মাসদু’য়েক পর পুরভোটের আগে রাজস্থানে মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলৌতের সরকার আরও শক্তপোক্ত হল। কংগ্রেসের সঙ্গে কার্যত মিশে গেল মায়াবতীর দল বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি)। বিএসপির ছয় জন বিধায়কই যোগ দিলেন কংগ্রেসে। রাজস্থানে তাঁর দলের সব বিধায়ককেই ভাঙিয়ে নেওয়ায় ক্ষুব্ধ বিএসপি নেত্রী মায়াবতী মঙ্গলবার একটি টুইটে কংগ্রেসকে ‘প্রতারক’ বলেছেন।

সোমবার মধ্যরাতেই তাঁদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ছয় জন বিধায়ক একটি চিঠি তুলে দেন রাজস্থান বিধানসভার স্পিকার সি পি জোশীর হাতে। ওই ছয় বিধায়ককে নিয়ে ২০০ সদস্যের রাজস্থান বিধানসভায় শাসক দল কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা বেড়ে হল ১০৬। শাসক জোটের শরিক রাষ্ট্রীয় লোকদলের (আরএলডি) বিধায়ক রয়েছেন এক জন। এত দিন ওই বিএসপি বিধায়করা বাইরে থেকে সমর্থন করছিলেন কংগ্রেস সরকারকে।

এ দিন তাঁর টুইটে বিএসপি নেত্রী মায়াবতী লিখেছেন, ‘‘বিএসপির মধ্যে ভাঙন ধরিয়ে রাজস্থানে কংগ্রেস ফের প্রমাণ করল, তারা বিশ্বাসযোগ্য নয়। প্রতারক। আরও মারাত্মক শত্রুর (বিজেপি) বিরুদ্ধে লড়াই না করে যে দলগুলি তাকে সমর্থন করে, কংগ্রেস তাদেরই ক্ষতি করছে।’’

মায়াবতী টুইটে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে লিখেছেন, ‘‘কংগ্রেস বরাবরই বি আর অম্বেডকর ও তাঁর মতাদর্শের বিরোধিতা করে এসেছে। সে জন্যই অম্বেডকরকে দেশের প্রথম আইনমন্ত্রী হিসাবে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। কংগ্রেস অম্বেডকরকে ‘ভারতরত্ন’ উপাধি থেকেও বঞ্চিত করেছে।’’

যে ছয় জন বিএসপি বিধায়ক কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের অন্যতম রাজেন্দ্র গুড়া, যোগেন্দ্র সিংহ আওয়ানা, ওয়াজিব আলি, লখন সিংহ, সন্দীপ যাদব ও দীপচাঁদ।

আরও পড়ুন- মমতাকে ডাকার প্রস্তাব বিফলেই​

আরও পড়ুন- কাল দিল্লিতে মোদী ও মমতার বৈঠক, প্রায় আড়াই বছর পরে একান্ত কথা​

নভেম্বরে পুরভোট হবে রাজস্থানে। তার মাসদু’য়েকের মধ্যেই আগামী জানুয়ারিতে হবে পঞ্চায়েত নির্বাচনে। তার আগে সব বিএসপি বিধায়ক কংগ্রেসে যোগ দেওয়ায় শাসক দল অনেকটাই শক্তিশালী হয়ে উঠল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বিএসপি বিধায়কদের কংগ্রেসে ভিড়ে যাওয়ার ঘটনা রাজস্থানে এই নিয়ে ঘটল দ্বিতীয় বার। ২০০৮ থেকে ’১৩-য় মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলৌতের কংগ্রেস সরকারের সময়েও বিএসপির ছয় জন বিধায়ক কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। সেই সময় ২০০ সদস্যের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচ জন বিধায়ক কম ছিল কংগ্রেসের।