সময় শেষ হয়ে আসছে দ্রুত। বাকি আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। কিন্তু এখনও মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনের জট খুলল না। বিজেপি-শিবসেনা সঙ্ঘাত অব্যাহত। অর্ধেক সময়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবিতে অনড় সেনা নেতৃত্ব। পদ্ম শিবিরও দেবেন্দ্র ফডণবীসকে পুরো সময়ের মুখ্যমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত থেকে সরতে নারাজ। এই পরিস্থিতিতে রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন মুখফডণবীস। অন্যদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জন্য বিজেপির কোর্টেই বল ঠেলল সেনা। দলের মুখপাত্র সঞ্জয় রাউতের বক্তব্য, বৃহত্তম দল হিসেবে বিজেপিই সরকার গঠন করুক। সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে প্রয়োজনে এক মাস সময় নিক। 

এর মধ্যেই আরও জোরদার হল ‘ঘোড়া কেনা-বেচা’র জল্পনা। বৃহস্পতিবারই দলের বিধায়কদের মুম্বইয়ের একটি পাঁচতারা হোটেলে রেখেছে শিবসেনা। এ বার কংগ্রেসও হোটেলবন্দি করতে শুরু করল দলের বিধায়কদের। তবে উদ্ধব ঠাকরের মতো মুম্বইয়ে নয়, রাজ্যের বাইরে জয়পুরের হোটেলে গিয়ে উঠতে নির্দেশ দেওয়া হল বিধায়কদের। নেতৃত্বের অভিযোগ, বিধায়ক কিনতে মোটা অঙ্কের টাকার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।

কংগ্রেস নেতা বিজয় ওয়াডেট্টিওয়ার  সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন, ‘‘কংগ্রেস নেতাদের কেনার চেষ্টা হচ্ছে। আমরা সবাইকে ফোন কল রেকর্ড করার নির্দেশ দিয়েছি।’’ তাঁর দাবি, দল বদল করলে ২৫ থেকে ৫০ কোটি পর্যন্ত অফার দেওয়া হচ্ছে বিধায়কদের। তবে সেই প্রস্তাব কোন দিক থেকে আসছে, সেটা স্পষ্ট করেননি ওয়াডেট্টিওয়ার। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দলের সব বিধায়ক আমাদের সঙ্গেই আছেন। ভোটের আগেই ১৫ জন কংগ্রেস বিধায়ক দল ছেড়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘তাঁরা ফিরতে চাইলে দল স্বাগত জানাবে।’’

আরও পডু়ন: সনিয়া, রাহুল, প্রিয়ঙ্কার এসপিজি নিরাপত্তা তুলে নিচ্ছে কেন্দ্র

শুক্রবার মধ্য রাতেই শেষ হচ্ছে মহারাষ্ট্র বিধানসভার মেয়াদ। অর্থাৎ আজকের মধ্যে সরকার গঠন না হলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়ে যাবে। শিবসেনা-বিজেপির সঙ্ঘাত এখনও মেটার কোনও লক্ষ্মণ কোনও পক্ষেই নেই। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে সরকার গঠন না হলে তার দায় নিজেদের ঘাড় থেকে ঝেড়ে বিজেপির উপরেই চাপানোর কৌশল নিল শিবসেনা। এ দিন সঞ্জয় রাউত বলেন, ‘‘একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকেই প্রথম সুযোগ দেওয়া উচিত (সরকার গঠনের) এবং সেটা বিজেপি। বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য তাঁদের শুধু ১৫ দিন নয়, এক মাস সময় দেওয়া উচিত।’’

কিন্তু শিবসেনার হাতে কি কোনও বিকল্প রয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তরে রাউত বলেন, ‘‘রাজ্যপাল একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে সরকার গঠনের জন্য ডাকলে এবং মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিলে তাঁদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে হবে। যদি তারা সেটা করতে না পারে, তখন অন্যরা সরকার গঠন করতে পারে। সেনাও করতে পারে। কিন্তু বৃহত্তম দলকেই ডাকা সঠিক হবে।’’

আরও পডু়ন: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যসচিব-ডিজির সঙ্গে বৈঠক প্রধান বিচারপতির, খোঁজ নিলেন অযোধ্যার নিরাপত্তার

৫০:৫০ ফর্মুলায় এখনও অনড় শিবসেনা। দলের নেতৃত্বের দাবি, মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়া অন্য কোনও কিছু নিয়ে আলোচনায় রাজি নন তাঁরা। এই প্রসঙ্গেই এ দিন শিবসেনা মুখপাত্র আরও বলেন, ২৪ অক্টোবর ফল ঘোষণার পর থেকেই আমরা আলোচনার জন্য অপেক্ষা করেছি। আগে থেকেই অর্ধেক ক্ষমতা ভাগের কথা হয়েছিল। হঠাৎ করে বিজেপি সেটা অস্বীকার করে বলল এই ধরনের কোনও কথাই হয়নি। যদি কোনও বিজেপি নেতা এবং তিনি যদি মুখ্যমন্ত্রী হন এই ধরনের কথা বলেন, তাহলে কী ভাবে আমরা সেটা মেনে নেব?’’