হিন্দুত্ববাদীদের নিশানায় কবি শ্রীজাত। শনিবার সন্ধ্যায় অসমের শিলচরে কবিকে ঘিরে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের জনা ১৫-২০ সমর্থক বিক্ষোভ দেখান বলে অভিযোগ। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে তাঁরা বিক্ষোভ দেখান। পরে পুলিশ এসে কবিকে উদ্ধার করে।

‘এসো বলি’ নামে শিলচরের এক সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্বোধন অনুষ্ঠান উপলক্ষে শনিবার শিলচরের পার্ক রোডের একটি হোটেলে গিয়েছিলেন শ্রীজাত। ওই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন স্থানীয় কবি-শিল্পী সাহিত্যিকরাও।

ওই অনুষ্ঠান চলাকালীন হাজির হন বিজেপি নেতা বাসুদেব শর্মা ও তাঁর সহযোগীরা। আয়োজকদের অনুমতি নিয়েই বিজেপি নেতা বাসুদেব শর্মা বলেন, ‘‘আমাদের কিছু বক্তব্য আছে।’’ তার পরে শ্রীজাতের কবিতার একটি লাইন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বাসুদেবের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন অনুষ্ঠানের আয়োজকেরা। এর পরেই বিক্ষোভ শুরু করে গেরুয়া বাহিনী। তবে পুলিশ, সিআরপিএফের পাহারায় অনুষ্ঠান চলতে থাকে। এক সময়ে ইট ছুড়তে থাকে গেরুয়া বাহিনী। অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয়। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় কবিকে। উদ্যোক্তাদের দাবি, বিক্ষোভ শুরু হতেই খবর দেওয়া হয় পুলিশে। আরও অভিযোগ, পুলিশের সামনেই বেশ কিছুক্ষণ ধরে বিক্ষোভ চলে।

এই ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক, অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেছেন শ্রীজাত। পাশাপাশি, স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সন্তোষ প্রকা্শ করেছেন তিনি। ঘটনার পর শ্রীজাতকে ফোন করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরো বিষয়টির খোঁজ নেন। ওই হামলার কড়া সমালোচনা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, বিজেপি বাংলা তথা ভারতীয় সং‌স্কৃতির প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ।

আরও পড়ুন: রাবড়ীকে ‘অঙ্গুঠা ছাপ’ বলে কটাক্ষ, রামবিলাসকে ক্ষমা চাইতে বললেন মেয়ে

শ্রীজাতর উপর এ ভাবে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা করেছেন বাংলার কবি-শিল্পীরা। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন কবি জয় গোস্বামী, তিলোত্তমা মজুমদার, নাট্যব্যক্তিত্ব কৌশিক সেন প্রমুখ। কৌশিক সেন এই ঘটনাকে কাপুরুষোচিত বলে নিন্দা করেন। তিলোত্তমার কথায়, এই ধরনের ঘটনা দেশের ঐতিহ্যকে নষ্ট করে। কবি জয় গোস্বামী বলেন, ‘এমন ঘটনার ফলে মনে খুব ভয় হচ্ছে’। 

আরও পড়ুন: সই করলেন রাষ্ট্রপতি, আইন হিসেবে চালু উচ্চবর্ণের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণ

এ দিন রাতেই পুলিশি নিরাপত্তায় শিলচর সার্কিট হাউসে নিয়ে যাওয়া হয় শ্রীজাতকে। আয়োজকদের তরফে সব্যসাচী রুদ্র গুপ্ত বলেন, ‘‘শিলচরের মানুষ যে ভাবে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে শ্রীজাতেরই জয় হয়েছে।’’