লোকসভা ও রাজ্যসভার বর্তমান ও প্রাক্তন সব সদস্যই স্ত্রী বা স্বামীকে নিয়ে সব ট্রেনের প্রথম শ্রেণিতে নিখরচায় দেশের যে-কোনও প্রান্তে সফর করতে পারেন। সাংসদদের সহকারীরাও নিখরচায় ট্রেন সফরের সুযোগ পান, তবে দ্বিতীয় শ্রেণিতে। অর্থাৎ ওই সব সফরের খরচ ভর্তুকি দিতে হয়। কিন্তু সেই ভর্তুকির ব্যাপক অপচয় হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় প্রাক্তন ও বর্তমান সাংসদদের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে টিকিট কাটার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করছে রেল। 

কোনও সাংসদ, তাঁর স্ত্রী বা স্বামী এবং সহকারীর জন্য সংরক্ষিত শ্রেণিতে টিকিট কাটার ক্ষেত্রে যাত্রীর বিবরণ সংক্রান্ত তথ্য যাতে ঠিকমতো নথিভুক্ত হয়, সেই বিষয়ে লক্ষ রাখার জন্য রেলের সব জ়োনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টিকিট সংরক্ষণ কাউন্টারের কর্মীরা যাতে ওই সব তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে বিশেষ ভাবে যত্নবান হন, রেল বোর্ডের তরফে চিঠি লিখে সেই জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে সব জ়োনকেই। চিঠিতে জানানো হয়েছে, সাংসদদের তরফে সংরক্ষিত শ্রেণিতে টিকিট কাটার অনুরোধ এলে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা যেন নিয়মমাফিক প্রয়োজনীয় সব তথ্য চেয়ে নেন। রেল বোর্ডের তরফে ১৪ অগস্ট ডিরেক্টর (প্যাসেঞ্জার মার্কেটিং) শেলি শ্রীবাস্তব সব জ়োনের কর্তাদের চিঠি দিয়ে ওই তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে বিশেষ ভাবে সচেতন হতে বলেছেন। 

রেল সূত্রের খবর, অনেক সাংসদ এবং তাঁদের স্ত্রী বা স্বামী ও সহকারীদের ট্রেনে যাতায়াতের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, সেখানে প্রায়শই যাত্রীদের বয়স সংক্রান্ত তথ্য ঠিকমতো দেওয়া হয় না। আসন সংরক্ষণ কেন্দ্রে সাংসদদের পরিচয়পত্রের নম্বর ব্যবহার করে যে-সব টিকিট কাটা হয়, সেখানেও ওই তথ্য ঠিকমতো দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ। অডিটে বিষয়টি ধরা পড়ায় রাজ্যসভার সচিবালয়ে এই নিয়ে আপত্তি ওঠে। তার পরেই সাংসদদের প্রাপ্য কোটায় টিকিট কাটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের ট্রেনযাত্রা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য (নাম, বয়স, লিঙ্গ) দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়। টিকিট সংরক্ষণ কেন্দ্রের আধিকারিকদের কাছে সাংসদদের পরিচয়পত্রের নম্বর ব্যবহার করে টিকিট কাটার অনুরোধ এলে সংশ্লিষ্ট ট্রেনযাত্রীর যাবতীয় ব্যক্তিগত তথ্য চেয়ে নিতে হবে তাঁদেরই। 

বিশেষ করে সাংসদ এবং প্রাক্তন সাংসদদের নামে টিকিট কাটার ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহের এই বাড়তি তৎপরতা কেন? রেলকর্তারা এই বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাইছেন না। তবে রেল সূত্রের খবর, টিকিট সংরক্ষণের সময় সাংসদদের পরিচয়পত্রের নম্বর দেওয়া হলেও প্রায়ই প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য এড়িয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। এর ফলে সাংসদের সহকারী হিসেবে কে ট্রেন সফর করলেন, রেলের পক্ষে অনেক সময়েই তা জানা সম্ভব হয় না। অনেক কর্তব্যরত টিকিট পরীক্ষকও সাংসদদের পদমর্যাদার কথা ভেবে প্রায় কিছুই জানতে চান না বলেও অভিযোগ। ফলে কোথাও কোনও ভাবে ওই পরিচয়পত্রের অপব্যবহার হচ্ছে কি না, রেলের পক্ষে সেটাও বোঝা সম্ভব হয় না। তাই ভর্তুকির অপচয় বন্ধ করতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করছেন রেলকর্তাদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, এমনিতেই রেলের ভাঁড়ারের অবস্থা ভাল নয়। নানা ভাবে আয় বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে ভর্তুকির অপচয় ঠেকাতে পারলে কিছুটা সাশ্রয় হতে পারে।