স্বাধীনতা দিবসে রাজ্যের মন্ত্রীর হাত থেকে সেরা কনস্টেবলের পুরস্কার নিয়েছিলেন। সাফল্যের সেই চওড়া হাসি মিলিয়ে যাওয়ার আগেই, ঘুষ নিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লেন এক পুলিশকর্মী।

তেলঙ্গানার মেহবুবনগর জেলার আই-টাউন থানায় কনস্টেবল হিসাবে কাজ করেন পাল্লে তিরুপতি রেড্ডি। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তিরুপতির হাতে সেরা কনস্টেবলের পুরস্কার তুলে দেন রাজ্যের মন্ত্রী শ্রীনিবাস গৌড়। ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার রিমা রাজেশ্বরী। ‘কর্তব্যনিষ্ঠা’ ও ‘কঠোর পরিশ্রম’-এর জন্য তাঁকে সম্মান জানানো হয়। পর দিন অর্থাৎ শুক্রবার ফের শিরোনামে উঠে এলেন তিরুপতি। এ বার অবশ্য কারণটা ঠিক উল্টো। ১৭ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখা (এসিবি)।

টাকা-সহ ধৃত পাল্লে তিরুপতি রেড্ডি। ছবি: টুইটার।

সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, আই-টাউন থানা এলাকার বাসিন্দা এম রমেশ নামে এক ব্যবসায়ী দীর্ঘ দিন ধরেই ওই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ করছিলেন। রমেশের অভিযোগ, তাঁর কাছে ঘুষ চাইছিলেন তিরুপতি। টাকা না দিলে ট্রাক বাজেয়াপ্ত করা, এমনকি মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিচ্ছিলেন। তাতে চরম বিরক্ত হয়েই দুর্নীতি দমন শাখায় অভিযোগ করেন রমেশ। এর পরই ফাঁদ পাতে এসিবি। সেই ফাঁদেই শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েন তিরুপতি। কাকতালীয় ভাবে, পুরস্কার পাওয়ার পরের দিনই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তিরুপতির ইউনিফর্মের পিছনের পকেটে মিলেছে ১৭ হাজার টাকা। বিশেষ আদালত তাঁকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

আরও পড়ুন: মধ্যরাতের কলকাতায় বেপরোয়া জাগুয়ার, মার্সিডিজকে ধাক্কা মেরে পিষে মারল ২ জনকে

এমন কাণ্ড অবশ্য নতুন কিছু নয়। বছর দুয়েক আগে সেরা তহশিলদার হিসাবে পুরস্কৃত হন রঙ্গারেড্ডি জেলার রেভেনিউ অফিসার ভি লাবণ্য। কিন্তু, গত জুলাই মাসেই এক কৃষকের থেকে ৪ লক্ষ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করে এসিবি। তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় সাড়ে ৯৩ লক্ষ টাকা ও ৪০০ গ্রাম সোনা। সেই তালিকায় এ বার নাম উঠল ‘সেরা কনস্টেবল’-এর।

আরও পড়ুন: ‘দু’পক্ষ বসেই কাশ্মীর সমস্যা মেটান’, ইমরানকে ফোনে বললেন ট্রাম্প​