তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে! সংবাদমাধ্যম ‘ডব্লিউআইওএন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনই জানালেন বিএনপি-র শীর্ষনেতা তথা তারেকের বিদেশ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর। তবে সেই আমন্ত্রণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও তরফেই কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই বিএনপি প্রধান তারেককে সমাজমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান মোদী। পরে ফোনে কথাও বলেন তাঁর সঙ্গে। সেই বিষয় উল্লেখ করে মোদী সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে আমরা উচ্ছ্বসিত।’ ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মোদী। সেই সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করতেই মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে জানালেন হুমায়ুন।
মুহাম্মদ ইউনূস জমানায় ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়। তবে বিএনপি মনে করে, ‘‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলকে প্রভাবশালী হিসাবে গড়ে তোলা তারেকের বিদেশনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই আমন্ত্রণও তারই অংশ।’’ দু’দেশের উন্নত সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই আমন্ত্রণ শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসাবে বর্ণনা করেন কবীর। তিনি এ-ও জানান, মোদী উপস্থিত থাকবেন বলে তাঁরা প্রত্যাশা করেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে চাপানউতর শুরু হয়। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে সম্পর্ক আরও কিছুটা খারাপ হয়। মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশে স্থায়ী সরকার গঠিত হলে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের উন্নতি হবে।
বাংলাদেশে বিএনপির জয় নিশ্চিত হতেই নিজের এক্স হ্যান্ডলে প্রথমে ইংরেজি এবং পরে বাংলায় পোস্ট করে তারেক তথা বিএনপি-কে অভিনন্দন জানান মোদী। তাঁর পোস্টেও দু’দেশের জনগণ এবং সম্পর্কের কথা ছিল। ভারত-বাংলাদেশ বহুমুখী সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে তারেককে একসঙ্গে কাজ করারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। মোদী লেখেন, ‘আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে মজবুত করার জন্য এবং অভিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যগুলি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি আপনার সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রত্যাশা রাখছি।’ পরে তারেকের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময়েও এই বিষয়গুলি উল্লেখ করেন মোদী। তার পরেই মোদী এবং ভারতকে ধন্যবাদ জানায় বিএনপি। তাদের তরফে জানানো হয়, বাংলাদেশের নতুন সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।
আরও পড়ুন:
তবে তারেক কবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন, তার দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ইউনূসের দফতরের সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার নতুন সরকার গঠিত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যদের শপথের দিন এখনও ঘোষণা করা হয়নি।