লালুপুত্র ‘নিখোঁজ’ তেজস্বী যাদবের সন্ধান পেতে পোস্টার পড়ল বিহারের মুজফ্ফরপুরে। লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর জনসম্মুখে তেমন দেখা যায়নি তেজস্বীকে। এমনকি এনসেফ্যালাইটিসে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গেলেও, কোথাও দেখা মেলেনি তাঁর। বিরোধী নেতার এমন আচরণের প্রতিবাদেই মুজফ্ফরপুরের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার লাগিয়েছেন সমাজকর্মী তমন্না হাশমি। তেজস্বীর খোঁজ দিতে পারলে ৫ হাজার ১০০ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেছেন তিনি।

এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে সংবাদমাধ্যমে তমন্না বলেন, ‘‘নিজেকে দরিদ্র মানুষের প্রতিনিধি বলে দাবি করেন তেজস্বী। নিজেকে অনগ্রসর, দলিত এবং সংখ্যালঘু-দরদি বলে দাবি করেন। কিন্তু মুজফ্ফরপুর-সহ বিভিন্ন জায়গায় যখন এত দরিদ্র পরিবারের শিশুর মৃত্যু হচ্ছে, কোথায় গেলেন তিনি? ক্ষমতায় এলে তবেই কি সক্রিয় হবেন? ভোটের সময় দলিত-সংখ্যালঘু কার্ড খেলেন নেতারা। কিন্তু তাঁদের জন্য কিচ্ছু করেন  না।’’

এর আগে, গত সোমবার মুজফ্ফরপুর আদালতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্বে থাকা মঙ্গল পাণ্ডের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন তমন্না। এনসেফ্যালাইটিসে আক্রান্ত ১২০ শিশুর মৃত্যুর জন্য তাঁদের গাফিলতিকে দায়ী করেন তিনি। তার পরেই রাজ্যের বিরোধী নেতা তেজস্বী যাদবের ভূমিকা নিয়ে সরব হন। এর পাশাপাশি নীতীশ কুমার সরকারেরও তীব্র সমালোচনা করেন তমন্না। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্য জুড়ে ধর্ষণ, খুন, লুঠপাট  এবং আরও অন্যান্য অপরাধের ঘটনা বেড়েই চলেছে। অথচ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে রাজ্য সরকার। দেখে মনে হচ্ছে, রাজ্য সরকারই বোধ হয় আইসিইউ-তে ভর্তি রয়েছে। সরকার যখন নিস্ক্রিয়, সেই সময় বিরোধীদের এগিয়ে আসা উচিত ছিল। কিন্তু তাঁদের দেখাই পাওয়া যাচ্ছে না।’’

আরও পড়ুন: বিজেপির সংসদীয় দল ফিরতেই ফের উত্তপ্ত ভাটপাড়া, পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ, ইট, পাল্টা লাঠি​

গত ২৩ মে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই দেখা নেই তেজস্বী যাদবের। রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) নেতাদের কাছেও তাঁর কোনও খবর নেই। এ নিয়ে প্রশ্ন করলে সংবাদমাধ্যমকে নানা রকম উত্তর দিয়েছেন তাঁরা। গত বুধবার দলের সহ-সভাপতি রঘুবংশ প্রসাদ সিংহ সম্প্রতি জানান, ক্রিকেট বিশ্বকাপ দেখতে তেজস্বী হয়ত ইংল্যান্ড গিয়েছেন। তার এক দিন পরই আবার অন্য দাবি করেন দলের জাতীয়  মুখপাত্র তথা রাজ্যসভা সাংসদ মনোজ ঝা। তেজস্বী দিল্লিতে রয়েছেন এবং মুজফ্ফরপুরের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন বলে দাবি করেন তিনি। দলের রাজ্য সভাপতি চিত্তরঞ্জন গগন এবং বিধায়ক ভাই বীরেন্দ্র আবার তেজস্বী অসুস্থ বলে জানান।  তবে যাদব পরিবারের তরফে এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

আরও পড়ুন: খেয়েছেন যারা কাটমানি, দাদারা অথবা দিদিমণি... এ বার গান ধরলেন নচিকেতা​

লোকসভা ভোটের ফলাফল নিয়ে পর্যালোচনা করতে গত ২৮ এবং ২৯ মে আরজেডি নেতৃত্ব বিশেষ বৈঠক ডাকেন। রাবড়ি দেবীর বাড়িতে ওই বৈঠকেই শেষ বার তেজস্বীকে দেখা গিয়েছিল। ১১ জুন  লালুপ্রসাদের জন্মদিনের উৎসবে দাদা তেজপ্রতাপ এবং দিদি মিশাকে সামিল হলেও, তেজস্বীকে ধারে কাছে দেখা যায়নি।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।