পুলওয়ামায় আত্মঘাতী জঙ্গি হামলায় যখন ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছেন সিআরপি জওয়ানরা, নরেন্দ্র মোদী তখন করবেট জঙ্গলে শুটিঙে ব্যস্ত! আজ এই তথ্য ফাঁস করে কংগ্রেস প্রশ্ন তুলল, ‘আপনি কি বলিউডের চিত্রতারকা, না দেশের প্রধানমন্ত্রী?’ 

কংগ্রেসের দেওয়া তথ্য মিথ্যা বলে খারিজ করতে পারেনি বিজেপি। তবে তাদের অভিযোগ, এই সব কথা বলে আদতে পাকিস্তানের হাতই শক্ত করা হচ্ছে। 

গত ১৪ তারিখ পুলওয়ামায় বিস্ফোরণের দিন নৈনিতালের জিম করবেট জাতীয় উদ্যানে একটি বেসরকারি চ্যানেলের উদ্যোগে বাঘ নিয়ে তৈরি হওয়া তথ্যচিত্রের শুটিঙে গিয়েছিলেন মোদী। রাম নগরের স্থানীয় সংবাদপত্রগুলিতে প্রধানমন্ত্রীর সেই সফরের প্রতিটি মিনিটের বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। আর সেই বিবরণ হাতিয়ার করেই মোদীকে বিঁধেছে কংগ্রেস। 

সংবাদপত্রের বিবরণ বলছে, শুটিং শুরু হয়েছিল দুপুরে। বিকেল নাগাদ বিস্ফোরণের খবর আসার পরেও তা থামেনি। শুটিং চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। তার পর সরকারি অতিথিশালায় চায়ের আড্ডায় খোশগল্পে মেতে ওঠেন তিনি। সেই সূত্র ধরেই কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালার অভিযোগ, ‘‘৩.১০ মিনিটে সিআরপি-র কনভয়ে বিস্ফোরণ হয়। অথচ, আপনি পৌনে সাতটা পর্যন্ত নৌ-বিহার করেন, শুটিং চালিয়ে যান। সে দিন সন্ধ্যায় আহত আধাসেনারা যখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা কষছিলেন, তখন রাম নগরের সরকারি অতিথিশালায় বসে চ্যানেলের কর্মীদের সঙ্গে চা-পাকোড়ার আড্ডায় মেতেছিলেন আপনি। অথচ, গোটা দেশ জওয়ানদের মৃত্যুতে খিদে ভুলে গিয়েছিল।’’ 

পুলওয়ামা বিস্ফোরণের পরে উগ্র দেশাত্ববোধের হাওয়া তুলে ভোটবাক্সে তার ফায়দা নিতে বিজেপি যখন মরিয়া তখন খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে রীতিমতো অস্বস্তিতে দলীয় নেতৃত্ব। নেতাদের কেউ কেউ বলছেন, উগ্র দেশাত্ববোধের হাওয়া তোলাটা এক অর্থে বাঘের পিঠে সওয়ার হওয়া। এখন গড়-জনতার আকাঙ্ক্ষা, পাকিস্তানকে মুখের মতো জবাব দিতে হবে। কী করলে সেই প্রত্যাশা খানিকটা হলেও পূরণ হবে, তা খুঁজে বার করাই মস্ত চ্যালেঞ্জ। তার উপর নিহত জওয়ানদের অন্ত্যেষ্টির সময় সেলফি তুলে, হাসিঠাট্টা করে দলকে সমস্যায় ফেলেছেন বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা। আর এ বার মোদীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠল, তাতে তো দল আরও ব্যাকফুটে। 

আজ কংগ্রেসের তোলা অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের উপরে এক প্রস্ত চটেই যান কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ। তাঁর বক্তব্য, যারা সার্জিকাল স্ট্রাইক নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তাদের কাছ থেকে এর বেশি আর কী আশা করা যায়! কংগ্রেসের অভিযোগে যদি কেউ খুশি হয়, তা হল পাকিস্তান। তাঁর কথায়, ‘‘এ হল কংগ্রেসের নির্লজ্জ রাজনীতি। সেনার মনোবল ভাঙার প্রচেষ্টা। শুনে মনে হচ্ছে ইমরান খানের সুরেই কথা বলছে কংগ্রেস।’’ 

আরও পড়ুন: কংগ্রেসকে ব্রাত্য রেখেই উত্তরপ্রদেশে প্রার্থী ঘোষণা মায়া-অখিলেশের

কংগ্রেস সূত্র আবার বলছে, পুলওয়ামা নিয়ে রাজনীতির ময়দানে তারা প্রথম নামেনি। ঘটনার দিনই রাহুল গাঁধী বলে দিয়েছিলেন, এ নিয়ে তাঁরা রাজনীতি করবেন না। কিন্তু গত কাল বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেন, ‘‘জওয়ানদের বলিদান বৃথা যাবে না। কারণ, ক্ষমতায় বিজেপি আছে, কংগ্রেস নয়।’’ ফলে বাঁধটা তিনিই ভেঙেছেন। তা ছাড়া, মোদীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা রাজনীতি হবে কেন? সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিরও বক্তব্য, ‘‘যখন সবাই এককাট্টা, তখন অমিত শাহই এ নিয়ে রাজনীতির পথে হাঁটেন।’’ সুরজেওয়ালা বলেন, বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পরেই প্রধানমন্ত্রীর উচিত ছিল তাঁর মন্ত্রিসভার সঙ্গে বৈঠক করা। তা না করে তিনি অতিথিশালার বাইরে জনতার অভিবাদন কুড়িয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘এক জন প্রধানমন্ত্রীর ওই কাজ সাজে? বিশেষ করে যখন তিন ঘণ্টা আগে বিস্ফোরণে ৪০ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে।’’ যদিও বিজেপির যুক্তি, আবহাওয়া খারাপ থাকায় সঙ্গে সঙ্গে দিল্লি ফিরে আসতে পারেননি মোদী। তাই রাম নগর থেকেই বৈঠক করেন শীর্ষ মন্ত্রীদের সঙ্গে।