এ বার মাওবাদীদের অস্ত্র ছেড়ে সমাজ এবং রাজনীতির মূল স্রোতে ফেরার প্রস্তাব দিলেন আত্মসমর্পণ করা শীর্ষনেতা তিপ্পিরি তিরুপতি। দেবজি ওরফে দেবুজি নামেও পরিচিত তিনি। গত মাসেই তেলঙ্গানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন দেবজি। এ বার মাওবাদীদের অস্ত্র ছেড়ে বৈধ রাজনৈতিক পথে আসার প্রস্তাব দিলেন তিনি।
নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী) নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশগ্রহণের পক্ষে নয়। তবে দেবজি চাইছেন, মাওবাদী সংগঠনের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হোক। পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। মাওবাদীদের অস্ত্র ছেড়ে বৈধ রাজনৈতিক পথে ফেরার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। দেবজি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী (রেবন্ত রেড্ডি)-কে আমি অনুরোধ করেছিলাম (নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে)। তিনি আমার কথা শুনেছেন এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছেন।”
রেবন্তের সঙ্গে তাঁর আলোচনা প্রসঙ্গে আত্মসমর্পণ করা মাওবাদী নেতা আরও বলেন, “আমরাল (মাওবাদীরা) অস্ত্র ছেড়ে দেব। আমাদের সংগঠনটিকেও একটি বৈধ দল হিসাবে দেখা হোক।” আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদকে নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই সময়সীমা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। এ অবস্থায় আত্মসমর্পণ করা মাওবাদী নেতার এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও পড়ুন:
গত বছর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন সিপিআই (মাওবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসবরাজ। তার পর থেকে দেবজিকেই ওই পদে বসানো হয় বলে জল্পনা ছড়ায়। আত্মসমর্পণের আগে নিষিদ্ধ সংগঠনের অন্দরে তিনিই হয়ে উঠেছিলেন ‘এক নম্বর’ নেতা। এ বার সেই আত্মসমর্পণ করা মাওবাদী নেতাই অস্ত্র ছেড়ে মাওবাদীদের বৈধ রাজনৈতিক পথে ফেরার বার্তা দিলেন।
শীর্ষনেতা দেবজির আত্মসমর্পণের পরে মাওবাদী সংগঠন আরও কিছুটা দুর্বল হয়েছে বলে মনে করা হয়। ৬২ বছর বয়সি এই নেতার মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। জঙ্গলযুদ্ধে পটু মাওবাদীদের সশস্ত্র বাহিনী পিপল্স লিবারেশন গেরিয়া আর্মি (পিএলজিএ) তৈরি করেছিলেন তিনিই। পরবর্তী সময়ে সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন তিনি। মাওবাদী সংগঠনের পলিটব্যুরো সদস্যও ছিলেন তিনি।