মহারাষ্ট্রে শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেস জোটই সরকার গড়বে। এবং তা পাঁচ বছরই টিকবে। শুক্রবার এই দাবি এনসিপি প্রধান শরদ পওয়ারের। নির্বাচনী ফলাফলের ১৮ দিন পরেও কোনও পক্ষ সরকার গড়তে না পারায়, রাজ্যপাল ভগৎ সিংহ কোশিয়ারির সুপারিশে মঙ্গলবার সেখানে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছে। তার পর থেকেই নতুন করে নির্বাচনের কথা সামনে আসছিল। কিন্তু এ দিন তা খারিজ করেন পওয়ার। তাঁদের সরকার যাতে পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পূর্ণ করতে পারে, তা নিশ্চিত করেই ছাড়বেন বলে জানিয়ে দেন তিনি।

সেনা-এনসিপি-কংগ্রেসের সরকার মাসও টিকবে না বলে এর আগে কটাক্ষ করেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস। তাঁর সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই এ দিন এমন মন্তব্য করেন শরদ। তিনি বলেন, ‘‘বেশ কিছু বছর ধরে দেবেন্দ্র ফডণবীসকে চিনি। কিন্তু উনি যে জ্যোতিষশাস্ত্রের ছাত্র ছিলেন, তা জানা ছিল না আমার। সরকার তো গঠন হবেই এবং তা মেয়াদও সম্পূর্ণ করবে। এই জোট সরকার যাতে পাঁচ বছর পূর্ণ করে, তা নিশ্চিত করেই ছাড়ব আমরা।’’

এনসিপি এবং কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার গড়তে চাইলেও, মুখ্যমন্ত্রীর পদ ঘিরে নিজেদের দাবিতেই অনড় শিবসেনা। শুরুতেই তাতে রাজি না থাকলেও, বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন বলে এদিন জানান পওয়ার। তিনি বলেন, ‘‘কেউ মুখ্যমন্ত্রীর পদ দাবি করলে, তা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে হবে।’’ তবে পওয়ার এ নিয়ে রাখঢাক করলেও সিদ্ধান্ত প্রায় হয়েই গিয়েছে বলে দাবি আর এক এনসিপি  নেতা নবাব মালিকের। এ দিন ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,  ‘‘মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়েই বিজেপি-শিবসেনার সম্পর্কে ফাটল ধরে। ওই পদ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যাচ্ছি না আমরা। শিবসেনা থেকেই কেউ মুখ্যমন্ত্রী হবেন।’’

আরও পড়ুন: ‘পাকিস্তানের ডিএনএ-র মধ্যেই রয়েছে সন্ত্রাসবাদ’, ইউনেস্কোয় তীব্র কটাক্ষ ভারতের​

উদ্ধব ঠাকরে না তাঁর ছেলে আদিত্য ঠাকরে, মুখ্যমন্ত্রী পদে কাকে বসানো হবে, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত শিবসেনার তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে উদ্ধব পিছিয়ে এলে একনাথ শিন্ডেকে ওই পদে বসানো হতে পারে বলে জল্পনা সেনার অন্দরে। তবে জল্পনা যাই হোক না কেন, মুখ্যমন্ত্রী পদটি যে তাঁদের দখলেই থাকবে, এ দিন তা স্পষ্ট করে দেন শিবসেনার মুখপাত্র সঞ্জয় রাউতও। তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, শুধুমাত্র পাঁচ বছর নয়, আগামী ২৫ বছর রাজ্যে শিবসেনাই নেতৃত্ব দেবে।

তবে এত শীঘ্র চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব নয় বলে মত  কংগ্রেসের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক নেতা জানান, মুখ্যমন্ত্রীর পদটির উপর আগেই দাবি জানিয়েছে শিবসেনা। তবে পাঁচ বছরের জন্য তাদের ওই পদ ছেড়ে দেওয়া হবে, নাকি আড়াই বছরের জন্য, তা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন। উপ মুখ্যমন্ত্রী পদটি নিয়েও সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্তে আসা প্রয়োজন।  

আরও পড়ুন: মিলন রাতে ‘সতীত্ব’ প্রমাণে কৃত্রিম রক্তের পিল অনলাইনে! নিন্দার ঝড় সমাজ জুড়ে​

নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার ১৮ দিনেও সরকার গঠন না হওয়ায়, রাজ্যপাল ভগৎ সিংহ কোশিয়ারির সুপারিশ মেনে গত মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়। তার পর থেকে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে শিবসেনা-এনসিপি ও কংগ্রেস-এর মধ্যে।  আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বৃহস্পতিবারই অভিন্ন নূন্যতম কর্মসূচির প্রাথমিক খসড়া তৈরি হয়।  সেখানে মুখ্যমন্ত্রিত্ব ও মন্ত্রক বণ্টন ছাড়া বাকি বিষয়গুলি নিয়ে অনেকাংশে দলগুলি একমত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে জানা গিয়েছে, রাজ্যের মন্ত্রিসভায় শিবসেনার ১৬ জন, এনসিপির ১৪ জন এবং কংগ্রেসের ১২ জন প্রতিনিধি থাকবে বলে ঠিক হয়েছে আপাতত। বিধানসভার স্পিকারের পদটি পেতে পারে কংগ্রেস। সে ক্ষেত্রে শিবসেনা থেকে কাউকে ডেপুটি স্পিকার করা হতে পারে। বিধান পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি যেতে পারে এনসিপির ঝুলিতে। সেখানে ডেপুটির চেয়ারে বসতে পারেন শিবসেনার কেউ। 

অন্য দিকে, শনিবার দুপুর ৩টেয় রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন তিন দলের প্রতিনিধিরা। সেখানে কৃষকদের সমস্যা নিয়ে কথা বলবেন তাঁরা। এই প্রথম একজোট হয়ে কোনও পদক্ষেপ করছে ওই তিন দল।