#মি টু বিতর্কের আঁচ এ বার ঢুকে পড়ল মোদীর মন্ত্রিসভার অন্দরে। কাঠগড়ায় বিদেশ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী এম জে আকবর।

প্রাক্তন সাংবাদিক আকবরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুললেন এক মহিলা সাংবাদিক। তাঁর অভিযোগ, ১৯৯৪ সালে সাংবাদিক থাকাকালালীন মুম্বইয়ের একটি হোটেলে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডেকে তাঁর সঙ্গে অভব্য আচরণ করেন আকবর। আকবর বর্তমানে নাইজেরিয়ায় রয়েছেন। তাই তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ মন্তব্য এড়িয়ে গিয়েছেন।

ঘটনাটা অবশ্য সামনে এসেছিল বছরখানেক আগেই। অস্কারজয়ী হলিউডের প্রযোজক হার্ভে উইনস্টেনের বিরুদ্ধে মার্কিন মুলুকে যখন #মি টু আন্দোলন শুরু হয়, তার কিছু পরেই। ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনে একটি প্রতিবেদন লিখেছিলেন প্রিয়া রামানি নামে ওই সাংবাদিক। তাতেই গোটা ঘটনার বর্ণনা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিবেদনে জুনিয়র বিদেশমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করেননি প্রিয়া।

এর মধ্যেই সম্প্রতি নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে তনুশ্রী দত্ত যৌন হেনস্থার অভিযোগ তোলার পর থেকে ভারতে #মি টু আন্দোলন জোরদার হয়েছে। একের পর এক যৌন হেনস্থা, ধর্ষণের ঘটনা উঠে আসছে। তার পরই টুইটারে আকবরের নাম ফাঁস করেন প্রিয়া। শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে।

আরও পড়ুন: ‘স্বীকার-অস্বীকার কোনওটাই করছি না’, ধর্ষণের অভিযোগে অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া অলোক নাথের

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সেই সময় প্রিয়া লেখেন, একটি সংবাদপত্রে ইন্টারভিউয়ের জন্য মুম্বইয়ের একটি অভিজাত হোটেলে তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়। কিন্তু হোটেলে যাওয়ার পর আকবর তাঁর সঙ্গে লবিতে দেখা না করে রুমে যেতে বলেন। সেই সময় তাঁর বয়স ছিল ২৩, আর আকবরের ৪৩। প্রিয়ার অভিযোগ, হোটেলের রুমে যাওয়ার পর তাঁকে মদ্যপান করতে বলেন। কিন্তু তিনি খাননি। তবে আকবর নিজে মদ খান, গুনগুনিয়ে পুরনো দিনের গান গাইতে শুরু করেন। এর পর প্রিয়াকে তাঁর পাশে বসতে বলেন।

আরও পড়ুন: ছাত্রীকে যৌন হেনস্থা, রণক্ষেত্র ঢাকুরিয়ার বিনোদিনী স্কুল, গ্রেফতার শিক্ষক

প্রিয়া নাম প্রকাশের পর আরও অনেক সাংবাদিকই আকবরের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। প্রায় একই রকম অভিজ্ঞতার কথা টুইটারে লিখেছেন শুমা রাহা নামে আরও এক মহিলা সাংবাদিক। তাঁর অভিযোগ, তাঁকেও একই ভাবে হোটেলে চাকরির ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকেন। তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার না করলেও হোটেলের ঘরের বিছানায় বসে ইন্টারভিউ দিতে তাঁর অস্বস্তি হয়েছিল।

এই বিতর্ক সামনে আসার পরই এ দিন সাংবাদিকরা এই নিয়ে বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে প্রশ্ন করেন। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে অভ্যন্তরীণ কোনও তদন্ত শুরু হয়েছে কি না সরাসরি সেই প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু সুষমা সেই প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই চলে যান।