আগামীকাল লখনউতে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকের ডাক দিলেন সমাজবাদী পার্টি নেতা অখিলেশ যাদব এবং বহুজন সমাজ পার্টির প্রধান মায়াবতী। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে সপা-বসপা জোটের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতেই এই সাংবাদিক বৈঠক, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

উত্তরপ্রদেশে লোকসভা নির্বাচনে  সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টির জোট নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষকর্তাদের মধ্যে চলছিল একের পর এক বৈঠক। জোট হচ্ছে, সেই ইঙ্গিত ছিল বেশ জোরালোই। রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো চলছিল, কংগ্রেসকে বাদ দিয়েই মহাজোট গড়ার রাস্তায় এগোচ্ছে সপা এবং বসপা। শেষ পর্যন্ত সেই ইঙ্গিতই হয়তো চূড়ান্ত রূপ পেতে চলেছে শনিবার। অখিলেশ এবং মায়াবতীর যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে সেই ঘোষণাই করা হবে, এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া খবরে জানা যাচ্ছে কংগ্রেসকে বাদ দিয়েই মহাজোট গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে সপা এবং বসপা থিঙ্কট্যাঙ্ক।

আপাতত যা সমীকরণ দাঁড়িয়েছে, তাতে ৮০টি লোকসভা আসনের উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টি, এই দুই দলই ৩৭টি করে আসনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কংগ্রেসের জন্য মাত্র দু’টি আসন ছাড়তে রাজি হয় তাঁরা। সেই দু’টি আসন হল রায়বরেলি এবং অমেঠি, যা কংগ্রেসের এক প্রকার দুর্গই বলা চলে। এই দু’টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে থাকেন ইউপিএ চেয়ারপার্সন সনিয়া গাঁধী এবং কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী। এই রফায় রাজি হওয়া সম্ভব ছিল না কংগ্রেসের পক্ষে। সেই কারণে কংগ্রেসকে বাদ দিয়েই মহাজোটের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে ফেলার পথে সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টি, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন: রাজ-শক্তি, সিবিআই ডিরেক্টরের পদ ফিরে পাওয়ার দু’দিনের মাথাতেই বিদায় বর্মার

কংগ্রেসকে মহাজোটে নেওয়া হচ্ছে কিনা, সেই প্রশ্নের জবাবে মুলায়ম সিংহ যাদবের ভাই অখিলেশের কাকা রামগোপাল যাদব জানিয়েছেন, ‘‘কাল্পনিক কথা বলছেন কেন? জোট কী, সেটা আপনারা বুঝতে চেষ্টা করুন। তার পরই কথা বলুন।’’ সূত্রের খবর, সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টি ছাড়াও এই জোটে সামিল হতে পারে নিষাদ পার্টি এবং রাষ্ট্রীয় লোক দলের মতো দু-একটি ছোট দলও।

২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে জোট করে নির্বাচনে লড়েছিল বিজেপি এবং আপনা দল। সেই নির্বাচনে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টিকে ধুয়ে মুছে সাফ করে ৮০টির মধ্যে ৭৩টি আসনে জিতেছিল এনডিএ। ২০১৭ বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় আসতে চেয়েছিল সমাজবাদী পার্টি। কিন্তু সেই সমীকরণও ব্যর্থ হয় শোচনীয় ভাবে। বিপুল ভোটে জিতে উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় এসেছিল বিজেপি, মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। সেই অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই নিজেদের অস্তিত্বের নিরিখে জোটের রাস্তায় আসতে বাধ্য হল সপা-বসপা, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন: প্রতিবাদ না করলে ‘শত্রু’ বাঙালিরা, হুমকি পরেশের

সপা-বসপা জোটের ইঙ্গিত মিলেছিল গত বছরই। উত্তরপ্রদেশে তিনটি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে পরীক্ষামূলক ভাবে জোট করে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সপা-বসপা। গোরখপুর, ফুলপুর, কৈরানা, এই তিনটি আসনেই বিজেপিকে হারিয়ে জিতেছিল জোট। এই জোট যে ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলতে পারে, মিলেছিল সেই ইঙ্গিত। মুসলিম, নিম্নবর্গ (দলিত) এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের ভোটব্যাঙ্ক এক সঙ্গে ভোট দিয়েছিল এই জোটকে। পাশাপাশি অখিলেশ এবং মায়াবতী, এই দু’জনের পাশাপাশি দলের বিভিন্ন নেতা-নেত্রীকে ফাঁসানো হচ্ছে বিভিন্ন সিবিআই মামলায়, ছিল সেই অভিযোগও। দীর্ঘ দিনের শত্রুতা আর রেষারেষি কাটিয়ে কাছে আসার শুরু এ ভাবেই। আর তা চূড়ান্ত রূপ পেতে চলেছে সম্ভবত শনিবারই।

আরও পড়ুন: দিল্লির ভার রাহুল দিলেন শীলাকেই

সপা-বসপা জোটের প্রভাব সব থেকে বেশি পড়বে বিজেপির ওপরেই। উত্তরপ্রদেশে যে গত লোকসভা নির্বাচনের মতো ফল করতে পারবে না বিজেপি, তা নিয়ে নিশ্চিত সবাই। কিন্তু তাদের ভোটবাক্সে কতটা থাবা বসাতে পারবে এই জোট, এখন চলছে সেই হিসেব-নিকেশের পালা। উভয় সঙ্কটে পড়েছে কংগ্রেসও। কারণ মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সারা দেশে মহাজোট গড়ার দাবি নিয়ে এখন তৎপরতা দেখাতে ব্যস্ত রাহুল গাঁধী। তাঁর সঙ্গে আছেন চন্দ্রবাবু নাইডুও। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উত্তরপ্রদেশে সব আসনে প্রার্থী দিলে সেই জোটের বার্তা মুখ থুবড়ে পড়তে পারে, এই চিন্তাই এখন সব থেকে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের কাছে।

(ভোটের খবর, জোটের খবর, নোটের খবর, লুটের খবর- দেশে যা ঘটছে তার সেরা বাছাই পেতে নজর রাখুন আমাদের দেশ বিভাগে।)