চলন্ত গাড়ির পাশ দিয়ে একটা ইংরেজি গানের সঙ্গে নেচে নেচে যাচ্ছেন এক মহিলা। রিজওয়ানা মির নামে এক মহিলার ভিডিয়ো পোস্ট ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

রিজওয়ানার ভিডিয়ো ফেসবুকে পোস্টে দেখেই নড়েচড়ে বসে গুজরাত পুলিশ। তাদের তরফে সতর্কবার্তা হিসাবে বলা হয়, এ ধরনের ‘স্টান্ট’ যেন কখনওই করতে না যান।

ব্লু হোয়েলের মতো মারণ গেম কি না জানা নেই, কিন্তু ‘কিকি চ্যালেঞ্জ’ নামে একটি বিপজ্জনক বিষয় ফের ভাইরাল হয়ে উঠেছে নেটিজেনদের মধ্যে। এমনকি, কলকাতার এক অভিনেত্রীকেও এই চ্যালেঞ্জ নিতে দেখা গিয়েছে। অভিনেত্রী দর্শনা বণিককে দেখা গিয়েছে এই ভিডিয়োতে। গাড়ি চলছে, সঙ্গে সঙ্গে তিনিও রাস্তায় নেচে চলেছেন। আবার উঠে পড়ছেন গাড়িতে।

দেখুন ভিডিয়ো

 

 

কানাডার গায়ক ড্রেকের গান, ‘ইন মাই ফিলিংস’-এর সঙ্গে মাঝ রাস্তায় নাচতে নাচতে যাচ্ছিলেন রিজওয়ানা। একই স্টান্ট করতে দেখা গিয়েছে কলকাতার অভিনেত্রীকেও। যদিও এ ব্যাপারে তাঁর কোনও বক্তব্য মেলেনি।

কী এই ‘কিকি চ্যালেঞ্জ’ বা ‘ইন মাই ফিলিংস’ চ্যালেঞ্জ?

বেশ কিছু ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে যাঁরা এই চ্যালে়ঞ্জ নিচ্ছেন, তাঁরা চলন্ত গাড়ি থেকে নেমে গানের তালে নেচে আবার গাড়ির সিটে গিয়ে বসছেন৷ গাড়িটিকে অবশ্যই চলন্ত অবস্থায় থাকতে হবে৷ এখানেই উঠেছে প্রশ্ন৷ কারণ এই চ্যালেঞ্জ একেবারেই নিরাপদ নয় বলেই মনে করছেন অধিকাংশ মানুষ৷

মুম্বই ও গুজরাত পুলিশের তরফ থেকে ‘কিকি চ্যালেঞ্জ’ নিয়ে টুইটারে নেটিজেনদের এ বিষয়ে সাবধানও করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রুশ বাহিনীর লেডি কিলার, এঁদের ভয় পেতেন হিটলারও

৩০ জুন, মার্কিন ইন্টারনেট কমেডিয়ান শিগি, শুরু করেছিলেন এই আজব চ্যালেঞ্জটি। ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ারের সংখ্যা প্রায় ১০.৬ লক্ষ।  ওই ডান্স ভিডিয়োর নাম ছিল "কিকি চ্যালেঞ্জ"। এর পর থেকে সারা বিশ্বের লক্ষাধিক মানুষ কিকি চ্যালেঞ্জের ভিডিও পোস্ট করতে শুরু করে দেন। বাদ পড়েননি উইল স্মিথের মতো তারকাও।
সারা বিশ্ব জুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই চ্যালেঞ্জ গেম খেলছেন অনেকেই। এই গেম থাবা বসিয়েছে মুম্বই, ভদোদরা-সহ উত্তরপ্রদেশের কয়েকটি জায়গাতেও। এই চ্যালেঞ্জে নাম লেখাচ্ছেন সারা বিশ্বের সাধারণ মানুষ থেকে সেলিব্রিটিরাও।

 

কিন্তু চলন্ত গাড়ি থেকে নামা আবার উঠে পড়া, এই জাতীয় ঝুঁকির দিকে মানুষ বারবার কেন ঝুঁকছে, এই প্রসঙ্গে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অভীক লায়েক বলেন, ‘‘মানুষ খুব তাড়াতাড়ি বিখ্যাত হতে চাইছে। তাই এ ধরনের প্রবণতা আরও বেড়ে চলেছে। একাকীত্বে ভোগা মানুষ জন আরও বেশি করে এ ধরনের স্টান্টে উৎসাহী সমাজতাত্ত্বিক-অধ্যাপিকা বাসবী চক্রবর্তী জানান, ‘‘অস্থিরতার থেকেই এ জাতীয় গেমে উৎসাহ বাড়ছে। সাময়িক উত্তেজনার থেকে দূরে থাকার ব্যাপারে বোঝাতে হবে বড়দেরই। কিন্তু বড়রা নিজেরাও যদি এ জাতীয় চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাতামাতি করেন। তা চিন্তার বিষয়।’’

র‌্যাপ করেই নিরাপত্তা বার্তা বিমান কর্মীর ! দেখুন ভিডিয়ো