প্রচার হয় না, তবুও এই গ্রামে ভোট পড়ে ৯৬ শতাংশ!
রাজসমাধিয়ালার গ্রামোন্নয়ন কমিটি গ্রামবাসীদের জন্য আলাদা নিয়ম বানিয়েছে নির্বাচন নিয়ে। যেমন, কোনও প্রার্থীই এই গ্রামে প্রচার চালাবেন না।
gujrat

গুজরাতের গ্রাম রাজসমাধিয়ালা।

ভোট এলেই প্রতিশ্রুতির ঢল নামে। ভোটপ্রচারের নানা কৌশল নেন প্রার্থীরা। দেশ জুড়ে সর্বত্রই একই ছবি। সেখানে সম্পূর্ণ অন্য ছবি রাজসমাধিয়ালায়। গুজরাতের এই গ্রামে কোনও প্রচার হয় না। অথচ ভোটের হার ৯৫ থেকে ৯৬ শতাংশ!

রাজসমাধিয়ালার গ্রামোন্নয়ন কমিটি গ্রামবাসীদের জন্য আলাদা নিয়ম বানিয়েছে নির্বাচন নিয়ে। যেমন, কোনও প্রার্থীই এই গ্রামে প্রচার চালাবেন না। গ্রামের প্রতিটা ভোটারকেই নিজের ভোট দিতে হবে। না হলে ৫১ টাকা জরিমানা। রাজসমাধিয়ালার গ্রামোন্নয়ন কমিটির সদস্যদের মতে, ভোটপ্রচার গ্রামের পরিবেশ নষ্ট করে। তাই গ্রামবাসীরাও গ্রামোন্নয়ন কমিটির এই অলিখিত নিয়ম মেনে নিয়েছেন।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল, যেখানে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে দেশ জুড়ে প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি নানান কিছু করছেন, হেমা মালিনী মাঠে গিয়ে কাস্তে হাতে ধান কাটছেন, ভোট পেতে কর্নাটকের মন্ত্রী নাগরাজের ‘নাগিন ডান্স’-এর মতো বহু উদাহরণ রয়েছে, সেখানে এই গ্রামে বিন্দু মাত্র প্রচার ছাড়াই ভোটারদের প্রায় সকলেই ভোট দেন। ৯৫-৯৬ শতাংশ ভোট পড়ে এই গ্রামে।

আরও পড়ুন: কাজ না করলে নকুলের জামা ছিঁড়ে নেবেন! ছেলের প্রচারে গিয়ে বললেন কমল নাথ

পঞ্চায়েত প্রধান ভাঘেরা বলেন, ‘‘প্রতিবারই আমাদের লক্ষ্য থাকে ১০০ শতাংশ ভোট দেওয়ার। কিন্তু ভোটার তালিকায় এমন অনেক প্রার্থী রয়েছেন, যাঁদের হয়তো অনেকেই বর্তমানে মৃত। অনেকেই বিয়ে হয়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। তালিকা থেকে নাম না কাটায় সেগুলোও এর মধ্যে ধরতে হচ্ছে।’’

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

গুজরাতের এই গ্রামে প্রায় সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। প্রতিটা গ্রামবাসীর জন্য ফ্রি ওয়াইফাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রামবাসীদের নিরাপত্তার জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা, পানীয় জলের ব্যবস্থা আর খেলাধুলোর জন্য জেলাস্তরের একটি ক্রিকেট মাঠ রয়েছে। যত্রতত্র প্লাস্টিক ফেললেও জরিমানা দিতে হয় এই গ্রামে।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত