নরেন্দ্র মোদীকেও যিনি ‘হুকুম’ দেন, তাঁর উপর দয়াবান বিজেপি। মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকার একের পর এক মামলার প্রত্যাহার করছে মোদীর ‘গুরু’র বিরুদ্ধে।

পঁচাশি বছরের শম্ভাজি ভিডে। গত লোকসভা ভোটের সময়ে প্রচারে গিয়ে মোদী এই প্রবীণ ব্যক্তিকে নিজের ‘গুরু’ বলে অভিহিত করেছেন। ভিডে তাঁকে ‘হুকুম’ দেন বলেও জানিয়েছেন। ভীমা-কোরেগাঁওয়ের সংঘর্ষের ঘটনার পরে এই ‘গুরু’র বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের হয়েছে। তার পরে তিনি ফেরারও হন। কিন্তু ভিডের বিরুদ্ধে মামলাকে গ্রাহ্য না করে তাঁর এক শিষ্যের করা মামলার ভিত্তিতেই মহারাষ্ট্র পুলিশ একের পর এক সমাজকর্মীকে গ্রেফতার করেছে।

আর আজ ‘তথ্য জানার অধিকার’-এ একটি প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকার জানিয়েছে, ভিডে এবং তাঁর সংগঠন ‘শিব প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান’-এর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। বিজেপি, শিবসেনা, আরএসএসের কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলাও প্রত্যাহার করে নিয়েছে রাজ্য। এর পরেই শোরগোল শুরু হওয়ায় মহারাষ্ট্রের পুলিশ জানিয়েছে, এ সবই অনেক পুরনো মামলা। ‘জোধা আকবর’ ফিল্মকে ঘিরে যে সংঘর্ষ হয়েছিল, সে সব মামলা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে ভীমা-কোরেগাঁও সংক্রান্ত মামলা এখনও প্রত্যাহার হয়নি। তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন: নিহত অ্যাপল কর্মীর স্ত্রীর ভরসা যোগীতেই

কিন্তু কংগ্রেসের রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা আজ বলেন, ‘‘নরেন্দ্র মোদী পুলিশ, গোয়েন্দা, তদন্তকারী সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে শুধু বিরোধীদেরই কন্ঠরোধ করতে চান। কিন্তু গোটা ঘটনায় স্পষ্ট, নিজের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের তিনি রেহাই দেন।’’ মহারাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী সুধীর মনঙ্গতিয়ার বলেন, ‘‘এর আগের কংগ্রেস সরকার যে অধ্যাদেশ জারি করেছিল, তার ভিত্তিতেই এই সব মামলা তোলা হয়েছে। এতে বিজেপির কোনও অবদান নেই।’’

কিন্তু বিজেপি যা-ই দাবি করুক, কংগ্রেসের আশঙ্কা, ভীমা-কোরেগাঁও নিয়ে ভিডের বিরুদ্ধে মামলাও অচিরেই তুলে নেবে মহারাষ্ট্র সরকার। কংগ্রেস নেতাদের অভিযোগ, মোদী ক্ষমতায় আসার আগে বড় বড় কথা বলেছিলেন। প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, নিজের দলের কেউ অপরাধ করলেও তাঁদের রেয়াত করা হবে না। কিন্তু গত সাড়ে চার বছরে দেখা গিয়েছে, শুধু বেছে বেছে বিরোধীদের উপরেই পদক্ষেপ হয়েছে। লালুপ্রসাদের জেলে থাকাকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের বড় অভিযান হিসেবে তুলে ধরেন মোদী। কিন্তু নিজের দল ও ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগই ধামাচাপা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।