হাতে আর মাত্র এক দিন। তার মধ্যেই সরকার গঠন করতে হবে। শেষ মুহূর্তে এসে মুহুর্মুহু পাল্টে যাচ্ছে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। হাওয়ায় ঘুরছে নানা জল্পনা, গুঞ্জন, রটনা। উঠে আসছে একাধিক সম্ভাবনা। তবে সমাধান সূত্র এখনও অধরাই। তার মধ্যেই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করলেন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। অন্য দিকে উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে বৈঠকের পর শিবসেনা বিধায়কদের নিয়ে যাওয়া হল পাঁচতারা হোটেলে। আবার তাঁর নিজের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে নিতিন গডকড়ী জানিয়ে দিলেন, মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ফডণবীসই। শিবসেনা জোটে সামিল হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন নিয়ে চূড়ান্ত টানাপড়েনের মধ্যেই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করলেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতারা। সূত্রের খবর, সরকার  গঠন নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে তাঁদের। তবে এ নিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব মুখ খুলতে চাননি। আবার দিল্লিতে বৈঠকে বসেছেন আরএসএস নেতৃত্ব। যদিও নিতিন গডকড়ী এ দিন বলেন, সরকার গঠনের সঙ্গে আরএসএসের কোনও সম্পর্ক নেই।

অন্য দিকে শিবেসনার বিধায়কদের হোটেলে রাখার জল্পনাই সত্যি হল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, শিবসেনার ৫৬ জন বিধায়কের একাংশ বিজেপিকে সমর্থন করতে পারেন। সেই কারণে সেনা বিধায়কদের মুম্বইয়ের বান্দ্রা কুরলা কমপ্লেক্স এলাকার একটি পাঁচতারা হোটেলে নিয়ে গিয়ে রাখা হতে পারে। তবে সকালের দিকে সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন শিবেসনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত। তিনি বলেন, আমাদের বিধায়করা দলের প্রতি দায়বদ্ধ। যাঁরা এমন গুজব ছড়াচ্ছেন, তাঁদের উচিত আগে নিজেদের বিধায়কদের নিয়ে চিন্তা করা।’’

কিন্তু এ দিন দুপুরে শিবসেনা শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে নিজের বাড়ি মাতোশ্রীতে দলের বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তার পরেই বিধায়কদের নিয়ে যাওয়া হয় বান্দ্রা কুরলার ওই হোটেলে। তবে কি শিবসেনা বিধায়কদের একাংশের সমর্থন পেতে পারে বিজেপি? এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন: বিদেশবাসের উচ্চাকাঙ্ক্ষা! আত্মীয় ডাক্তার পরিবারের সকলকে খুন করে লুঠের ছক কষেছিল টিয়া

অন্য দিকে আরও জল্পনা ছিল, গডকড়ীকে মুখ্যমন্ত্রী করে সেনার ক্ষোভের আঁচ কমানো হতে পারে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন গডকড়ী নিজেই। সাংবাদিকদের প্রশ্নে গডকড়ীর জবাব, আমি দিল্লিতে আছি, মহারাষ্ট্রে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘দেবেন্দ্র ফ়ডণবীসই দলের পছন্দ এবং তিনিই সরকারের নেতৃত্ব দেবেন।’’ কিন্তু শিবসেনা এখনও ৫০:৫০ ফর্মুলাতেই অনড়। গডকড়ী যদিও বলেন, ‘‘বিজেপি ১০৫ আসন পেয়েছে।  সুতরাং মুখ্যমন্ত্রী হওয়া উচিত বিজেপি থেকেই। ’’

এমনই একাধিক জল্পনার রাজনৈতিক সমীকরণের সম্ভাবনা ঘুরে বেড়াচ্ছে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে। শরদ পওয়ার দৌড় থেকে নাম তুলে নিতেই বিজেপি-শিবসেনা জোটে তৎপরতা তুঙ্গে। ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে মহারাষ্ট্রের বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ। তার মধ্যে সরকার গঠন না হলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়ে যাবে। তাই মাঝে আর মাত্র এক দিন। এত দিন পর্যন্ত বিজেপি শিবসেনার মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক চাপ- পাল্টা চাপের খেলা চললেও শেষ মুহূর্তে এসে সেই রাস্তা থেকে অনেকটাই সরে এসেছে দুই দল।

আরও পড়ুন: ফের স্পট-ফিক্সিংয়ের ছায়া ভারতীয় ক্রিকেটে, সিএম গৌতম সহ গ্রেফতার দুই রঞ্জি ক্রিকেটার

বুধবারই শরদ পওয়ার ঘোষণা করেছিলেন, বিরোধী আসনে বসতে তাঁরা প্রস্তুত। মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনের দায় যে বিজেপি-শিবসেনারই, সে কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন এনসিপি সুপ্রিমো। ফলে শিবসেনার পক্ষে এখন একমাত্র বিকল্প বিজেপি। তাই তাঁরাও আগের মতো আড়াই বছর পালা করে মুখ্যমন্ত্রীর পদের দাবি থেকে কিছুটা সরে এসে বরং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের জন্য দরাদরি করতে পারে বলে দলীয় সূত্রে খবর। তবে পরিস্থিতি যে দিকেই গড়াক, আজ সন্ধের মধ্যেই মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনের ছবিটা স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই।