দেশ জুড়ে ঢেলে সাজা হয়েছে ট্রাফিক আইন। বিধি ভেঙে প্রতিদিনই জেল জরিমানার শিকার হচ্ছেন গাড়ির চালকরা। তাদেরই সামান্য স্বস্তি দিল কেন্দ্রীয় পরিবহণ মন্ত্রক। মন্ত্রক সূত্রের খবর, গাড়ির যাবতীয় নথি সব সময়ে সঙ্গে না রাখলেও চলেবে। ট্রাফিক পুলিশ চাইলে ডিজিলকার বা এমপরিবহণ অ্যাপ থেকে ডিজিটাল নথিও দেখাতে পারবেন।

পরিবহণ মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক জানাচ্ছেন, ‘‘অনেকেই মোবাইলে গাড়ির কাগজের ছবি দেখাচ্ছেন। ডিজিটাল নথি মানে কিন্তু রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ইনস্যুরেন্স বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের ছবি বা স্ক্যান করা কপি নয়। গাড়ির বৈধ কাগজপত্রগুলি এমপরিবহণ বা ডিজিলকারে আপলোড করতে হবে। তবেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই কাগজকে মান্যতা দেবেন।”

ডিজিলকার বা এমপরিবহণ কোনও নতুন ব্যবস্থা নয়। ১৯৮৯ সালের মোটর ভেহিক্যাল আইনের সংশোধনীতে বলা হয়েছিল, এবার থেকে ভারতীয় নাগরিকরা পরিবহণ সংক্রান্ত নথি বৈদ্যুতিন ভাবেও ব্যবহার করতে পারবেন। দূষণ সংক্রান্ত শংসাপত্র, পারমিট, রেজিস্ট্রেশন, বিমা ইত্যাদি সব নথির ডিজিটাল কপিকেই যাতে মান্যতা দেওয়া হয়, সেই জন্যে সমস্ত রাজ্যের পুলিশ ও পরিবহণ দফতরে গত বছরের ১৯ নভেম্বর নির্দেশিকাও পাঠানো হয় কেন্দ্রের তরফে। যদি সর্বত্র এই ব্যবস্থা চালু করা যায়নি।

আরও পড়ুন: নিরাপত্তার ঘেরাটোপ, পথে নেই তাজিয়া, বেনজির মহরম পালন কাশ্মীরে
আরও পড়ুন: ‘নেতা হতে গেলে পুলিশ কর্তার কলার চেপে ধরো’, ছাত্রদের কংগ্রেস মন্ত্রীর উপদেশ

অন্য দিকে এই নির্দেশিকা জারি হওয়ার ১০ মাসের মাথায় দেশে এসেছে নতুন মোটর ভেহিক্যাল আইন। সংশোধনীর ফলে আরও কড়া করা হয়েছে এই আইন। আইন বিরুদ্ধ কাজ করলেই জরিমানা দিতে হবে আগের থেকে আরও বেশি। হতে পারে জেলও। শুধু বৈধ কাগজ দেখাতে না পারাই নয়, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, সিট বেল্ট না পরা, মত্ত অবস্থায় গাড়ির স্টিয়ারিং-এ বসা, গাড়ি চালাতে চালাতে মোবাইলে কথা বলা ইত্যাদি সমস্ত অপরাধেই আরও কড়া শাস্তির বিধান দেওয়া হয়েছে।

প্রতি বছর দেশে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। পথ দুর্ঘটনা আর বেপরোয়া ড্রাইভিং আটকাতেই আরও কড়া আইন প্রণয়ন করেছে কেন্দ্র।এই আবহে দু’টি অ্যাপের মাধ্যমে নথি দেখানোর এই ব্যবস্থা সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়লে কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন সারা দেশের গাড়ির চালকরা।