শনিবারই বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ-এর প্রসঙ্গ টেনে এনে ভারতকে কটাক্ষে বিদ্ধ করেছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সংখ্যালঘুদের কী ভাবে নিরাপত্তা দিতে হয়, তা ভারতকে দেখিয়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জও ছুড়েছিলেন তিনি। যাঁর মন্তব্যের ভিত্তিতে এই ‘শিক্ষা’ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন সেই নাসিরুদ্দিন অবশ্য সাফ জবাব দিলেন ইমরান খানকে। ইমরানের বাউন্সার ভাল ভাবেই সামলালেন ভারতের নাসির।

লাহৌরে শনিবার এক অনুষ্ঠানে ইমরান বলেন, ‘‘আমি মোদী সরকারকে দেখিয়ে দেব, কী ভাবে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে হয়।’’ নাসিরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন, ‘‘ভারতে তো অনেকেই বলছেন, সেখানে নাগরিক হিসেবে এখন সংখ্যালঘুদের সমান দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে না।’’ স্বাভাবিক ভাবেই ইমরানের এই মন্তব্য নাসির-বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে। ইমরানের দেওয়া এই বাউন্সার সব অর্থেই ছিল বিষাক্ত। কারণ এর ফলে নাসিরের মতো কণ্ঠস্বরকে আরও বেশি করে পাকিস্তানপন্থী বলে প্রচার করার অস্ত্র পেয়ে যাবে গেরুয়া শিবির। অন্য দিকে ইমরান সুচতুর ভাবে এই আবহে নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে দেখানোর চেষ্টা করবেন।

যদিও সেই সুযোগটা ইমরান পেলেন না নাসিরুদ্দিনের জন্যই। ইমরানের মন্তব্য সামনে আসার পরই মুখ খুললেন নাসিরুদ্দিন। আর শুরুতেই মাঠের বাইরে ফেললেন ইমরানের বাউন্সার। রবিবার তাঁর মন্তব্য, ‘‘ আমার মনে হয় ইমরানের নিজের দেশ নিয়ে ভাবা উচিত। অযথা ভারতের বিষয়ে নাক গলিয়ে মন্তব্য করার কোনও দরকার নেই। আমাদের গণতন্ত্রের বয়স ৭০ বছর। আমরা নিজেদের দেখভালের বিষয়ে স্বনির্ভর।’’

এক কথায় ইমরানকে নিজের চরকায় তেল দিতে বললেন নাসির। অন্য দিকে ইমরানের মন্তব্য নিয়ে নতুন করে যে জলঘোলা করার চেষ্টা করছিল গেরুয়া শিবির, তাও এখনকার মতো বন্ধ করে দিলেন। মাঝ খান থেকে আগ বাড়িয়ে পরামর্শ দিতে এসে মুখ পুড়ল ইমরানেরই।