• নিজস্ব প্রতিবেদন 
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

নামতে গিয়ে পিছলে খাদে, দু’টুকরো বিমান, কেরলে মৃত ১৮

Air India Plane Crash
দু’টুকরো হয়ে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। ছবি: এএফপি।

সারা দিন ধরে তুমুল বৃষ্টি হচ্ছিল কেরলে। ফলে কমে গিয়েছে দৃশ্যমানতা। তারই মধ্যে আজ কোঝিকোড় বিমানবন্দরে নামতে গিয়ে পিছলে ৩৫ ফুট গভীর খাতে পড়ে যায় এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি বিমান। তার পরে বিমানের সামনের অংশ দু’টুকরো হয়ে যায়। কেরল প্রশাসন জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা ১৮। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিমানের পাইলট দীপক বসন্ত শাঠে ও কো-পাইলট অখিলেশ কুমার। 

বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ জানিয়েছে, আজ সন্ধ্যা সাতটা বেজে একচল্লিশ নাগাদ কোঝিকোড়ে পৌঁছয় করোনা অতিমারির মধ্যে বিদেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের ফেরানোর ‘বন্দে ভারত’ অভিযানের অন্তর্ভুক্ত এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের উড়ান আইএক্স১৩৪৪। তাতে ১৭৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী, ১০টি শিশু, ২ জন পাইলট ও ৪ জন বিমানকর্মী ছিলেন।

বিমানমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী জানিয়েছেন, ১০ নম্বর রানওয়ে থেকে পিছলে বিমানটি নীচে পড়ে দু’টুকরো হয়ে যায়। তবে তাতে আগুন ধরেনি। তা হলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত বলে মত বিশেষজ্ঞদের। গভীর রাত পর্যন্ত ভেঙে পড়া বিমান থেকে যাত্রীদের উদ্ধার করার কাজ করে কেরল পুলিশ ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর যৌথ দল। মালাপুরমের জেলাশাসক কে গোপালকৃষ্ণন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় আহত ১৭৩ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আহতদের কোঝিকোড়ের সাতটি ও মালাপুরমের কয়েকটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ।

আরও পড়ুন: ‘রক্তে ভিজে গেল আমার হাত’​

ঘটনার পরে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পরে তিনি টুইটারে জানান, উদ্ধারকার্যের সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিজয়ন জানান, পুলিশ ও দমকলকে দ্রুত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে উদ্ধারকার্যে শামিল হয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন কেরলের ওয়েনাডের সাংসদ ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গাঁধী। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বিমানের যাত্রীদের খোঁজখবর দেওয়ার জন্য দুবাই ও শারজায় হেল্পলাইন খোলা হয়েছে।

বিমানচালক দীপক বসন্ত শাঠে।

কোঝিকোড়ের জেলাশাসক শ্রীরাম শম্ভাশিবারাও জানান, দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে রয়েছেন দুই পাইলট দীপক বসন্ত শাঠে ও অখিলেশ কুমার। কোঝিকোড়ের এমআইএমএস হাসপাতালে তাঁদের দেহ রাখা হয়েছে। বিমান মন্ত্রক সূত্রে খবর, ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির প্রাক্তনী শাঠে ভারতীয় বায়ুসেনার প্রাক্তন অফিসার। ২০০৩ সালে বায়ুসেনা থেকে অবসর নিয়ে তিনি অসামরিক বিমান ওড়ানোর কাজে যোগ দেন। 

উড়ানের পরিভাষায় কোঝিকোড় ‘টেবলটপ’ বিমানবন্দর। এই ধরনের বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে রানওয়ে থাকে পাহাড় বা মালভূমির উপরে। তার পরেই থাকে গভীর খাদ। ফলে এই ধরনের বিমানবন্দরে বিমান নামানো কঠিন। কোঝিকোড় বিমানবন্দরের সুরক্ষার মান নিয়ে ২০১৯ সালে প্রশ্ন তুলেছিল ডিজিসিএ। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে শো-কজ় নোটিসও দেওয়া হয়। বিমানমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত করবে বিমান মন্ত্রকের এয়ার অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন বুরো।

আরও পড়ুন: ড্রপ আউটের প্রবণতা কি বাড়বে?

এই ঘটনায় ২০১০ সালের মেঙ্গালুরু বিমান দুর্ঘটনার ছায়া দেখছেন অনেকে। ২০১০ সালের ২২ মে দুবাই থেকেই মেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে এসে নামার সময়ে পিছলে যায় এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি বিমান। পাহাড়ের পাশে পড়ার পরে সেটিতে আগুন ধরে যায়। ১৬০ জন যাত্রী ও ৬ জন পাইলট-বিমানকর্মীর মধ্যে ১৫৮ জন মারা যান। ২০১৯ সালেও মেঙ্গালুরুতে দুবাই থেকে আসা এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি বিমান রানওয়ে থেকে পিছলে যায়। তবে সে যাত্রা যাত্রী ও বিমানকর্মীরা বেঁচে যান। 
 কেরল থেকে নির্বাচিত বিজেপি সাংসদ কে জে আলফোনসের মতে, এটা কেরলে দিনের দ্বিতীয় দুঃখজনক ঘটনা। এ দিনই বৃষ্টির জেরে ধসে ইদুক্কিজেলায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।    

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন