গত ৪৫ বছরে বেকারত্বের হার সর্বোচ্চে এসে ঠেকেছে। অথচ নির্বাচনে কোটি কোটি টাকা উড়িয়ে বেরিয়েছেন রাজনীতিকরা। তাঁদের খরচের বহরে ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি নির্বাচন বলে প্রতিপন্ন করেছে দিল্লির সেন্টার ফর মিডিয়া স্টাডিজ (সিএমএস)।

সিএমএস একটি অলাভজনক গবেষণা সংস্থা। তারা জানিয়েছে, ভোট-পর্বে তাদের সমীক্ষকরা বিভিন্ন নির্বাচনী কেন্দ্র সরেজমিনে ঘুরে, রাজনৈতিক দলগুলির নির্বাচনী খরচ হিসাব-নিকাশ করে একটি রিপোর্ট তৈরি করেছে। সম্প্রতি সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, ৯০ কোটি ভোটারদের মন পেতে ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি এবং তাদের প্রার্থীরা এ বছর প্রায় ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করেছে, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা।

সিএমএস-এর দাবি, ভোটারদের মাথাপিছু ৭০০ টাকা এবং প্রতি নির্বাচনী কেন্দ্র পিছু ১০০ কোটি টাকা খরচ করলেই মোট খরচের পরিমাণ ৬০ কোটি টাকা দাঁড়ায়। এই মোট খরচের ৪৫ শতাংশই বিজেপি একা করেছে। ২০০৯ সালে মোট নির্বাচনী খরচের ৪০ শতাংশ ছিল কংগ্রেসের। এ বছর মোট খরচের ১৫-২০ শতাংশ তারা করেছে।

আরও পড়ুন: দেখনদারি! বিহারে এনডিএ নেতাদের ইফতার পার্টি নিয়ে গিরিরাজের কটাক্ষে বিতর্ক​

২০১৪-র নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিল বিজেপি। সে বছর মোট নির্বাচনী খরচ ছিল ৩০ হাজার টাকা অর্থাৎ এ বছরের অর্ধেক।

ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ১৯৯৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ছ’টি লোকসভা নির্বাচনে ভারতের খরচ ৯ হাজার কোটি থেকে ছ’গুণ বেড়ে ৬০ হাজার কোটি টাকায় ঠেকেছে। লোকসভা নির্বাচন বাবদ ১৯৯৯ সালে ১০ হাজার কোটি, ২০০৪ সালে ১৪ হাজার কোটি, ২০০৯ সালে ২০ হাজার কোটি এবং ২০১৪ সালে ৩০ হাজার কোটি খরচ হয়েছিল ভারতের।

আরও পড়ুন: সিঙ্গুরের পথে গজলডোবা? মমতার স্বপ্ন প্রকল্পের জমি ঘিরে আন্দোলন কৃষকদের, পিছনে বিজেপি​

তবে ১১ মার্চ নির্বাচনের দিন ক্ষণ ঘোষণার পর প্রচার বাবদ রাজনৈতিক দলগুলি যত টাকা খরচ করেছে, শুধুমাত্র তারই হিসাব তুলে ধরেছে সিএমএস। তার আগে কে, কোথায়, কত টাকা খরচ করেছে, তা যোগ করা হলে, টাকার অঙ্ক আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে তারা। এ ভাবে চললে ২০২৪ সালে নির্বাচনের খরচ ১ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে অনুমান তাদের। সিএমএস-এর চেয়ারম্যান এন ভাস্কর রাও সংবাদমাধ্যমকে জানান, নির্বাচনের সময়ই সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি ঘটে। সময় থাকতে সতর্ক না হলে, দুর্নীতির হিসাব রাখাই মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে এ দেশে।