দীপিকা পাড়ুকোনের পর এ বার করণী সেনার রোষের মুখে রাজস্থানের এক মন্ত্রী। রাজপুত সম্প্রদায়কে অসম্মানের অভিযোগে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী কিরণ মহেশ্বরীর নাক-কান কেটে নেওয়ার হুমকি দিল সেনা।  অভিযোগ, রাজপুত সম্প্রদায়কে ‘ইঁদুর’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন কিরণ। সেনার দাবি, অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে কিরণকে। না হলে তাঁর নাক-কান কেটে নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার একটি ভিডিয়ো বার্তায় কিরণকে ওই হুমকি দিয়েছেন রাজ্য করণী সেনার প্রধান মহিপাল সিংহ মাকরানা। যদিও সেনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কিরণ। তবে কিরণের এই ‘মন্তব্য’ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে কিরণের সমালোচনায় মুখর হয়েছে রাজ্যের বিরোধী দল কংগ্রেসও।

ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার জয়পুরে। রুটিনমাফিক সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন কিরণ। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে বিজেপি-র বিরুদ্ধে প্রচার শুরু করেছে রাজপুত সম্প্রদায়ের একটি সংগঠন ‘সর্ব রাজপুত সমাজ সংঘর্ষ সমিতি’। তা নিয়েই একটি প্রশ্নের জবাবে কিরণ বলেন, “অ্যায়সে লোগ হ্যায় যো বরসাতি চুঁহে, যো চুনাও আতে হি বিলোঁ সে নিকল আতে হ্যায়। (বর্ষার ইঁদুরের মতো এমন কিছু লোক আছেন, যাঁরা নির্বাচনের সময় এলেই গর্ত থেকে বেরিয়ে আসেন।)”

আরও পড়ুন
৩০১৩ সালের টিকিট! ১৩ হাজার জরিমানা রেলের

করণী সেনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কিরণ মহেশ্বরী। ছবি: ফেসবুকের সৌজন্যে।

শিক্ষামন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পরই রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয় করণী সেনা। পরের দিনই জয়পুরে একটি বৈঠক ডাকেন শ্রী রাজপুত করণী সেনার প্রধান মহিপাল। সেখানেই কিরণকে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ওই মন্তব্যের জন্য অবিলম্বে ক্ষমা না চাইলে গুরুতর ফলভোগ করতে হবে বলে একটি ভিডিয়ো বার্তা প্রকাশ করেন। ভিডিয়োতে মহিপাল বলেন, “রাজপুত সম্প্রদায়ের মদতেই রাজ্যে শক্তিশালী হয়েছে বিজেপি। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই ‘ইঁদুর’-দের ভোটেই জিতেছেন মহেশ্বরী। সুতরাং আগামী ভোটে তাঁকে আমরাই শিক্ষা দেব।” মহিপাল জানিয়েছেন, মহেশ্বরীর নিজের কেন্দ্র রাজমসন্দে ৪০ হাজার রাজপুত ভোটার রয়েছেন। ফলে তাঁদের কথা ভেবেও ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত মহেশ্বরীর। পাশাপাশি, সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর ছবি ‘পদ্মাবত’-এর কথাও কিরণকে মনে করিয়ে দিয়েছেন মহিপাল। রাজপুত সম্প্রদায়কে অসম্মানের অভিযোগে গত বছর ‘পদ্মাবত’-এর নায়িকা দীপিকা পাড়ুকোনের নাক কেটে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল সেনা। গোটা বিষয়ে বসুন্ধরা রাজে সরকারের বিবৃতিও দাবি করেছেন মহিপাল।

আরও পড়ুন
ভিডিও ভাইরাল, পরিবার ফিরে পেলেন নব্বই বছরের বৃদ্ধ!

মহিপালের হুমকির ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই তা ভাইরাল হয়েছে। তবে সেনার অভিযোগ মানতে নারাজ মহেশ্বরী। তাঁর দাবি, রাজপুতদের বিরুদ্ধে এ ধরনের আপত্তিকর কোনও মন্তব্যই করেননি তিনি। বরং রাজপুত সম্প্রদায়কে উস্কানি দিতেই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে করা তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করা হয়েছে। তবে সে কথায় চিঁড়ে ভেজেনি। ঘটনার নিন্দা করে মহেশ্বরীর সমালোচনায় মুখর হয়েছেন রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি সচিন পাইলট। সেনার মতোই তাঁর দাবি, গোটা রাজপুত সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে মহেশ্বরীকে। তিনি বলেন, “কুরুচিকর মন্তব্য করে রাজ্যের মানুষ তথা সম্প্রদায় এবং রাজনৈতিক দলগুলিরও ভাবাবেগে আঘাত করছে বিজেপি। এটা আপত্তিজনক। রাজপুত সম্প্রদায়ের কাছে শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া উচিত।”