উত্তরপ্রদেশের পর এ বার মহারাষ্ট্র। ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জোট চূড়ান্ত কংগ্রেসের। এমনই দাবি করলেন এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পওয়ার।শুধু তাই নয়, ৪৮ এর মধ্যে ৪৫ আসনে দু’দলের সমঝোতার ফরমুলাও তৈরি বলে দাবি এনসিপি সুপ্রিমোর। তবে মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার (এমএনএস) সঙ্গে জোটের জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন পওয়ার। তবে কংগ্রেসের তরফে এখনও এ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

কেন্দ্রে ইউপিএ জোটের দু’টি সরকারেই কংগ্রেসের সঙ্গে জোট ছিল এনসিপির। ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরও কংগ্রেসের হাত ছাড়েননি পওয়ার। এবার লোকসভা ভোটে সেখানে ভোটে বিজেপি বিরোধী হাওয়া। ফলে মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস-এনসিপি জোট প্রত্যাশিতই ছিল। অপেক্ষা ছিল শুধু সরকারি ঘোষণার। তার মধ্যেই কয়েক দিন আগে রাহুল গাঁধীর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন শরদ পওয়ার। এবার কার্যত জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও করে দিলেন মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

রবিরার একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে পওয়ারের দাবি, ‘‘কংগ্রেসের সঙ্গে জোট চূড়ান্ত। ৪৫টি আসনের মধ্যে কে কটায় প্রার্থী দেবে সেটাও প্রায় চূড়ান্ত। শুধু দু’-একটি আসন নিয়ে কথাবার্তা চলছে। সেটা চূড়ান্ত হয়ে গেলেই এ বিষয়ে সরকারি ঘোষণা করা হবে। যেখানে যে দলের প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা বেশি, সেখানে  সেই দলেরই প্রার্থী দেওয়া হবে।’’ এনসিপি প্রধান জানিয়েছেন, রাজু শেট্টির দল স্বভিমানী শ্বেতকারী সংগঠন-এর জন্য একটি আসন ছাড়বে এনসিপি। বামেদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। জোট হলে বাম দলের জন্য দু’-তিনটি আসন ছেড়ে দেবে কংগ্রেস।

আরও পডু়ন: কর্নাটকে ফের রাজনৈতিক টানাপড়েন! জল্পনার মধ্যেই মুম্বইয়ের হোটেলে তিন কংগ্রেস বিধায়ক​

আরও পডু়ন: লাইন দিয়ে কুকুর খুন, ভয়ঙ্কর অত্যাচারের ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এল

সম্প্রতি আবার এমএনএস প্রধান রাজ ঠাকরের বাড়িতেও গিয়েছিলেন পওয়ার। সেখানে লোকসভা নির্বাচনের আগে জোট নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। যদিও সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে পওয়ারের দাবি, ‘ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ’। তিনি জানান, সম্প্রতি রাজ ঠাকরের ছেলের বিয়ে হয়েছে। সেই উপলক্ষে তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ঠাকরে। তিনিও সৌজন্যের খাতিয়ে নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ জানাতে গিয়েছিলেন।

২০১৪ সালে মোদী ঝড়ে মহারাষ্ট্রে পর্যুদস্ত  হয় কংগ্রেস-এনসিপি দু’দলই। বিজেপি ২৩ এবং শিবসেনা পায় ১৮টি আসন। সেখানে এনসিপি চারটি এবং কংগ্রেস মাত্র দু’টি আসনে জয় পায়। অন্যান্যরা পায় একটি আসন। দীর্ঘদিনের দুই জোট শরিকের এই জোট প্রত্যাশিত হলেও মায়াবতী-অখিলেশের জোট ঘোষণার এক দিন পরেই পওয়ারের এই ঘোষণা যথেষ্ট অর্থবহ বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

(ভারতের রাজনীতি, ভারতের অর্থনীতি- সব গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে আমাদের দেশ বিভাগে ক্লিক করুন।)