বিরিয়ানির পর তরমুজ খাওয়ার পরই মৃত্যু হয়েছিল মুম্বইয়ের দোকারিয়া পরিবারের চার জনের। আর তা থেকেই সন্দেহ বাড়ছিল যে, বিরিয়ানির পর তরমুজ খেয়ে কী ভাবে মৃত্যু হয়? নানা প্রশ্ন এবং সন্দেহ ঘুরপাক খাচ্ছিল। এই ঘটনার পর থেকে আতঙ্কও বেড়েছে মুম্বইয়ের বিভিন্ন এলাকায়। বিশেষ করে ভিন্ডি বাজার, ফিডোনির মতো এলাকায়। তরমুজ কেউ কিনতে চাইছেন না। ৫ টাকা কেজি হিসাবে দাম রাখলেও কেউ কিনছেন বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
দোকারিয়া পরিবারের মৃত্যুর সঙ্গে তরমুজ জড়িয়ে যাওয়ায় এই ফল নিয়ে যখন আতঙ্ক উত্তরোত্তর বাড়তে শুরু করেছে, তখন এই ঘটনার ফরেন্সিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, দোকারিয়া পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর জন্য তরমুজ দায়ী নয়। তা হলে? বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, দোকারিয়া পরিবারের যে চার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের দেহে মরফিনের উপস্থিতি মিলেছে। তদন্তকারী এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে সিএনএন-নিউজ ১৮-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃতদের দেহে ব্যথা উপশমকারী মরফিন মিলেছে। কিন্তু এই মরফিন কোথা থেকে দোকারিয়া পরিবারের চার সদস্যের দেহে প্রবেশ করল, তা ঘিরে রহস্য ক্রমশ বাড়ছে। তবে মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট হয়নি বলেই জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
ডিএনএ ইন্ডিয়া-র প্রতিবেদন বলছে, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মৃতদের শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ সবুজ হয়ে গিয়েছিল। আর তা থেকেই অনুমান করা হচ্ছে, শরীরে বিষাক্ত কোনও রাসায়নিক প্রবেশ করেছে। তবে ফরেন্সিক পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, বিষক্রিয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে, এই কারণ ধরেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোনও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হয়েছিল কি না, সে দিকটাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
গত সপ্তাহে মুম্বইয়ের ব্যবসায়ী আব্দুল দোকারিয়া, তাঁর স্ত্রী নাসরিন এবং দুই কন্যার মৃত্যু হয়। রাতে তাঁদের বাড়িতে আত্মীয়েরা এসেছিলেন। বিরিয়ানি খাওয়াদাওয়া হয়। তার পর আত্মীয়েরা চলে যান বলে তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। তদন্তকারী এক সূত্র জানিয়েছে, আত্মীয়েরা একটি তরমুজ এনেছিলেন। রাত ১টা নাগাদ আব্দুল এবং তাঁর স্ত্রী, সন্তানেরা সেই তরমুজ খান। ভোরবেলা থেকে বমি শুরু হয়। অসুস্থ অবস্থায় চার জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা আব্দুলের কনিষ্ঠকন্যাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাকি তিন জনেরও মৃত্যু হয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে আব্দুলের বয়ানও রেকর্ড করা হয়। তিনি দাবি করেছিলেন, রাতে তাঁরা চার জন তরমুজ খান। ভোরবেলায় শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আর সেই ঘটনার পর থেকেই তরমুজ নিয়ে আতঙ্ক বেড়েছে বাণিজ্যনগরীতে।