সব জল্পনার অবসান। রাষ্ট্রপতি শাসনই জারি হল মহারাষ্ট্রে। ভারতীয় সংবিধানের ৩৫৬ ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি শাসনের বিজ্ঞপ্তিতে সই করলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। যদিও এ নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছে বিরোধীরা। এনসিপি-কে দেওয়া নির্ধারিত সময়সীমার আগেই কী ভাবে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার সুপারিশ করলেন রাজ্যপাল ভগৎ সিংহ কেশিয়ারি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। অন্য দিকে সরকার গঠনের জন্য মাত্র এক দিন সময় দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ শিবসেনা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। নিন্দা করেছে বামেরাও। 

কোনও দলই সরকার গঠন করতে না পারায় সাংবিধানিক ভাবে প্রথমে রাজ্যপাল কেন্দ্রকে রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ করেন। এর পরেই ব্রাজিল সফর বিলম্বিত করে জরুরি পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাতে রাষ্ট্রপতি শাসনের পক্ষে সায় দিয়ে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করার জন্য রাষ্ট্রপতি ভবনকে সুপারিশ করে মন্ত্রিসভা। সেই বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ সই করার পরেই সাংবিধানিক ভাবে মহারাষ্ট্রে কার্যকরী হল ৩৫৬ ধারা, অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি শাসন। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর  দাবি, মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল গত ১৫ দিন ধরে আলোচনা করেছেন। কিন্তু কোনও দলই সরকার গঠন করতে পারেনি। তাই রাষ্ট্রপতি শাসনই সবচেয়ে ভাল বিকল্প বলে মনে করেছেন রাজ্যপাল।

 

বিজেপি সরকার গঠনে দাবি না জানানোয় দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে শিবসেনাকে সরকার গঠনের জন্য ডাকেন রাজ্যপাল। তাঁদের সময় ছিল সোমবার সন্ধে সাড়ে আটটা পর্যন্ত। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিধায়কের সমর্থনপত্র দিতে না পারায় এনসিপি-কে ডাকেন রাজ্যপাল। এনসিপির সময় ছিল মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত। কিন্তু তার আগেই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়ে গেল মহারাষ্ট্রে।

আরও পড়ুন: সমর্থনের চিঠি দিতে টালবাহানা, কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তুলে আক্রমণ শুরু করল এনসিপি​

আরও পড়ুন: সরকার গড়তে মাত্র এক দিন সময়! রাজ্যপালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গেল ক্ষুব্ধ শিবসেনা

আর এখানেই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। যখন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, এনসিপির সময় শেষ হয়নি, কংগ্রেস-শিবসেনার সঙ্গে আলোচনা চলছে, তখন এ ভাবে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা কার্যত অন্যায়। কংগ্রেস নেতা তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বলেন, রাজ্যপালের আরও সময় দেওয়া উচিত ছিল। কারও উদ্দেশ্য সাধন করতেই রাজ্যপাল এই তাড়াহুড়ো করেছেন। অন্য দিকে সিপিএম পলিটব্যুরোর তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই সিদ্ধান্তের নিন্দা করা হয়েছে। মহারাষ্ট্র রাজভবনের অতি সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারাও।