চৌকিদার চোর হ্যায়’ স্লোগানের জন্য আগেই আদালতের চক্কর কেটেছেন। নির্বাচনী প্রচারে ‘সব চোরের নামে মোদী থাকে কেন’ জানতে চাওয়ায়, এক বার ফের আদালতে যেতে হল রাহুল গাঁধীকে। বছরের শুরুতে তাঁর বিরুদ্ধে ‘অপরাধমূলক মানহানি’র মামলা দায়ের করেন এক বিজেপি নেতা। তার শুনানিতে বৃহস্পতিবার সুরতের একটি আদালতে হাজিরা দেন কংগ্রেস সাংসদ। কোনও দোষ করেননি বলে সেখানে দাবি করেন তিনি। 

একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এ দিনও আদালতে নিজের অবস্থানেই অনড় ছিলেন রাহুল। সাফ জানিয়ে দেন, তিনি কোনও ভুল করেননি। আদালতে তাঁর বয়ান রেকর্ড হয়ে গেলে, মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়া থেকে পাকাপাকি ভাবে রাহুলের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন জমা দেন তাঁর আইনজীবীরা। আগামী ১০ ডিসেম্বর সেই আবেদনের শুনানি। রাহুল আদালতে না এলেও চলবে বলে জানিয়ে দেন বিচারপতি।

তবে আগাগোড়া পাশে থাকার জন্য এ দিন কংগ্রেস সমর্থকদের ধন্যবাদও জানান রাহুল গাঁধী। নিজের টুইটার হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘বিরোধী রাজনৈতিক দলের দায়ের করা মানহানি মামলায় হাজিরা দিতে সুরতে এসেছি। আমার মুখ বন্ধ করে দেওয়ার যাবতীয় চেষ্টা চলছে। তবে যে ভাবে কংগ্রেস সমর্থকরা আমার পাশে দাঁড়াতে ছুটে এসেছেন, তাঁদের এই ভালবাসা এবং সমর্থনে আমি কৃতজ্ঞ।’’

আরও পড়ুন: দু’মাস পরে পর্যটকদের জন্যে খুলে দেওয়া হল কাশ্মীরের দরজা, আরও একটু শিথিল বিধিনিষেধ

এ বছরের গোড়ায় সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীনই এই বিতর্কের সূত্রপাত। এপ্রিল মাসে কর্নাটকের একটি জনসভায় বক্তৃতা করার সময় দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত, দেশত্যাগী ললিত মোদী এবং নীরব মোদীর কথা টেনে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন তিনি। রাহুল বলেন, ‘‘নীরব মোদী, ললিত মোদী, নরেন্দ্র মোদী… ওঁদের সবার পদবী-ই মোদী কেন? সব চোরের নামেই কি মোদী থাকে!’’ 

তাঁর এই মন্তব্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে গেরুয়া শিবিরে। রাহুলের বিরুদ্ধে ৪৯৯ এবং ৫০০ ধারায় অপরাধমূলক মানহানির মামলা ঠোকেন পশ্চিম সুরাতের বিজেপি এমএলএ পূর্ণেশ মোদী। সমগ্র মোদী সম্প্রদায়কে রাহুল অপমান করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

এ ব্যাপারে শুরু থেকেই রাহুলের পাশে থেকেছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, নরেন্দ্র মোদীকে চোর বলেননি রাহুল। বরং দুর্নীতিগ্রস্ত ললিত মোদী এবং নীরব মোদীকে রুখতে নরেন্দ্র মোদীর ব্যর্থতাকেই তুলে ধরতে চেয়েছেন। যদিও কংগ্রেসের এই যুক্তিতে আমল দিতে নারাজ বিজেপি।

আরও পড়ুন: ভারতের আকাশে ফের পাক ড্রোন, এক সপ্তাহে তিন বার হানা​

তবে এই প্রথম নয়, এ বছর একাধিক মানহানি মামলা দায়ের হয়েছে রাহুল গাঁধীর বিরুদ্ধে। নোটবন্দির সময় বেআইনি ভাবে পুরনো ৭৫০ কোটি টাকার বাতিল নোট পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ তোলায় কংগ্রেস সাংসদের বিরুদ্ধে  মামলা করেছেন আমদাবাদ জেলা সমব্যয় ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান অজয় পটেল। শুক্রবার সেই মামলার শুনানিতেও হাজিরা দেবেন রাহুল। এ ছাড়াও, অমিত শাহের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য এবং তাঁর ছেলে জয় শাহের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলায় অমদাবাদে তাঁর বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে।