড়েছে। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এসএস অহলুওয়ালিয়া বলেছেন, বায়ুসেনা হামলায় ৩৫০ জঙ্গি মারার কথা সরকারের কেউ বলেননি। আর কোনও প্রাণহানিও হয়নি। কারণ জঙ্গি ঘাঁটির সামনে ফাঁকা জায়গায় বোমা ফেলে পাকিস্তানকে শুধু বার্তা দেওয়া হয়েছিল। ফলে ধন্দ আরও বেড়েছে। এ বারে ‘জানা’ গেল, ২৫০-র বেশি জঙ্গি মারা গিয়েছে বায়ুসেনার হামলায়। যে সে ব্যক্তি নন, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ নিজেই রবিবার আমদাবাদে জানালেন বায়ুসেনার হামলায় নিহত জঙ্গির সংখ্যাটা। তাঁর কথায়, ‘‘পুলওয়ামায় হামলার পরে সবাই ভেবেছিল, এই সময় সার্জিকাল স্ট্রাইক করা যাবে না। এ বারে কী হবে? তখনই মোদী সরকার ১৩ দিনের মাথায় বায়ুসেনার অভিযান চালিয়ে ২৫০-র বেশি জঙ্গিকে মেরেছে।’’ 

অমিত শাহ এমন দিনে এই সংখ্যাটা জানালেন, যার পরের দিন নিজের রাজ্য গুজরাতে যাচ্ছেন মোদী। তাঁকে স্বাগত জানাতে রাজ্য জুড়ে যে পোস্টার পড়েছে, তাতে বন্দুক হাতে মোদীর ছবির পাশে লেখা, ‘না ঝুঁকব, না থামব। রক্ততিলক পরে গুলির আরতি করব।’ 

সোজা কথায়, সর্বত্র একটা যুদ্ধ-মার-কাট রব তুলে দিচ্ছেন মোদী ও তাঁর সেনাপতিরা। শরিক দলের নেতা রামবিলাস পাসোয়ান ইতিমধ্যেই বলেছেন, ‘‘৫৬ নয়, সার্জিকাল স্ট্রাইকের পর প্রধানমন্ত্রীর ছাতি এখন ১৫৬ ইঞ্চি!’’ দিল্লির বিজেপি সভাপতি মনোজ তিওয়ারি রীতিমতো সেনার পোশাক পরে বাইক মিছিল করে ভোট চাইছেন! 

আরও পড়ুন: মাসুদের মৃত্যুর কথা অস্বীকার করছে পাকিস্তান, নতুন দাবি সংবাদমাধ্যমে

বিরোধীরা বুঝতে পারছেন, জাতীয়তাবাদের হাওয়া তুলে ‘রুটি-রাফাল-রোজগার’ এবং গত পাঁচ বছরের সব ব্যর্থতাকে মুছে দিতে মরিয়া মোদী এবং তাঁর সঙ্গীরা। 

মায়াবতী আজ বলেন, ‘‘জওয়ান মৃত্যুর ঘটনাকে সামনে রেখে বিজেপি, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নিজের সরকারের ব্যর্থতাকে ঢাকতে চাইছেন।’’ কংগ্রেসের দিগ্বিজয় সিংহ বলেন, ‘‘বায়ুসেনার হামলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছি না। কিন্তু খোলা জায়গায় হামলা হলে স্যাটেলাইটের ছবি দেখিয়ে সরকার প্রমাণ দিক। আমেরিকাও লাদেনকে মেরে গোটা দুনিয়ার সামনে প্রমাণ দিয়েছে।’’ যদিও কিছু সংবাদমাধ্যমের দাবি, সরকারের কাছে বায়ুসেনার অভিযানের স্যাটেলাইট ছবি আছে। যথাসময়ে তা প্রকাশ করা হবে এবং নিজেদের দাবির প্রমাণ দেওয়া যাবে। 

আপাতত যুদ্ধ-দেশপ্রেম-জাতীয়তাবাদ নিয়ে বিরোধীরা যত বেশি বিতর্কে জড়াচ্ছেন, তত খুশি হচ্ছে বিজেপি। ঘরোয়া স্তরে দলের একাধিক নেতা বলছেন, ভোটের আগে বিতর্ক যত এ সবের আশেপাশে বেঁধে রাখা যাবে, ততই লাভ। জাতীয়তাবাদের ধুয়ো তোলায় এই মুহূর্তে বিজেপিকে টেক্কা দেওয়ার কেউ নেই। সে কারণেই আজ সরকারে মোদীর সেনাপতি অরুণ জেটলি আজ একটি দীর্ঘ ব্লগ লিখে এই বিষয়েই মনমোহন সিংহ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন। 

জেটলি লিখেছেন, একুশটি বিরোধী দলের বিবৃতিকে পাকিস্তান ‘তুরুপের তাস’ হিসেবে নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তো হামলার সত্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তবে জেটলির মতে, সব থেকে হতাশাজনক হল মনমোহন সিংহের বিবৃতি। তিনি ভারত-পাকিস্তানকে এক সারিতে ফেলে উভয়েই ‘পাগলের মতো ধ্বংসের দিকে দৌড়চ্ছে’ বলে মত প্রকাশ করেছেন। ভারতের জন্য উদ্বেগ না জানিয়ে নিজেকে নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষ হিসেবে মেলে ধরেছেন।

কংগ্রেসের রণদীপ সুরজেওয়ালা পাল্টা বলেন, ‘‘নিজের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে ‘ব্লগ মন্ত্রী’ আবার নিজের ছন্দে ব্যঙ্গ করে মনমোহন সিংহকে আক্রমণ করছেন। মনমোহন জমানায় কমপক্ষে পাঁচটি সার্জিকাল স্ট্রাইক হয়েছে। কিন্তু তিনি সেনার বীরত্বকে ভোটের প্রচারপত্রে ছাপাননি।’’